website page counter প্রাথমিকে নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ - শিক্ষাবার্তা ডট কম

মঙ্গলবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিকে নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে লিখিত পরিক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৭ হাজার চাকরি প্রার্থী।
রোববার সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব প্রার্থীরা রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধনের পাশাপাশি বিক্ষোভ করেছেন। অতীতের মতো প্যানেল গঠন করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রাথমিকে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা জানান, মামলা জটিলতার কারণে ২০১৪ সালের পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রাথমিকে কোনো শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। আর এই দীর্ঘ সময়ে নিয়োগ বন্ধ থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চরমভাবে শিক্ষকের সংকট তৈরি হয়। শিক্ষকের এই সংকট বর্তমানে আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে দেশের ভবিষ্যত কর্ণধার শিশুদের পাঠদান কার্যক্রমই মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ২০১৮ সালে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও সরকার আমাদের নিয়োগ দিচ্ছে না। আমরা চাই প্যানেল গঠন করে অতীতের মতো আমরা যারা ৩৭ হাজার ১শ ৪৮ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হোক।

‘প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল চাই’ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, ‘২০১৮ সালের প্রাইমারি নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় আমরা যারা উত্তীর্ণ হয়েছি এবং ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি তাদের মধ্যে থেকে নিয়োগ দেয়া হোক।’

‘প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল চাই’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো: আব্দুল বাতেন রাজিব জানান, ‘প্যানেল গঠন করে শিক্ষক নিয়াগের নজির নতুন নয়। এর আগেও ২০১০, ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালেও প্যানেল গঠন করে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এবছর এমনিতেই যেহেতু চার বছর পর এই নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে তাই বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করে দেখা দরকার। কারণ এবছর নিয়োগ না পেয়ে অনেক প্রার্থীরই বয়স আর থাকবে না। এছাড়া যেহেতু শিক্ষকেরও প্রচণ্ডভাবে সংকট রয়েছে তাই আমরা চাই আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে অতি দ্রুত প্যানেল গঠন করে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হোক।’

তিনি আরো জানান, ‘প্রাথমিকে সহকারি শিক্ষক পদের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন প্রায় ২৪ লাখ প্রার্থী। সেখান থেকে উত্তীর্ণ হন মাত্র ৫৫ হাজার ২৯৫ জন। কিন্তু এই ৫৫ হাজারের মধ্যেও সবাই আবার ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেননি। কারণ অনেকের অন্যত্র চাকরি হয়ে গেছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ভাইভাতে অংশ নেয়া সবাইকে নিয়োগর জন্যই আমরা একটি প্যানেল গঠনের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) গত বছরের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর সারাদেশ থেকে ২৪ লাখ ৫ জন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রথম ধাপে ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মে, তৃতীয় ধাপে ২১ জুন এবং চতুর্থ ধাপে ২৮ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, ৫৫ হাজার ২৯৫ জন প্রার্থী পাস করেছেন।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এসব প্রার্থীদের গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। মাসব্যাপী সারাদেশের সব জেলায় মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষ হলে নিয়োগের জন্য ১৮ হাজার ১৪৭ জন শিক্ষককে চূড়ান্ত করা হয়।
কিন্তু নতুন শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটার বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ইতিমধ্যে ২৪ জেলায় শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত করেছেন আদালত।
এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, স্থগিতাদেশ জারি হওয়া জেলাগুলো ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮’ পরীক্ষায় নির্বাচিতদের নিয়োগ আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। তবে যেসব জেলায় নিয়োগের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, সেসব জেলায় এ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে।

সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের ২০ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ডাকযোগে নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে। কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র জারি না হলে তাদের তালিকা ২০ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের। ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন শিক্ষকদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে হবে। ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি তাদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হবে। আর ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পদায়নের আদেশ জারি করা হবে।

ডিপিইর সহকারী পরিচালক মো. আতিক এস বি সাত্তার বলেন, নিয়োগবিধি অনুসরণ করে এবং কোটার শর্ত পূরণ করেই সব সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগবিধির কোনো ধরনের লঙ্ঘন হয়নি। এ-সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কাছে সব তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। তিনি আশা করেন নওগাঁ জেলার বিষয়ে আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অন্য সব জেলায় নিয়োগে স্থগিতাদেশও আপিল বিভাগে বাতিল হবে। জটিলতা হবে না।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮’ পরীক্ষায় নির্বাচিতদের নিয়োগে কোনো ধরনের জটিলতা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন।

২৮ জানুয়ারি সচিবালয়ে নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নওগাঁ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে স্থগিতাদেশ বাতিল করেন। ফলে ওই জেলায় নিয়োগে আর কোনো বাধাই থাকছে না। দেশের আরো ২৪ জেলায় স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে আবেদন করতে আমাদের আইনজীবীকে বলা হয়েছে।

সচিব বলেন, নিয়োগবিধি অনুসরণ করে এবং কোটার শর্ত পূরণ করেই সব সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগবিধির কোনো ধরনের লঙ্ঘন হয়নি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কাছে সব তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। আমি আশা করি নওগাঁ জেলার বিষয়ে আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অন্য সব জেলায় নিয়োগে স্থগিতাদেশও আপিল বিভাগে বাতিল হবে।
আকরাম আল হোসেন বলেন, সব নিয়ম অনুসরণ করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। নারী কোটায় ৬০ শতাংশ, পোষ্য ২০ ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২০ শতাংশ অনুসরণ করা হয়েছে। তবে যেসব জেলায় পর্যান্ত নারী প্রার্থী পাওয়া যায়নি সেখানে অন্যান্য কোটার মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলে যারা যোগ্য হয়েছেন তাদের সবাইকে নিয়োগ দেয়া হবে। কাউকে বাদ দেয়া হবে না। তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবরঃ