website page counter বুয়েট শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছে, খুলছে জাবি - শিক্ষাবার্তা ডট কম

মঙ্গলবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ১৫ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বুয়েট শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছে, খুলছে জাবি

নিউজ ডেস্ক।।

অচলাবস্থা কাটিয়ে আবার ক্লাসে ফিরছে দেশের শীর্ষ দুই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হলে শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামে। শিক্ষার্থীরা এক পর্যায়ে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধই ছিল। প্রায় তিন মাস পর আগামী ২৮ ডিসেম্বর ফের চালু হচ্ছে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম।

অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে আজ। ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে রোববার থেকে। উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তপ্ত। ৫ নভেম্বর উপাচার্যবিরোধী পক্ষের শিক্ষকরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করলে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একদল নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালিয়ে উপাচার্যকে কার্যালয়ে নিয়ে আসে। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনমুখর হয়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় :কর্তৃপক্ষ তিন দফা দাবি পূরণ করায় আন্দোলন থেকে সরে এসে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুরু থেকেই আন্তরিক ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদও জানায় তারা। গতকাল বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার কথা জানায়।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো ছিল- মামলার অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা, বুয়েটের আহসানউল্লা, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলে আগে ঘটে যাওয়া র‌্যাগিংয়ের ঘটনাগুলোয় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি এবং সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি ও র‌্যাগিংয়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিভিত্তিক শাস্তির নীতিমালা প্রণয়নের পর একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে অনুমোদন করে বুয়েটের অধ্যাদেশে সংযোজন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, দীর্ঘদিন পর ক্লাস পরীক্ষা শুরুর খবরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলে, তাদের দুটি দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। তৃতীয় দাবি অর্থাৎ র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় পুনরায় তদন্তের জন্য সময়ের প্রয়োজন। এমন প্রেক্ষাপটে তারা গত ২৭ নভেম্বর পরীক্ষার তারিখের ব্যাপারে বুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার, সব অনুষদের ডিনদের উপস্থিতিতে উপাচার্য সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সময় চেয়ে ২৯ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব দেয়।

 

উপাচার্য ২৮ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরুর অনুরোধ করলে তারা তাতে সম্মত হয়। গত ২ ডিসেম্বর র?্যাগিং ও সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তার শাস্তির নীতিমালা বিষয়ে বুয়েট প্রশাসন একটি নোটিশ প্রকাশ করে এবং বুধবার সকালে এ নোটিশ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানায়। শিক্ষকরা তাদের জানান, এখন থেকে নবাগত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোড অব কনডাক্ট জানিয়ে অঙ্গীকার নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সুস্থ ও নিরাপদ বুয়েটের স্বার্থে বুয়েটের বর্তমান শিক্ষার্থীরাও প্রয়োজনে এমন অঙ্গীকারনামা দিতে সম্মত আছে বলে শিক্ষকদের জানিয়ে আসে। প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যেই তিনটি দাবি মেনে নেওয়ায় বুয়েট প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের দেওয়া রায় মেনে নিয়ে তারা আন্দোলনের সমাপ্তি টানছে। বুয়েট প্রশাসন আবরার ফাহাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে সচেষ্ট হবে বলেও আশা করে শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র অন্তরা মাধুরীসহ অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এ ঘটনার পর থেকে বুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছে শিক্ষার্থীরা। আবরার হত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৪ নভেম্বর ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে প্রশাসনকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি পূরণের শর্ত দেয়। এসব দাবি মানতে ১৮ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের কাছে সর্বোচ্চ তিন সপ্তাহ সময় চান বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় :জাবি প্রতিনিধি জানান, অনির্দিষ্টকালের বন্ধ শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় খুলে দেওয়া হবে। আগামী রোববার থেকে যথারীতি শুরু হবে ক্লাস এবং পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ গতকাল বুধবার বিকেলে সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেটের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে আবাসিক হল খোলার সিদ্ধান্ত হয়। সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সচল রাখার জন্য সংশ্নিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রায় তিন মাস ধরে চলে এ আন্দোলন।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে হল খুলে ক্লাস-পরীক্ষা সচল করার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সেদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় সচল করার বিষয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভার কথা জানানো হয়।

ক্যাম্পাস খোলার খবরে শিক্ষার্থীদের আনন্দ : জাবি ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার ঘোষণায় মোবাইল ফোনে একাধিক শিক্ষার্থীর কাছে অনুভূতি জানতে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করেন। সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাশ্বতী সরকার বলেন, ‘অনেক খুশি লাগছে। ভাবছিলাম হয়তো অনেক দিন বন্ধ থাকবে। বাসায় আর ভালো লাগছিল না।’

এ বিষয়ে অনার্স বর্ষের শিক্ষার্থী সিকদার সঞ্চিতা তাসনিম বলেন, ‘বাসায় অবসর সময়ে বিরক্ত লাগছিল। শুধু জানতে চাচ্ছিলাম কখন ক্যাম্পাস খুলবে। এর মধ্যে একবার ক্যাম্পাসে ঘুরেও এসেছি। কিন্তু আসার সময় খারাপ লাগছিল। ক্যাম্পাস খোলার খবর শুনে হলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, টিউশনি করি। ক্যাম্পাস বন্ধের পর টিউশনিটাও চলে গেছে। এখন আবার ঠিক করতে হবে। এ ছাড়া এ বন্ধে পড়াশোনাও হয়নি। অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্যাম্পাস খোলায় ভালো লাগছে।

এই বিভাগের আরও খবরঃ