এইমাত্র পাওয়া

মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জ খমের দায়ে দুই শিক্ষক বরখাস্ত

লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগে দুই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার রাতে এবং বৃহস্পতিবার সকালে পরপর দুই দফা বেত্রাঘাতে গুরুতর আহত হয় নয় বছরের ছাত্র মাহমুদুর রহমান। বর্তমানে সে রায়পুর সরকারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।

আহত শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকার সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমানের ছেলে। তার মা শাহিনুর বেগম একজন গৃহিণী।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কুরআনের পাঠ ভুল করার কারণে শিক্ষক শরীফ হোসেন শিক্ষার্থী মাহমুদকে ছয়বার বেত্রাঘাত করেন। এর পরদিন বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) একই কারণে হেফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান তাকে আরও বারোবার বেত্রাঘাত করেন। অতিরিক্ত মারধরের কারণে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তার মাকে খবর দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মাহমুদের মামা ফিরোজ আলম জানান, মাদ্রাসার এই দুই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদের প্রতি কঠোর আচরণ করে আসছিলেন। এর আগেও এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানরা ভুল করলে শাসন করা স্বাভাবিক, কিন্তু এভাবে নির্মমভাবে পেটানো অমানবিক।”

আহত মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেছে, মারধরের পর শিক্ষকরা তাকে হুমকি দিয়েছেন— মাকে জানালে জবাই করে ফেলা হবে কিংবা মাদ্রাসার ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হবে।

শিশুর মা শাহিনুর বেগম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি যখন ছেলের জামা খুলে দেখি, তার পুরো শরীর আঘাতে ভরা। তারা যদি কিছু বলতে চাইত, আমাকে জানাতে পারত। কিন্তু এভাবে মেরে ফেলার মতো অত্যাচার মেনে নেওয়া যায় না। আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষক শরীফ হোসেন ও আতাউর রহমান পালিয়ে যান। তারা সিলেটের জামালগঞ্জ এবং লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

মাদ্রাসার মুহতামিম ফারুখ হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পরপরই শিক্ষার্থী মাহমুদের ওপর অন্যায় শাস্তির দায়ে দুই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর খোঁজ নিয়েছি।”

রায়পুর সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পিযুস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং সে গুরুতর জখম হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৯/০৯/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.