এইমাত্র পাওয়া

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রোহের গান ও কাওয়ালী সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

এস এম মোজতাহীদ প্লাবন, নজরুল প্রতিবেদকঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবং ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেছে দ্রোহের গান ও কাওয়ালী সন্ধ্যা।

গতকাল রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাহি সাম্যের গান মুক্তমঞ্চে এ কাওয়ালী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ আয়োজনে নজরুলের বিদ্রোহী চেতনার গান ও কবিতা পরিবেশন করেন শিক্ষার্থীরা, আর কাওয়ালী সঙ্গীত পরিবেশন করে রাজশাহী থেকে আগত ব্যান্ড ‘রূহানী রঙ’।

কাওয়ালী সন্ধ্যার এই আসরে কুন ফায়া কুন, কারার ঐ লৌহ কপাট, তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে, দামাদাম মাসকালান্দার, আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহু সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় গান এবং কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্রোহী ও আল মাহমুদের সোনালী কাবিনের কবিতা আবৃত্তি করা হয়। প্রশাসনের অনুপস্থিতিতে যেকোন বিশৃঙ্খলা এড়াতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে আয়োজক শিক্ষার্থীরা।

কাওয়ালী সন্ধ্যায় উপভোগ করা শিক্ষার্থী হাসান রহমান বলেন, অনেকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাস নিষ্প্রাণ হয়ে গিয়েছিলো। কাওয়ালী সন্ধ্যার মাধ্যমে এ নিষ্প্রাণ ক্যাম্পাসে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। উপরন্তু ক্যাম্পাস জীবনের কয়েক বছরে এমন আয়োজন দেখিনি। সবাই যেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেছে।

আরেক নারী শিক্ষার্থী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই সকল শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা ভালো ছিলোনা। এতে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী আহত এবং নিহত হয়। ক্যাম্পাসেও একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত থাকায় যেন এই মানসিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন সবার মাঝে উদ্দীপনা ফিরিয়ে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানের আয়োজকের মধ্যে গালিব হাসান জানান, এই কাওয়ালী মুসলিম কবিদের হাজার বছরের ইতিহাস বহন করে। বাঙালি মুসলিম কবিরা অজস্র কবিতা ও গান রচনা করেছেন। এই সকল কিছুই আমাদের সমাজের প্রাণ, এই প্রাণকে জাগিয়ে তোলার জন্যেই এই কাওয়ালী সন্ধ্যা। আমাদের মুসলিম কবিদের সৃষ্টিকে আমরা কাওয়ালির মাধ্যামে জাগিয়ে তুলব এবং বারবার আমরা উজ্জীবিত হব।

উক্ত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মিজানুর রহমান, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান জনি এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম, প্রক্টরিয়াল বডির অন্যান্য সদস্যসহ অন্যান্য শিক্ষক মন্ডলি।

ড. ইমদাদুল হুদা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাজে সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে এ ধরনের সংস্কৃতি চর্চা আমাদের প্রয়োজন। যারা এ আয়োজন করেছে, তাদের প্রতি আমি ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে জুলাই বিপ্লবের শহীদের মতো আমরাও যেন দেশের প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, দেশের প্রয়োজনে পাশে থাকতে পারি।”

উল্লেখ্য, উক্ত আয়োজনে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কাওয়ালী শিল্পী সালমান আজাদীর স্মরণে শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৫/০৯/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.