website page counter শিক্ষক কি শুধু শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষক ? - শিক্ষাবার্তা ডট কম

সোমবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক কি শুধু শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষক ?

মো. সাজ্জাদ হোসেন।।
বিদ্যায়তনের যে কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করা হয় সেটাই শ্রেণিকক্ষ । শ্রেণিকক্ষই জাতির জনশক্তি তৈরির কারখানা । শ্রেণিকক্ষেই সকল সভ্যতার ফুল ফোটানো হয় । শ্রেণিকক্ষেই শিশুর চারিত্রিক বিকাশ লাভ করে । মনুষ্যত্ব ও মানবিক গুনাবলির বীজ শ্রেণিকক্ষেই কেবল বপন করা হয় । নৈতিকতার শিক্ষা শ্রেণিকক্ষ থেকেই শুরু হয় । মা,মাটি ও মানুষের প্রতি ভালবাসার শিক্ষা শ্রেণিকক্ষেই কেবল মাত্র দেওয়া হয় । শিক্ষক শুধু নিছক জ্ঞান দান করে না । শিক্ষক ছাত্র ছাত্রীদের কে বিকশিত করে । ছাত্র-ছাত্রীর সুপ্ত প্রতিভা কেবল মাত্র শিক্ষকের দ্বারাই বিকশিত হয় । সময়ের সাথে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান,বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার একমাত্র জায়গা হলো শ্রেণিকক্ষ ।

আবুল ফজল বলেছেন-“ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতির জনশক্তি তৈরির কারখানা আর রাষ্ট্র্র ও সমাজদেহের সব চাহিদার সরবরাহ কেন্দ্র ।”

শ্রেণিকক্ষের মূল কারিগর হলো শিক্ষক । শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী কে আদর করার ও শাসন করার সমস্ত অধিকার রাখে ।শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের রাজা । শিক্ষক সবচাইতে সম্মানিত ব্যক্তি ।

শিক্ষক সকল শিক্ষার্থীদের কাছে একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব । শ্রেণিকক্ষে সবচাইতে সম্মানিত ব্যক্তি একজন শিক্ষক । শিক্ষক স্বপ্নবান মানুষ । শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে স্বপ্নের বীজ বপন করে দেয় । শিক্ষকের দেখানো পথকেই ছাত্র-ছাত্রী নিজেকে প্রস্তুত করার মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে । শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রী কে নিয়ে সর্বদা স্বপ্ন দেখে ।

ছাত্র-ছাত্রীরা বড় হবে মানুষের মত মানুষ হবে । দেশের সু-সন্তান হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবে । দেশ ও দশের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করবে । দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভেৌমত্ব রক্ষায় নিজেকে প্রস্তুত রাখবে ।

সকল জায়গায়,সকল পরিবেশ পরিস্থিতে শিক্ষক সর্বোচ্চ সম্মান প্রাপ্তির দাবী রাখে । সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল মানুষ শিক্ষক কে সম্মান করবে এটাই শিক্ষকের প্রত্যাশা । কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটা স্তরে আজ পচন ধরেছে । নৈতিকতার সর্বনিম্ন স্তরে জাতি আজ অবস্থান করছে । সব জায়গায় শিক্ষক কে অসম্মান করার একটা প্রবনতা তৈরি হয়েছে

স্কুল,কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, অভিভাবক,সমাজ ও দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ হীন স্বার্থে আজ শিক্ষকদেরকে অসম্মান করার প্রতিযোগীতায় নেমে পড়েছে । প্রিন্ট মিডিয়া,ইলেকট্রনিস্ক মিডিয়া,সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জাতি আজ জঘন্য আচরণের চিত্র দেখতে পাচ্ছে । মানুষ গড়ার কারিগর আজ পদে পদে লাঞ্চিত হচ্ছে ।

ডা.লু্ৎফর রহমান বলেছেন-“কেবল বহুসংখ্যক লোককে অক্ষরজ্ঞান বিশিষ্ট করলেই তাদের মানুষ করা হল না । মানুষের মধ্যে পাশব স্বভাব আছে এবং ঐশ্বরিক গুণ ও আছে । পাশবিক স্বভাব দমন করে যদি তার ঐশ্বরিক গুণকে ফুটিয়ে তোলা যায়,তবেই তাকে প্রকৃত মানুষ করা হল । শিক্ষকের কাজ এই লেজ শিংবিহীন পশুকে মানুষ করা । ধর্মনীতি এই কাজ সহজ করে দেয় ।”
শিক্ষক সমাজ সকল মান অভিমান ভুলে সদা ব্যস্ত জাতি গড়ার মূল কাজে । মানুষকে সভ্য করে তোলার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । আবেগ,অনুভূতি,মান সম্মান বোধ কে বিসর্জন দিয়ে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে জাতির ভবিষ্যত গড়ার দায়িত্বে ।

টলস্টয় বলেছেন-“ মানুষকে সভ্য করে তোলার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বিদ্যালয় ।”

বিদ্যালয় শিক্ষকের সমস্ত ধ্যান,জ্ঞান ও সাধনার জায়গা ।বিদ্যালয়ের শিক্ষা বুনিয়াদি শিক্ষা । শ্রেণিকক্ষের শিক্ষায় জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় । দেশ আজ শিক্ষা দীক্ষায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে । আমরা স্বাধীন দেশের নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত হয়েছি । কিন্তু আমরা আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারিনি । দৃষ্টি শক্তি কে প্রসারিত করতে পারিনি । আমাদের দৃষ্টির অন্তরালে মহান শিক্ষক সমাজ আজ লাঞ্চিত হচ্ছে । শিক্ষাগুরু কে তার উপযুক্ত মর্যাদা দিতে হবে । শিক্ষককে তার যথাযথ মর্যদা দিতে পারলে আমরা শিক্ষিত ও সভ্য জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উচুকরে দাঁড়াতে পারব ।

লেখক-
প্রভাষক,হিসাব বিজ্ঞান
লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজ ।
নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া

এই বিভাগের আরও খবরঃ