website page counter এসএসসি প্রস্তুতি : জীববিজ্ঞান - শিক্ষাবার্তা ডট কম

বৃহস্পতিবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এসএসসি প্রস্তুতি : জীববিজ্ঞান

সৃজনশীল প্রশ্ন

এসএসসি প্রস্তুতি – জীববিজ্ঞান

ফারহানা রহমান, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

পঞ্চম অধ্যায় : খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক

উদ্দীপক :

ক) অ্যালভিওলাস কী?

ক) রাফেজ বলতে কী বোঝায়?

গ) উদ্দীপকের চিত্র M ও P অংশের ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উদ্দীপক N অংশে খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক) মানবদেহের ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ থাকে, যাদের অ্যালভিওলাস বলে।

খ) রাফেজ মূলত সেলুলোজ নির্মিত উদ্ভিদ কোষপ্রাচীর। শস্যদানা, ফলমূল ও সবজির অপাচ্য তন্তুর অংশ রাফেজ নামে পরিচিত। যেমন—শস্যদানার বহিরাবরণ, সবজি, ফলের খোসা, শাঁস, বীজ ইত্যাদি।

গ) উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রে M ও P যথাক্রমে যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয়। নিচে এদের কাজ ব্যাখ্যা করা হলো—

যকৃতের কাজ—যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে। এই রস পিত্তথলিতে জমা থাকে। প্রয়োজনে ডিওডেনামে এসে পরোক্ষভাবে পরিপাকে অংশ নেয়। পিত্তরসে কোনো উেসচক বা এনজাইম থাকে না। যকৃৎ উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে। পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে এবং ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ পরিবেশ খাদ্য পরিপাক অনুকূলে। কেননা আম্লিক পরিবেশে খাদ্য পরিপাক হয় না। পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, যা লাইপেজ সহযোগে পরিপাকে সহায়তা করে। অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিড যকৃতে আসার পর বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও অ্যামোনিয়ারূপে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহজাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

অগ্ন্যাশয়ের কাজ : অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয় রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উেসচক থাকে। এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। এ ছাড়া অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ গ্লুকাগন ও ইনসুলিন নিঃসরণ করে। গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঘ) উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রে N পাকস্থলী। নিচে পাকস্থলীর খাদ্য পরিপাক ক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হলো :

পাকস্থলীতে পরিপাক : হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যের মধ্যে কোনো অনিষ্টকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে তা মেরে ফেলে। নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে এবং পাকস্থলীতে পেপসিনের সুষ্ঠু কাজের জন্য অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।

নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন HCl সক্রিয় পেপসিন

          →

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

পেপসিন : এক ধরনের এনজাইম, যা আমিষকে ভেঙে দুই বা ততোধিক অ্যামাইনো এসিড দ্বারা তৈরি যৌগ পলিপেপটাইড গঠন করে।

আমিষ পেপসিন পলিপেপটাইড

    →

শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পাকস্থলীতে পরিপাক হয় না। কারণ এদের পরিপাকের জন্য গ্যাস্ট্রিক রসে নির্দিষ্ট কোনো এনজাইম থাকে না।

পাকস্থলীতে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছানো মাত্র উপরোক্ত রসগুলো নিঃসৃত হয়।

পাকস্থলীর অনবরত সংকোচন ও প্রসার এবং এনজাইম ক্রিয়ার ফলে খাদ্য মিশ্র মণ্ডে পরিণত করে। একে পাকমণ্ড বা কাইম বলে। এই মণ্ড অনেকটা স্যুপের মতো এবং কপাটিকা ভেদ করে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে।

এই বিভাগের আরও খবরঃ