website page counter অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত - শিক্ষাবার্তা ডট কম

মঙ্গলবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ১৫ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত

দুর্নীতির দায়ে মাগুরা সদরের শত্রুজিৎপুর কলেজের অধ্যক্ষ মাহাবুবুল ইসলামের এমপিও স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সূত্র এডুকেশন বাংলাকে এতথ্য নিশ্চিত করেছে।

শত্রুজিৎপুর কলেজের অধ্যক্ষ মাহাবুবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আব্দুল আজিজ মোল্লাসহ ৬ ব্যক্তি মাগুরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসক তদন্ত করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতার পান।

জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে শত্রুজিৎপুর কলেজের অধ্যক্ষ মাহাবুবুল ইসলামের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাঁর এমপিও কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না সে মর্মে তাঁকে কারণ দর্শানোর জন্য মন্ত্রণালয় থেকে গত ২ ডিসেম্বর অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে,এনায়েত নামের এক ব্যক্তিকে ডিগ্রি শাখার প্রভাষক পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রায় চার লাখ টাকা নিয়েছেন অধ্যক্ষ মাহাবুবুল ইসলাম। কিন্তু তাকে চাকরি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ তদন্ত কমিটিকে বলেছেন,‘টাকা জমা আছে,ডিগ্রি স্তরের অনুমোদন হলে তার চাকরি হবে।’

মাগুরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুন্নাহার সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে কলেজের ডিগ্রি শাখায় চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার সত্যতা পেয়েছেন। এছাড়া, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা না মেনে, কমিটির সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্রের জন্য ২০০ টাকা এবং প্র্যাকটিকাল ল্যাবের জন্য ১০০ টাকা করে নেওয়ার সত্যতাও পাওয়া গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব নেই। দৈনন্দিন খরচের হিসাবেও স্বচ্ছতা নেই। ক্যাশ বই হালনাগাদ নেই। ক্রীড়া সামগ্রীর বরাদ্দে অর্থ খরচের বিল ভাউচার নেই। হাজিরা খাতা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। অনেকে দেরিতে কলেজে এসে এবং কলেজে না এসেও হাজিরা খাতায় সই করেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তারও সত্যতা পাওয়া গেছে।

এছাড়া, শিক্ষকদের গালিগালাজ, হুমকি-ধমকি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগেরও প্রমাণ মিলেছে জেলা প্রশাসনের তদন্তে। কলেজটির ২৭ জন শিক্ষক তদন্ত কমিটিকে বলেছেন, শিক্ষকদের সঙ্গে অধ্যক্ষ অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহার করেন। অধ্যক্ষের কথা মতো না চললে চাকরিচ্যুত করার হুমকিও দেন তিনি। শিক্ষকরা আরও অভিযোগ করেন যে, এই কলেজে জাতীয় দিবসগুলোও পালন করা হয় না।

এই বিভাগের আরও খবরঃ