তিন দফা দাবি নিয়ে যমুনায় জবি উপাচার্য, শিক্ষার্থীদের অবস্থান চলছেই

ঢাকাঃ শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় প্রবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম। তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলও রয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, যমুনায় তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের আসার কথা রয়েছে। তিনি এসে পৌঁছালে উপাচার্যের সঙ্গে তার বৈঠক হবে।

এর আগে জবি শিক্ষার্থীদের লংমার্চ টু যমুনা কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাসে আহত হয়ে অন্তত ৩৮ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আবাসন সংকট নিরসনসহ ৩ দফা দাবিতে বুধবার এই কর্মসূচি পালিত হয়।

শিক্ষার্থীদের লংমার্চটি কাকরাইল মোড় এলাকায় এলে এতে বাধা দেয় পুলিশ। বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে করা হয় লাঠিচার্জ। ছোড়া হয় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড।

আহতরা হলেন-রেদোওয়ান (২৪), আসিফ (২০), রহমান (২২), আকিব (২১), আরিফ (২২), রফিক (২৫), শফিক (২৫), ওমর ফারুক(২৪), দৈনিক সংবাদের মেহেদী হাসান (২৪), অর্থিব (২১), আপেল (২১), মুজাহিদ (২৩), রায়হান (২৩), ফারুক(২৩), আবু বক্কর (২২), নিউটন (২০), হানিফ (২২), জীবন (২২), শহীদ(২০), রাসেল (২২), জিসান(২২), জবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা পোস্ট এর মাহাতাব লিমন (২৩), শহীদ (২৪), রাসেল (২৩), গৌরব (২৫), আব্দুল মান্নান (২২), নাহিদ-(২৩), জুয়েল (২৩), মোহন(২২), সোহানুর রহমান সানি(২৪), মাছুমা (২০), সংগ্রাম (২০), বাইতুল (২২), রাজু (২২), সুমন (২২), রাজীব(২২), আকাশ(২২) এবং বাংলা ট্রিবিউনের জবি প্রেসক্লাব সভাপতি আসাইফ আশরাফ (২৬)।

আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

জবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব লিমন বলেন, ‘আমরা যৌক্তিক আন্দোলন নিয়ে যমুনার অভিমুখে লংমার্চে যাওয়ার সময় পুলিশ আমাদের ওপরে হামলা করে। এসময় লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হন। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর এবং বেশ কয়েকজনের হাত ভেঙে গেছে। পুলিশ যেভাবে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে, জুলাই আন্দোলনেও এভাবে পেটায় নি। নারী শিক্ষার্থীদের ওপরেও তারা হামলা চালায়। আমরা অনতিবিলম্বে এই ঘটনার বিচার দাবি করি।’

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা যে তিন দফা জানিয়েছেন সেগুলো হলো– আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করেই অনুমোদন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৪/০৫/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.