website page counter নন-এমপিও শিক্ষকের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মানবিক আবেদন - শিক্ষাবার্তা ডট কম

মঙ্গলবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নন-এমপিও শিক্ষকের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মানবিক আবেদন

মো.সাজ্জাদ হেসেন:

“মুজবি মানে আর কিছু না মুজিব মানে মুক্ত; পিতার সাথে সন্তানরে -লখো প্রেমে চুক্তি ” । কবির কবিতায়,লেখকের লেখনিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিয়ে কে হাজার ও উপমা উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৭ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন।

শত বছর আগে শেখ লুৎফর রহমান ও শেখ সায়েরা বেগমের সংসার আলো করতে জন্মগ্রহণ করেছিল ছোট্র শিশু। সবাই আদর করে ডাকত খোকা বলে। সেই ছোট্র খোকা ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন বাঙালি জাতির কান্ডারী,বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা। বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সু-দক্ষ নেতৃত্বে লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে ২৩ বছরের শোষণ বঞ্চনা,জুলুম,অত্যাচার,নির্যাতন ও পরাধীনতার গ্লানি থেকে বাঙালি জাতি মুক্তি পেয়েছিল । বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে সাহস ও শক্তি যুগিয়েছিল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

পাকিস্থানি শাসক গোষ্ঠীর অন্যায়-অবিচার,শোষণ,বৈষম্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৫৫ বছরের জীবদ্দশায় এক-চতুর্থাংশ বছর জেলে কাটাতে হয়েছিল। স্বামীর অবর্তমানে পুত্র-কন্যা ও সংসারের সমস্ত দায় দায়িত্ব শক্ত হাতে পালন করেছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

সংসারের পাশাপাশি দল পরিচালায় রেখেছিলেন অসামান্য অবদান। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে দলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত রাখার জন্য দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন । নেতা কর্মীদের মনোবলকে দৃঢ় রাখার জন্য তাদের পরিবার পরিজনের খোঁজ খবর রাখতেন। তাদের দিকে বাড়িয়ে দিতেন সহযোগীতার হাত। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার দৃঢ়চিত্ত মনোভাব ও দিপ্ত পদক্ষেপের মাধ্যমেই আমরা পেয়েছিলাম আমাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা।

সকলের প্রিয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের বাঙালি জাতির পিতা। জাতির পিতার সুযোগ্য সহধর্মিণী তার ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে পেয়েছিলেন বাঙালির আবেগ অনুভূতির সর্ব্বোচ্চ আসন বঙ্গমাতা উপাধি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বঙ্গপিতা ও বঙ্গমাতার সুযোগ্য সন্তান। পিতার মত আপনিও লড়াই করে যাচ্ছেন সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আপনার নেতৃত্বের দক্ষতায় বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

দেশের মাথাপিছু আয় ১৯০৯ মার্কিন ডলার। আপনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশে উন্নয়নের রোল মডেল স্থাপিত হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে বৃহৎ প্রকল্পগুলো আজ সমাপ্তির পথে। ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে আপনি সারা বিশে^র কাছে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আপনি মানবতার মা উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। বিশ্বের সামনে বাঙালিরা মাথা উচু করে বলতে পারে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ মানবিকতার বাংলাদেশ। আমাদের বঙ্গকন্যা,আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সরকার শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব সরকার। আপনি অপনার পিতার মত মেধা,বুদ্ধি ও বিচক্ষণতায় প্রিয় বাংলাদেশকে বিশে^ও দরবারে নতুন ভাবে তুলে ধরেছেন। আপনি বিশ্বের প্রভাবশালী নারীনেত্রী। আপনার নেতৃত্ব আজ বিশ্ব নন্দিত। বাঙালি জাতির সকল অর্জন আপনার পিতা ও আপনার হাত ধরে অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষা দীক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ সকল সেক্টরে যে উন্নয়ন অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা আজ বিশে^র অনেক দেশের কাছে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশে^র অনেক দেশ আজ বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে।

সকল সেক্টরে উন্নয়ন অগ্রগতির অভূতপূর্ব ছোঁয়া লেগেছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও তার ব্যতিক্রম নয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে শিশুরা বছরের শুরুতে নতুন বই পাচ্ছে। এ বছর নতুন বইয়ের পাশাপাশি নতুন পোশাক কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। গরীব অসহায় ছাত্র-ছাত্রীরা উপবৃত্তির আওতায় এসেছে। স্কুল কলেজে পাকা ভবন হয়েছে।

একযোগে দেশের ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ হয়েছে। বে-সরকারি শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেল এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে স্কুল ও কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫২৪২ টি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে ইতিমধ্যে ২৭৩০ টি নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। মুজিববর্ষেই হয়তবা তারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ভাতা পাবে।

তাদের অবর্ণনীয় কষ্টের কিছুটা হয়ত লাঘব হবে। পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। কিন্তু নীতিমালার কঠিন শর্ত যারা পূরণ করতে ব্যর্থ হলো তাদের কষ্ট লাঘব করবে কে? তাদের পরিবার পরিজনের মুখে কে দু-বেলা দু-মুঠো আহার তুলে দেবে। যাদের ঘরে বৃদ্ধ পিতা মাতা আছে তাদের দেখভাল কে করবে। ননএমপিও শিক্ষক কর্মচারীরা উচ্চশিক্ষিত হয়ে আজ ও তারা পরিবারের বোঝা।

পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা টুকু আজ তারা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। অসুস্থ বাবা-মায়ের সু-চিকিৎসা,সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলা,স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করা সবকিছুই আজ স্বপ্নের মত। যারা অন্যের সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করার জন্য, অন্যের ঘরে আলো জ¦ালানোর কাজে সদা ব্যস্ত থাকে তাদের ঘরে আজ আলো নেই।

অমানিশার ঘোর অন্ধকারে তারা আজ নিমজ্জিত। জাতি গঠনের কাজে সদা ব্যস্ত থাকার পরও তারা আজ মূল্যহীন। বছরের পর বছর শিক্ষার আলো বিলিয়ে দেওয়ার পরেও তাদের ভাগ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সামান্য ভাতাটুকু জোটেনা। দু-বেলা দু মুঠো আহারের চিন্তা,স্ত্রী-সন্তানদের বায়না, পরিবারের হাহাকারের চিত্র মানসপটে নিয়ে কিভাবে পাঠদান করবে নন-এমপিও শিক্ষকরা।

এত দুঃখ,কষ্ট,যন্ত্রণা নিয়ে নন-এমপিও শিক্ষক সমাজ কিভাবে জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী পালন করবে। মুজিববর্ষ উদযাপন সমস্ত বাঙালির জন্য একটা গর্বের বিষয়। নন-এমপিও শিক্ষক সমাজ পরিবার পরিজন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষামান রয়েছে।

বঙ্গকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করবে। নন-এমপিও শিক্ষক সমাজের কান্ডারী হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষেই অবশিষ্ট নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্তির ঘোষণা দিয়ে সবাইকে সাথে নিয়ে জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করবে।

মুজিববর্ষই হোক নন-এমপিও শিক্ষকদের মুক্তির বছর। জননেত্রী শেখ হাসিনাই হবে নন-এমপিও শিক্ষক সমাজের কান্ডারী।

লেখক- প্রভাষক,হিসাব বিজ্ঞান, লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজ, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

এই বিভাগের আরও খবরঃ