website page counter একই ব্যাক্তি নিচ্ছেন পৃথক দুই প্র‌তিষ্ঠা‌নের বেতন! - শিক্ষাবার্তা ডট কম

রবিবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | বসন্তকাল | ⏰ রাত ৮:০০

একই ব্যাক্তি নিচ্ছেন পৃথক দুই প্র‌তিষ্ঠা‌নের বেতন!

মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফা লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কুমড়ীরহাট এস‌সি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যাল‌য়ের প্রধানশিক্ষকের সৃষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ওয়াহেদ আলীর বিরুদ্ধে পৃথক দুই প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতা ভোগ করার অভিযোগ উঠেছে।তবে, একটির টাকা উত্তোলন করলেও অপরটি ব্যাংকে জমা রয়েছে ব‌লে জানা গে‌ছে।

অ‌ভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ওয়াহেদ আলী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের দুলালী গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে।তিনি আদিতমারী উপজেলার কুমড়ীরহাট এসসি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং কালীগঞ্জ উপজেলার আমার বাড়ী আমার খামাড় প্রকল্পের মাঠ সহকারী পদে কর্মরত আছেন।কুমড়ীরহাট দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার কুমড়ীরহাট এসসি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজলের একে একে বেড়িয়ে আসছে প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নানান চিত্র।

২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রকল্প আমার বাড়ী আমার খামাড়ে মাঠ সহকারী হিসেবে কালীগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করে নিয়মিত বেতন ভাতা পাচ্ছেন ওই উপজেলার দুলালী গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে ওয়াহেদ আলী। সেখানেই নিয়মিত ভাবে অফিস করছেন তিনি।হঠাৎ গত বছর ১ সেপ্টেম্বর কুমড়ীরহাট এসসি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিও সিটে সহকারী শিক্ষক পদে বেতন চলে আসে ওয়াহেদ আলীর। সকল শিক্ষক যথারীতি অবাক হলেও প্রধান শিক্ষক বেশ উৎফুল্লই ছিলেন। তার ইনডেক্স নম্বর ১১৫৫১০০। যার সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখার হিসাব নং ১০১৫৪৩৭। তবে এ শিক্ষকের ব্যাপারে মুখ খুলতে শিক্ষক কর্মচারীদের কঠোর ভাবে নিষেধ করেন প্রধান শিক্ষক।প্রধানশিক্ষক কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বেতন সিটে তিনি উল্লেখ করেছেন সহকারী শিক্ষক ওয়াহেদ আলী সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে ২৪ দিন করে বিদ্যালয়ে পাঠদান করেছেন।

আবার একই ব্যাক্তি কালীগঞ্জ উপজেলার আমার বাড়ী আমার খামাড় প্রকল্পেও শতভাগ উপস্থিত থেকে বেতন ভাতা ভোগ করেছেন।তবে, বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক ওয়াহেদ আলীর দাবি তিনি ওই বিদ্যালয়ে কখনই পাঠদান করেননি। এমনকি তিনি যোগদানও করেননি। প্রধানশিক্ষক তার কাগজপত্র নিয়ে এমনটা করতে পারে বলে ধারনা করেন এ শিক্ষক।তিনি বলেন, আমি আমার বাড়ী আমার খামাড় প্রকল্পে ৬ বছর ধরে চাকুরী করছি। কোন বিদ্যালয়ে যোগদান করিনি। সাম্প্রতিক সময় রাজশাহী বিভাগের একটি কলেজে জীব বিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে মনোনীত হয়েছি। তবে এমপিও ভুক্ত হয়নি। কুমড়ীরহাট এসসি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে কিভাবে আমার নামে এমপিও এসেছে বা ব্যাংক হিসাব নম্বর তৈরী হয়েছে তার কোন তথ্যই আমার জানা নেই।

যারা এমপিওতে বেতন অনুমোদন দিয়েছেন তাদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।এদি‌কে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক দাবি করেছেন, সমাজ কল্যান মন্ত্রীর ভাই পরিচয় দিয়ে প্রধানশিক্ষক মনগড়া কমিটি তৈরী করে নিজের ইচ্ছামত বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। নিজেই কাগজপত্র তৈরী করে ওয়াহেদ আলীর নামে এমপিও’র জন্য আবেদন করেছেন। এখন বেতন চলে আসছে সময় মত তিনি উত্তোলন করে আত্নসাৎ করবেন। আর জানাজানি হলে ভুয়া কাগজ তৈরী করে অদৃশ্য শিক্ষক ওয়াহেদ আলীকে চাকুরী থেকে অব্যহতি দেখাবেন। সব কিছু প্রধানশিক্ষকের হাতের কারিশমা।

তিনি টাকা হলে সবই করতে পারেন বলেও দাবি করেন তারা।কুমড়ীরহাট এসসি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল বলেন, ওয়াহেদ আলী এ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে আছেন তাই বেতনও তার নামে পৌছেছে। তবে এ প্রতিবেদক ওই শিক্ষককে ডাকতে বললে তিনি বলেন, ওই শিক্ষক আজ বিদ্যালয়ে আসেন নি। হাজিরা খাতা দেখতে চাইলেও তা দেখাননি প্রধানশিক্ষক।কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল হাসান বলেন, ওয়াহেদ আলী মাঠকর্মী হিসেবে এ উপজেলার আমার বাড়ী আমার খামাড় প্রকল্পে কর্মরত রয়েছেন। সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের বিষয়টি জানা নেই।

লালমনিরহাট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, একজন ব্যাক্তি দুই প্রতিষ্ঠানে বেতন ভাতা গ্রহনের কোন খবর তার জানা নেই। তবে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবরঃ