এইমাত্র পাওয়া

সেই প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ১০ শিক্ষক-কর্মচারীর অনাস্থা জ্ঞাপন

সুভাষ বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষ কেটে পুনরায় জোড়া দিতে পারা, শিক্ষার্থীদের গোপন তথ্য ফাঁস করার হুমকি, দুর্নীতি নিয়োগ বাণিজ্য, নৈশ প্রহরী নুরুলের সাথে অমানবিক আচরণ ও শিক্ষক কর্মচারীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় নটাবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সির আস্থাভাজন জাহাঙ্গীর কবির সরকারের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের দশ জন শিক্ষক কর্মচারী লিখিতভাব অনাস্থা জ্ঞাপন করে রংপুর জেলা শিক্ষা অফিসার বরারর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

গতকাল মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার) বিকেলে তারা এই লিখিত অভিযোগ দেন। 

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে ‘পীরগাছায় প্রধান শিক্ষকের চরম জালিয়াতি: ২৩ বছর ধরে থাকা নৈশ প্রহরী বদলে নতুন নিয়োগ‘ শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। 

সহকারি শিক্ষক মো: আনারুল হক মন্ডল, মো:মশিউর রহমান, মোছা:মনোয়ারা খাতুন, শুভ চন্দ্র বর্মন, প্রদীপ কুমার রায়, সাইফুল রহমান, রিনা পারভীন, জগদীশচন্দ্র মোদক, অফিস সহকারি মো: মাহাবুবার রহমান, দপ্তরী মো: মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন আরো দুটি তদন্ত চলছে এর মধ্যেই গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটিতে আরো বলা হয় প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির তার আপন ফুপা শ্বশুর এবং সকল অপ কর্মের অংশীদার মো: গনি মিয়া এবং প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কিত নিয়োগ প্রাপ্ত চারজন চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ব্যতীত সকল শিক্ষক কর্মচারী অনাস্থা জ্ঞাপন করছে।

এ বিষয়ে নটাবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির সরকার শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, মানুষ কখনও মানুষ কেটে জোড়া লাগাতে পারে এসব কথা বানানো। ১০ জন শিক্ষকের অনাস্থা স্বাক্ষর এর বিষয়ে বলেন জোর করে স্বাক্ষর নিয়েছে তারা। 

তবে লিখিত অভিযোগ দেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, তারা কারও কথায় বাধ্য হয়ে কিংবা প্রলোভনে প্রলোভিত হয়ে স্বাক্ষর করেননি তারা প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও জুলুম নির্যাতন থেকে বাঁচতে এই অনাস্থা জানিয়েছে। তারা প্রধান শিক্ষকের বিচার এবং অপসারণ চান। 

রংপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: এনায়েত হোসেন শিক্ষাবার্তা কে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষকের অনেক কয়েক টি অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে, সত্যতা প্রমানিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষাবার্তা’য় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিনা বেতনে (নন-এমপিও) পদে স্কুলটিতে দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর কর্মরত ছিলেন নৈশ প্রহরী মোঃ নুরুল ইসলাম। ২০২২ সালে বিদ্যালয়টি থেকে তাকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। তাকে বের করে দেন পতিত আওয়ামী সরকারের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সীর একান্ত আস্তাভাজন স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির সরকার ও তার লোকজন। কারণ হিসেবে তাকে বলা হয় তৎকালীন সময়ে তার নিয়োগ অবৈধ। তাকে বের করে দেওয়ার পর ২০২৩ সালে নৈশ প্রহরী পদে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয় সবুজ মিয়া নামের ব্যক্তিকে এবং এমপিওভুক্ত করানো হয়।

প্রধান শিক্ষক তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার জন্য নানাভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন বলে জানিয়ে বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক সাইফুর রহমান। শিক্ষকদের ভয় ভীতি দেখানোসহ এই এলাকার একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার নিজ অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসাকে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে এবং সহকারী শিক্ষকদের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন প্রধান শিক্ষক।

এদিকে বঞ্চিত নৈশ প্রহরী নুরুল ইসলাম ৬ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অবৈধভাবে সবুজ মিয়াকে নিয়োগ প্রদান করে করা এমপিওভুক্তি বাতিল এবং তাকে এমপিওভুক্তির জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিত গত ২১ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নাজিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে রংপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই আদেশেই সম্প্রতি তদন্ত করে জেলা শিক্ষা অফিস। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৭/১১/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading