website page counter এমপিও নীতিমালায় সংশোধনী প্রস্তাব - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শুক্রবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এমপিও নীতিমালায় সংশোধনী প্রস্তাব

মো: শাহাদাত হোসাইন শিমুল :

নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকসহ  মাদরাসা ও কারিগরির এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ সংশোধন করার লক্ষে কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্কুল ও কলেজের নীতিমালা পর্যালোচনা করে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।  ১০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রথম সভা ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

আলোচনার শুরুতেই বলছি, নীতিমালার সংশোধনী ২০১০ ও ২০১৩-তে শিক্ষকদের যে সকল সুযোগ- সুবিধা ছিল তার অনেকটাই ২০১৮তে রাখা হয়নি।

সংশোধন কমিটির সদস্যদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষে আমি বর্তমান নীতিমালার কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরছি।

প্রথমেই বলছি, সব প্রভাষকের দাবির পরও বহাল রয়েছে সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতির কালো নিয়ম ৫:২ অনুপাত প্রথা। নীতিমালায় জেনারেল শিক্ষকদের প্রশাসনিক পদে নিয়োগ ও অন্যসকল অফিসিয়াল পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো সুস্পস্ট ও সুসংবদ্ধ করা হয়নি। এ নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাদ দিয়ে উচ্চতর গ্রেড প্রদানে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি করা হয়েছে।

এবারে নিম্নোক্ত পরিবর্তন এবং সংশোধন দাবি করছি : শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হোক এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করার ব্যবস্থা করা হোক। প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিদ্যমান কালো বিধান ৫:২ অনুপাত প্রথা বাতিল করে সহযোগী এবং অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হোক। অধ্যক্ষ / উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক/ সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার/ সহ- সুপারসহ অফিসিয়াল পদগুলো যোগ্যতা ও জোষ্ঠতার ভিত্তিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রথা দ্রুত চালু করে তা এনটিআরসিএর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হোক। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সরকারী চাকরিজীবীদের ন্যয় ঈদ উৎসব বোনাস ও বাড়িভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা এই নীতিমালায় রাখা হোক। শিক্ষকদের পারিবারিক পেনশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা এ নীতিমালায় সন্নিবেশ করা হোক। এমপিওভুক্ত শিক্ষক- কর্মচারীদেরও গৃহঋণ সুবিধা প্রদানের বিষয়টি এই নীতিমালায় রাখা হোক। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি শ্রেণিতে (প্রতিটি শাখাসহ) সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য নির্ধারিত করে দেওয়া হোক যার ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা যায়, এতে সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর ভারসাম্য সৃষ্টি হবার মধ্যদিয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেতে পারে । কোটা সংস্কার নীতিমালা অনুযায়ী সরকারী বিধি মোতাবেক ১ম ও ২য় শ্রেণির গ্রেডের পদ সমূহের বিপরীতে প্রদত্ত কোটাপদ্ধতি বাতিল করা করা হোক। এই নীতিমালায় যত্রতত্র ব্যঙের ছাতার মতো ব্যক্তিমালিকানায় বাণিজ্যিকভাবে যেন কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠতে পারে তার জন্য কঠোর বিধিমালা প্রণয়ন করা হোক এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সরকার প্রদত্ত বিধিমালা অনুযায়ী স্বচ্ছতার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা তদারকিতে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

পরিশেষে বলবো, টেকসই উন্নয়নের জন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবী। আর এটি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সু-দৃষ্টি ও প্রচেষ্টা শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে।

লেখক: মো: শাহাদাত হোসাইন শিমুল, সহকারী শিক্ষক ও সাধারণ সম্পাদক বিএমজিটিএ রায়পুর উপজেলা, লক্ষ্মীপুর

এই বিভাগের আরও খবরঃ