website page counter বাগেরহাট উপজেলা পরিষদের ব্যতিক্রমী কর্মসূচী - শিক্ষাবার্তা ডট কম

রবিবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ৬ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাট উপজেলা পরিষদের ব্যতিক্রমী কর্মসূচী

মোঃ মোজাহিদুর রহমান।।

ছেলে ও মেয়েদের বৈষম্য দূর করতে বর্তমান সরকারের কার্যক্রম চলে আসছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণে বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষদের প্রতি নির্দেশনাও রয়েছে। শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় এ নির্দেশনা অনেক আগে থাকলেও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এখনো এ বৈষম্য রয়ে গেছে। এমনি সময়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ ছাত্রীদের মাঝে প্রতি বছর বাইসাইকেল বিতরণ করে এক মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সাইকেল চালনায় উদ্বুদ্ধ করেন।

আমাদের সমাজ ছেলে ও মেয়েদের কাজ নির্ধারণ করে দিয়েছে। কোন ধরনের কাজকর্ম ছেলেরা করবে আর কোন ধরনের কাজ মেয়েরা করবে তা’ যেন নির্ধারিত। বল খেলা, রাস্তায় সাইকেল চালনা, নেতৃত্ব প্রদান সবই যেন ছেলেদের জন্য নির্দিষ্ট। মেয়েদের রাস্তায় সাইকেল চালাতে দেখলে আমাদের সমাজমতে তা’ যেন বেমানান। যদিও আমাদের সমাজে এখন জেন্ডার বৈষম্য অনেকাংশে দূরীভূত হয়েছে। তারপরও মেয়েরা এসব কাজ করতে গেলে তার পরিবার থাকে উৎকন্ঠায়। আমাদের দেশে ছাত্রীদের সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করা এখন একটি স্বাভাবিক কার্যক্রম হলেও এদের সংখ্যা অতি নগন্য। তারপরও বাগেরহাটের গ্রামাঞ্চল ও শহরে কমবেশি ছাত্রীদের সাইকেল চালানো চোখে পড়ে। ছাত্রীরা সাইকেল চালানোয় অভ্যস্ত হলে যাতায়াতে পরিবহনের উপর নির্ভর না হয়ে নিজের মতো স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। রিক্সা বা পরিবহনের চেয়ে সাইকেলে যাতায়াত যেমন সহজ, তেমনি শারীরিক উৎকর্ষ সাধনেও রয়েছে অনেক উপকার। এ সকল বিষয় বিবেচনা করে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের (ছাত্রী) মাঝে সাইকল বিতরণের উদ্যোগ নেন।
গত ৬ মে বাগেরহাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তানজিরুল রহমানের সভাপতিত্বে ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিনের উপস্থিতিতে ৪০টি বিদ্যালয়ের ১০৭ জন ছাত্রীর মাঝে একটি করে সাইকেল বিতরণ করা হয়। এর আগেও প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে উপজেলা পরিষদ থেকে সাইকেল বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্রীরা যখন সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে।
চুলকাঠি ঘনশ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী উপজেলা পরিষদ থেকে সাইকেল পেয়েছে। সে সাইকেল পেয়ে খুবই খুশী। সে নিয়মিত সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে। তার বাবা বিষ্ণু দাশ জানান, তিনি গরীব মানুষ। তার মেয়েকে সাইকেল কিনে দেওয়া তার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল। উপজেলা পরিষদ থেকে সাইকেল পেয়ে তার মেয়ে ও তার পরিবার খুবই খুশী।
বিএসসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝিমি মন্ডল জানান, প্রধানমন্ত্রী নারীর বৈষম্য দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। ছেলেরা যদি সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে পারে, তাহলে মেয়েরা কেন পারবে না? উপজেলা পরিষদের এ ধরনের উদ্যোগ নারী বৈষম্য দূরীকরণে বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন। বাগেরহাট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: কামরুজ্জামান বাগেরহাট সদর উপজেলার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এখন ছেলে ও মেয়েদের কাজের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। মেয়েরা চাঁদে যাচ্ছে, পাহাড়ে আরোহন করছে। মেয়েরা পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে দেশ উন্নত পর্যায়ে পৌছাতে পারবে না।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান খান রেজাউল ইসলাম জানান, তিনি নিজেও একজন শিক্ষক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠামে জেন্ডার বৈষম্য দূর করা একান্ত দরকার। বিদ্যালয়ের শিক্ষরা জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। উপজেলা পরিষদের এ ধরনের কাজ জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন জানান, ছাত্রীদের স্কুলে সহজে যাতায়াতের জন্য উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে চলতি বছরে ১০৭ জন ছাত্রীর মাঝে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। এর পূর্বে আরও শতাধিক ছাত্রীকে সাইকেল দেওয়া হয়েছিল। এসব ছাত্রীদের সাইকেল চালাতে দেখে অন্যান্য ছাত্রীরাও সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছে। এতে তাদের যাতায়াত যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি তাদের শারীরিক উৎকর্ষ সাধন হচ্ছে। মেয়েদের শারীরিক ব্যায়াম করার সুযোগ থাকলেও আমাদের সমাজে মেয়েরা তুলনামূলক কম চর্চা করে। সাইকেল চালনার মাধ্যমে তাদের শারীরিক চর্চাটাও হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: তানজিরুল রহমান জানান, উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে মাধ্যমিক স্তরের ছাত্রীদের মাছে বাই-সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে, যাতে ধীরে ধীরে সকল মেয়েরা সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হয়। মেয়েদের যাতায়াতের জন্য পরিবহনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। সেই হিসাবে একজন ছাত্র সহজে সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করতে পারে। আমাদের দেশের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ছেলে ও মেয়েদের পার্থক্য অনেক কমে এসেছে। তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে উপজেলা পরিষদের এ উদ্যোগ বাস্তবধর্মী বলে তিনি মনে করেন।

    

এই বিভাগের আরও খবরঃ