website page counter বীর বাবার তারকা সন্তান - শিক্ষাবার্তা ডট কম

বুধবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ৯ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বীর বাবার তারকা সন্তান

১৯৭১ সালে জীবনের পরোয়া না করে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন নানা বয়স, পেশা, শ্রেণির মানুষ। তাদের অনেকে বীর দর্পে দেশের জন্য শহীদ হন। আবার অনেকে বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরেন। কিন্তু অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর অনেক সময় কেটে গেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এখন শোবিজে তারকা অভিনয়শিল্পী। ছোট পর্দার এমন কজন বীর বাবার তারকা সন্তান নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন— আফরান নিশো দর্শকপ্রিয় অভিনয়শিল্পী আফরান নিশো। তাঁর বাবা আব্দুল হামিদ। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ১১ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। বাবার মুখ থেকে যুদ্ধের অনেক গল্প শুনেছেন নিশো। তাঁর ভাষায়, ‘মুক্তিযুদ্ধের অনেক অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন বাবা। সেসব গল্প তাঁর মুখ থেকে শুনেছি।

একবার নদীতে পাক হানাদার বাহিনীর নৌবহরে হামলা চালান বাবা ও তাঁর সঙ্গীরা। এ অপারেশনে সফল হয়েছিলেন তাঁরা। আরেক অপারেশনে বাবাসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাকে অনেক সময় কচুরিপানাওয়ালা পুকুরে ডুবে থাকতে হয়েছিল।’ ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী করের বাবা অনন্ত কুমার কর একজন ব্রিগেডিয়ার ছিলেন। তরুণ বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অপরাধে তাঁদের টাঙ্গাইলের বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালে প্রয়াত হয়েছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

ঊর্মিলা বলেন, ‘‘বাবা নামকরা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি সামরিক কর্মকর্তাও ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই সবার কাছে থেকে অন্যরকম একটা সম্মান পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই ও নাটক লিখেছেন বাবা। জীবদ্দশায় বাবা দেশপ্রেমটা ধারণ করতেন এবং সেই চেতনা আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন; আমাদের ছোটবেলা থেকে এই চেষ্টা করেছেন তিনি। উচ্চ শিক্ষার জন্য আমাদের দেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা ও সুযোগ দুটোই ছিল। কিন্তু বাবা চাইতেন না আমরা দেশের বাইরে গিয়ে সেটল হই। তিনি বলতেন, ‘উচ্চ শিক্ষার জন্য যাও কিন্তু ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে আসো।

কারণ দেশে ছেড়ে অন্য কোথাও সেটল হও এটা আমি চাই না।’ বাবার এসব চিন্তাধারার মধ্যে দেশপ্রেম অনুভব করতাম।’’ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দেশাত্মবোধক গান ঊর্মিলার বাবা প্রচুর শুনতেন। অনেক ছোটবেলায় তাঁর বাবার কারণে এসব গান শুনার সুযোগ হয়েছে তাঁর। যা ওই বয়সে অনেকের হয় না। ‘একাত্তরের দিনগুলি’, ‘রক্তে লেখা মুক্তিযুদ্ধ’-এর মতো অনেক বিখ্যাত বই পড়েছেন ঊর্মিলা। যেগুলো তাঁর বাবার কারণে ওই বয়সে পড়ার সুযোগ হয়েছে। তাঁর বাবা চাইতেন এই বইগুলো তাঁরা পড়ুক, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানুক। ঊর্মিলা বলেন, ‘একজন মুক্তিযুদ্ধার সন্তান হিসেবে খুবই গর্ববোধ করি। বাবার মুখ থেকে অনেক মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা শুনেছি। এগুলো নিয়ে বই লেখার ইচ্ছে আছে। এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছি। অভিনয়ের পাশাপাশি যতটুকু সময় পাই লিখি।’

শবনম ফারিয়া অভিনেত্রী শবনব ফারিয়া। তাঁর বাবা মীর আবদুল্লাহ একজন চিকিৎসক ও মুক্তিযোদ্ধা। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময় না ফেরার দেশে চলে যান ফারিয়ার বাবা। একাত্তর সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ফারিয়ার বাবা। এই জনসভায় তিনিও উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা পান মীর আবদুল্লাহ। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কিছুদিন পর এক রাতে বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে ভারতে চলে যান। ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। বাবাকে নিয়ে ভীষণ গর্ববোধ করেন এই অভিনেত্রী।

মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া মডেল-অভিনেত্রী মুমতাহিনা চৌধুরী টয়ার বাবা এ বি এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তাঁর বাবা ক্লাস নাইনে পড়াকালীন দেশে যুদ্ধ শুরু হয়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে তিনি এপ্রিলের শেষ দিকে বাড়ি ছাড়েন। চলে যান ভারতের সোনাইমুড়ায়। সেখান থেকে মেলাঘরে। সেখানে টয়ার বাবাকে ট্রেনিং দেন মেজর মতিন ও সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ। ট্রেনিং শেষে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে বেশির ভাগ অপারেশনে অংশ নেন। সুযোগ পেলেই বাবার কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেন টয়া। বাবাকে নিয়ে গর্বিত এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘বাবার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আমার কাছে অনেক প্রেরণার।’

এই বিভাগের আরও খবরঃ