নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ঝিনাইদহে জাল সনদ ও ভুয়া নিয়োগের মাধ্যমে চাকরি করার এক নজিরবিহীন চিত্র উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে। সারাদেশের ৯৭৩টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পরিচালিত এই তদন্তে জেলায় ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ২২টি প্রতিষ্ঠানে ভুয়া নিয়োগ, অন্যের জমি দখল করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গঠন এবং জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আগেই জেলার ১০টি প্রতিষ্ঠানে জাল সনদধারী শিক্ষকদের ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৩ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ডিআইএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও পরিচালনা পর্ষদের যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরতসহ জরিমানার মুখে পড়বে। পাশাপাশি প্রায় ১৭৬ একরের বেশি খল হওয়া জমি পুনরুদ্ধারের তাগিদও দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জেলাজুড়ে চিহ্নিত ১০ জন শিক্ষক জাল সনদে চাকরি করলেও এখনও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি তাদের চাকরিচ্যুতি, অর্থ ফেরত, অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট বাতিল এবং ফৌজদারি মামলার সুপারিশ করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। জানা গেছে, অভিযুক্তরা উচ্চ আদালতে মামলা করায় অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া ঝুলে আছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, ডিআইএর তদন্ত প্রতিবেদন এখনও তার দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছেনি। তবে গণমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন। প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।