website page counter কেমন আছে দেশের টেলিভিশন? - শিক্ষাবার্তা ডট কম

বুধবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কেমন আছে দেশের টেলিভিশন?

আজ (২১ নভেম্বর) বিশ্ব টেলিভিশন দিবস। সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র -বিজেসি দিবসটি পালন করছে। বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোর বর্তমানে কী অবস্থা তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন দু’জন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

পাঠকদের জন্য লেখা দুটি হুবহু তুলে ধরা হলো…

বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক রাশেদ আহেমদ লিখেছেন, দুই দশক আগে বাংলাদেশে বেসরকারি টেলিভিশন এসেছিল সোনালী ডানায় ভর করে। সেই স্বর্ণালী আলোয় আলোকিত হয়েছিল ব্রডকাস্ট জার্নালিজম বা সম্প্রচার সাংবাদিকতা। সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন বিটিভির একঘেয়ে সংবাদ বুলেটিন থেকে ঘুরে গিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকের বুলেটিন, দর্শকদের নতুন স্বাদ দেয়।

মুক্ত সাংবাদিকতার চর্চাও শুরু হয় ইলেকট্রনিক এই মাধ্যমে। বুলেটিনে উপস্থাপক কোন খবরের লিংক ধরিয়ে দেন সেটি বিস্তারিত উপস্থাপন হয় মাঠের রিপোর্টারের কন্ঠে, আবার সরাসরি দেখানো হয় যেকোন ঘটনা, মন্ত্রী বা সরকারের উর্ধতন আমলা বা কর্তৃপক্ষকে সরাসরি প্রশ্ন করার লাইভ সম্প্রচার নতুনভাবে পরিচিত করায় সংবাদ বুলেটিনকে।

তখন নাটক থেকেও চোখ ঘুরিয়ে সংবাদ দেখার আগ্রহ জোগায় দেশের দর্শকদের মধ্যে। এই হিরোইজমের কারনে ইলেকট্রনিক মাধ্যমের রিপোর্টাররা রাতারাতি সেলিব্রেটি বনে যান। তাদের তখন সব জায়গায় বাড়তি কদর।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের এই দাপট চলেছে শুরুর প্রথম দশ বছর। যখন দেশে বেসরকারি টেলিভিশন ছিল হাতে গোনা ৭ থেকে ৮টি। মালিকরা তখন বেশি বেশি লাভ করেছেন, সাংবাদকর্মীরাও ভালো ছিলেন। এরপর নদীতে পানি শুকাতে থাকে।

কোথায় দাঁড়িয়ে আছি:

নানা সংকটে এখন বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন খাত৷ সহসা ঘুরে দাঁড়াবে এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই৷ বরং খাতটির সবক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, হতাশা।পেশাদারির অভাব। দক্ষ ও মেধাবীরা কোণঠাসা। বেতন-বোনাস, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধার আলোচনার সুযোগও সীমিত৷

ফলে সৃজনশীলতা ও সৌন্দর্য প্রায় অনুপস্থিত৷ দেশে চ্যানেল সম্প্রচারে আছে ৩০টি। এর মধ্যে ক’টি ঠিকঠাক ‘টেলিভিশন’ হতে পেরেছে, সে এক বড় প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতিতে পেশা ছেড়েছেন এবং ছাড়তে চান অনেকেই।

বেশিরভাগ টেলিভিশনে সময়মতো বেতন হয় না৷ গোপনে ও প্রকাশ্যে ছাঁটাই নিয়মিত ঘটনা। মানসম্মত অনুষ্ঠানের অভাব, অপ্রতুল আয়, দক্ষকর্মী-নতুন পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের অভাবে চ্যানেলগুলোর অবস্থা করুণ।

এ খাতের কর্মীদের বিরাট এক অংশ বিশ্বাস করে, টেলিভিশনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এর সংকট অনিরাময়যোগ্য। তাছাড়া চ্যানেলগুলো কতটা গণমাধ্যম আর প্রচারমাধ্যম এ নিয়েও বিতর্ক প্রবল।

টেলিভিশন হচ্ছে ব্যবসা, সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি গৌণ। লাভ-লোকসানই শেষ কথা। দেশে বিজ্ঞাপনের বাজার ছোট,সে তুলনায় চ্যানেল সংখ্যা অনেক বেশি। বেশিরভাগ যেখানে আর্থিক সংকটে ভুগছে,সেখানে বেশ কয়েকটি চ্যানেল আবার সম্প্রচারের অপেক্ষায়।

এগুলো এলে খাতটিতে কী অবস্থা তৈরি হবে? এগুলো চালাবে কারা? বিজ্ঞাপন পাবে কোথায়? লাইসেন্স দেয়ার সময় এসব ভাবা হয়না।

কেনো এই অবস্থা:

১৯৯২ সালে অনেকটা চিন্তা-ভাবনা না করেই বাংলাদেশের আকাশ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। শুরু সিএনএন দিয়ে। এরপর ভারতীয় বেশ কিছু চ্যানেল যেমন স্টার গ্রুপ,জিটিভি গ্রুপসহ বেশ কিছু টেলিভিশন ঢুকে পড়ে বাংলার আকাশে।

তখনই বিটিভির একঘেয়েমি অনুষ্ঠান থেকে মুক্তি পায় দেশের দর্শক, ঝুঁকে পড়ে ওই দিকে। এভাবেই পাকাপোক্ত হয়ে বসে পড়ে বিদেশি চ্যানেল। একশ থেকে দু’শো টাকায় ক্যাবল লাইন যুক্ত করে দর্শকরা স্বাদ নেন বিদেশি সংষ্কৃতির। এর আমদানিকারকরা স্বল্প পুঁজির মাধ্যমে বিশাল ব্যবসা করে ফেলবে সেটি রাষ্ট্রযন্ত্র ভাবেইনি। ব্যবসা করলে ক্ষতি নেই, কিন্তু দেশের গণমাধ্যমের ব্যবসা যে লাটে উঠবে সেটি ভাবার দরকার ছিল।

বাংলাদেশের নাটক-সিনেমা বা কোনো রিয়েলিটি শোর মার্কেট নেই। মার্কেট নেই বলতে, কম বাজেটে গরিবি হালে বানাতে হয়। দেশের টেলিভিশনগুলো একটি নাটক কেনে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা দিয়ে। হাতে গোনা ভালো প্রযোজক বা লেখকের নাটক খুব বেশি হলে ৫ লাখ টাকা দিয়ে কেনা হয়। দেড় থেকে দুই লাখ টাকা দিয়ে যে নাটক কেনা হয় তার প্রডাকশন খরচ বড়জোড় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। এই টাকায় কি করে ভালো নাটক হবে? টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠান নির্মাণের খরচ অনুমোদন দেন একেবারেই কম।

পরামর্শ দেন,এক গজ কাপড় দিয়ে ফুল শার্ট বানাতে। এতে ফুল শার্টতো দূরের কথা হাফ শার্টও হয়না। হয় জোড়াতালি। এই অনুষ্ঠান দর্শকের মন কাড়বে কিভাবে? বার্তা বিভাগের কথায় আসি। যেটি আমাদের সরাসরি এফেক্ট করছে। বেশি দামের রিপোর্টার নেয়া হয়না, খরচ বাড়বে বলে। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই, রাখা হয়না পার্মানেন্ট প্রেজেন্টার, খন্ডকালীন দিয়ে চালানো হয়। এতে বুলেটিনের ওনারশিপ তৈরি হয়না। বুলেটিন উপস্থাপনের মান যথাযথ থাকছেনা। এতে মালিক কর্তৃপক্ষের কিছু এসে যায় না।

ধরা হয়ে থাকে বাংলাদেশে বছরে ১ হাজার দু’শ কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের বাজার। টেলিভিশনগুলোর আয়ের উৎস ওই সীমাবদ্ধ খাত। চলছে ৩০টি টেলিভিশন। ওই টাকা নিয়েই কামড়াকামড়ি, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অন লাইন মাধ্যমে। তাও পুষিয়ে যেতো কমবেশ করে। কিন্তু এই টাকার বড় একটি অংশ ৫শ কোটি টাকা এখন চলে যায় বিদেশে।

এর মধ্যে ভারতীয় চ্যানেল, ফেসবুক, ইউটিউবসহ কয়েকটি মাধ্যম বিজ্ঞাপন গ্রাস করছে। আগেই বলেছি বাংলাদেশের আকাশ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল কোন পরিকল্পনা ছাড়াই। পরেও খেয়াল করা হয়নি বা কোন অদৃশ্য সূতোর টানে উদাসীন থেকেছে রাষ্ট্রযন্ত্র। শুধু যে বিজ্ঞাপন পাচার হচ্ছে তাই নয় বিদেশি চ্যানেলে সেই দেশের পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হওয়ায় তার বাজার বাড়ছে দ্রুত গতিতে। এতে করে দেশি পণ্যের ব্যবসা যেমন কমছে, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গণমাধ্যম। রাষ্ট্রও হারাচ্ছে অনেক।

সংবাদকর্মীদের সংবাদ:

অন্যরকম মোহ নিয়ে সাংবাদকর্মীরা টেলিভিশন মাধ্যমে এসেছিলেন। পরিবারের খবর রাখেননি, রেখেছেন কোথায় দুর্ঘটনা, কোথায় আগুন, কোথায় অনিয়ম অথবা রাজনৈতিক সংকট, নির্বাচনে ভুলক্রটি। রাতদিন খেটে সংবাদ করেছেন। টেলিভিশন জনপ্রিয় করেছেন। সেই কর্মীরা এখন ভালো নেই। কমপক্ষে ১৮টি চ্যানেলে ২ থেকে ৫ বছর ধরে ইনক্রিমেন্ট হয়না।

এক থেকে তিন মাস বেতন বকেয়া আছে ৮ থেকে ১০টি চ্যানেলে। ছয় মাস বেতন বকেয়া আছে ২টি চ্যানেলে। গত এক বছরে ৯ টি চ্যানেল থেকে জনবল ছাঁটাই করা হয়েছে। বার্তাকক্ষ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে একটি চ্যানেলে। ৩০টি চ্যানেলের মধ্যে ২৮টিতে নেই গ্রাচুইটি। ২৬টিতে নেই প্রভিডেন্ট ফান্ড। যেসব কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে তাদের প্রাপ্য দেয়া হয়নি। ছাঁটাইয়ের একটি পদ্ধতি কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করেন-পদত্যাগ করো।

সম্মান বাঁচাতে সংবাদকর্মীরা পদত্যাগ করেন, হারান প্রাপ্যের অধিকার। ছাঁটাইয়ের যুক্তি তিনি চালাতে পারছেন না। তাই খরচ কমানো হচ্ছে। কিন্তু টেলিভিশন লেঅফ করছেননা। কারণ এটি তার ক্ষমতার খুঁটি, ঢাল বা অস্ত্র যাই বলেননা কেনো। এটি ব্যবহার করে তিনি রাষ্ট্রের সুবিধা পান। কেউ কেউ অন্যান্য ব্যবসা বাগান। অথচ টেলিভিশনের লাইসেন্স নেয়ার সময় ‘এটি চালাতে তিনি সক্ষম’ সরকারের এমন শর্ত মেনে নিয়েছিলেন। সেই শর্ত ভঙ্গের দায়ে পড়েন না তিনি, কারণ সরকারের সাথে সম্পর্ক ভালো রেখে চলেন।

এছাড়া দেশের বেসরকারি টেলিভিশনগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠেনি। এক কথায় দিন আনি দিন খাই অবস্থায় চলেছে। প্রথম দিককার টেলিভিশন চ্যানেলগুলো অনেক ব্যবসা করেছেন, এখন করতে পারছেননা তাই লোকবল ছাঁটাই। কিন্তু যাদের রক্ত-ঘামে এই আকাশচুম্বী ব্যবসা হলো তার হিসেব করলেতো দীর্ঘদিনের একজন কর্মী ছাঁটাই করা অযৌক্তিক। কে বলবে এই কথা?

ভুল নীতির খেসারত:

ভারতীয় চ্যানেলের দর্শক এখন ঘরে ঘরে। আগে সন্ধ্যার পর টিভি রিমোট থাকতো মহিলাদের হাতে এখন দিনের বেলাতেও তাদের দখলে থাকে। এক কথায় বলতে গেলে চোখ ঢেকে যায় ভারতীয় চ্যানেলে, মুখ ঢেকে যায় বিদেশি বিজ্ঞাপনে। তাই টিআরপি সেখানেই।

বিজ্ঞাপনদাতারা বলেন, বিজ্ঞাপন কেনো দেবো আপনার চ্যানেলে? টিআরপি নেই। উল্টো দিকে, চাইলেই আমরা ভারতীয় দর্শকদের কাছে পৌঁছুতে পারছিনা। কারণ সেখানে আইন এমন তাতে যে খরচ এবং বিধিনিষেধ এতে পোষায়না। সেখানে বাংলাদেশি কোন চ্যানেল ঢুকতে ল্যান্ডিং ফি ৫ কোটি টাকা। এছাড়া অফিস স্থাপন সেই দেশের কর্মী নিয়োগ ইত্যাদি বিধিবিধান। এছাড়া দেখাতে হবে ক্লিন ফিড। আর আমাদের দেশে ভারতীয় চ্যানেলের ল্যান্ডিং ফি মাত্র ৩ লাখ টাকা।

এখানে তাও আবার চলে বিজ্ঞাপনসহ। তবে ২০০৬ সালে ক্যাবেল নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন হয়েছিল দেশে। তার কোন প্রয়োগ হয়নি। ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার-বিজেসি বা সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র,বাংলাদেশ এবং টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর তৎপরতায় এখন নড়াচড়া শুরু করেছে সরকার। তথ্যমন্ত্রণালয় বিজ্ঞাপন ছাড়া বিদেশি চ্যানেল প্রচার করা, এক কথায় ক্লিন ফিড চালাতে নির্দেশ দিয়েছে। এটি এখনও মানা হচ্ছে না। যদি মানাও হয় এর মধ্যে ক্ষতি হয়ে গেছে অনেক। দেশের টেলিভিশনগুলোর মান বাড়াতে কুয়া থেকে টেনে তুলতে হবে। এতেই যথেষ্ট নয় দেশের দর্শক ফেরাতে দরকার বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ। সেটি মালিকরা করবেন কিনা সন্দেহ আছে।

কি করা দরকার:

দেশিয় টেলিভিশনকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা জরুরি। এই চাপ সম্প্রচার কর্মীদের দিতে হবে সরকারকে। পরে এই শিল্পের আইনী সুরক্ষা দিতে হবে। ২০০৬ সালের ক্যাবল নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনের প্রয়োগ জরুরি। বাংলাদেশের আকাশ উন্মুক্ত হয়েছে ২৭/২৮ বছর ধরে। এটি একটি নিয়ম নীতির মধ্যে আনতে হবে। এতে দেশীয় সংষ্কৃতি ও শিল্প দুটোই সুরক্ষা পাবে।

সবচেয়ে বড় বিষয় টেলিভিশনগুলোর আয়ের একমাত্র পথ বিজ্ঞাপন। এটির ওপর নির্ভরশীল না থেকে এর বাইরেও অর্থের উৎস দরকার। ডিশ লাইন টেলিভিশনগুলোকে কিছুই দেয় না। অথচ তাদের কন্টেইন্ট ব্যবহার করে ব্যবসা করছে। এই কন্টেইন্ট এর জন্য দর্শকদের কাছ থেকে টেলিভিশনগুলোর অর্থ প্রাপ্য।

ডিশ ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৪শ থেকে ৫শ টাকা করে ফি নিয়ে থাকে। এই টাকার ভাগ টেলিভিশনগুলো পেতে পারে। সারাদেশে এখন ক্যাবল ডিস্ট্রিবিউশন লাইন আছে কম করে হলেও ৩ কোটির ওপরে। যদিও ক্যাবল অপারেটররা তা স্বীকার করে না। বিদ্যুৎ লাইন প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে যাওয়ায় সেখানেও গেছে ডিশ লাইন।

শহর গ্রাম গঞ্জ মিলিয়ে টিভি সেট যদি ৩ কোটি হয়। সেখান থেকে অপারেটর ব্যবসায়ীরা প্রতি চ্যানেলকে ১ টাকা করে দিলে প্রত্যেকে মাসে ৩ কোটি টাকা পায়। এতে করে একটি চ্যানেল স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। শুধু বিজ্ঞাপনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছেনা। সংবাদের ক্ষেত্রে আপোষ করতে হয়না বিজ্ঞাপনদাতা ব্যবসায়ীদের সাথে। অপারেটরদের ৪শ অথবা ৫শ টাকার বিপরীতে মাত্র দিতে হচ্ছে ৩০ টাকা। তবে এসব বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার ডিস্ট্রিবিউশন লাইন ডিজিটালাইজেশন করা। যদিও তথ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সেই ঘোষণা দিয়েছে।

অধিকার নিয়ে কে বলবে?

এই দেশে সাংবাদিক ইউনিয়ন যখন গড়ে উঠেছিল তখন টেলিভিশন সাংবাদিকতা বলে তেমন কিছু ছিল না। ছিল পত্রপত্রিকা ও সংবাদ সংস্থা। ইউনিয়েনের দাবি-দাওয়া তাই সেই সেক্টরের কর্মীদের নিয়ে। সরকারও বাস্তবায়ন করেছে। এরপর আসলো সম্প্রচার সাংবাদিকতা;কিন্তু ইউনিয়নের কাছে উপেক্ষিত থাকলো এই কর্মীদের অধিকারের কথা।

সময়ে সময়ে ওয়েজবোর্ড হয় সম্প্রচার সংবাদকর্মীরা থেকে যায় তার বাইরে। কোন একক নিয়ম-নীতির মধ্যে এই পেশার কর্মীরা চাকরি করতে পারছেনা। চলছে একেক প্রতিষ্ঠানে একেক নিয়ম। এই সেক্টরকে একটি শৃংখলার মধ্যে রাখতে হলে দরকার আইন। সম্প্রতি প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

সেখানেও সম্প্রচার কর্মীদের কথা নেই। সম্প্রচার কর্মীদের নিয়ে কথা বলার জন্য সম্প্রতি গড়ে উঠেছে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র। এই সংগঠন এই পেশার মান উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমস্যার কথা তুলে ধরছে বিভিন্ন ফোরামে। জানাচ্ছে উদ্বেগের কথা। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী সম্প্রচার সংবাদকর্মীদের জন্য আলাদা ওয়েজবোর্ড করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; সেটি কবে হবে জানা নেই। তবে এ নিয়ে সাংবাদিক ইউনিয়নের সোচ্চার ভুমিকা থাকা জরুরী বলে মনে করে এই পেশার সংবাদকর্মীরা। তাদের এই আহবান ইতিমধ্যে ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে জানানোও হয়েছে।

দর্শক তুমিও থাকো:

দর্শক ভাবছেন আপনি স্বাধীন ভোক্তা, মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগ। আপনার দেখার চাহিদা আপনার কাছে। সোফায় আরাম করে স্টার প্লাস, জি বাংলা কিংবা অন্য কিছু দেখবেন। দেশি চ্যানেলে রিমোট ঘুরিয়ে বলবেন কি যা তা মানুষ দেখে?

এখানে কোন বিনোদন আছে? বিদেশি চ্যানেলে কতো নিটোল বিনোদন। কিন্তু তলে তলে ওলোট পালট হয়ে যাচ্ছে সব। টের পাচ্ছেন না কিছুই। আপনার ফেস ওয়াশ, আপনার পেস্ট,আপনার সাবান, আপনার নারিকেল তেল দখল করে নিচ্ছে বিদেশি বনিকরা। শুধু কি তাই আপনার সংষ্কৃতি ম্লান হয়ে ঢাকা পড়েছে বিদেশি সংষ্কৃতিতে। আপনার সন্তানের দিকে তাকিয়ে দেখুন তার আচরন কি? আপনার সঙ্গে সাদৃশ্য আছে না কি নেই।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

আপনার সন্তান কি আপনার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়ায়, যেমনটি আপনি আপনার বাবা-মায়ের সাথে করেছেন। প্রথমে বাজার দখল তার পর চিন্তার দখল। আপনার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। তাই ভাবুন সোচ্চার হোন। ডিস অপারেটরকে ডেকে বলুন দেশের চ্যানেলগুলো সিরিয়ালের আগে থাকবে।

ভুলক্রুটি টেলিভিশনগুলোতে ফোন করে ধরিয়ে দিন। বলুন আপনার চাহিদার কথা। জানান এ ধরনের নাটক চাইনা। দর্শক ফোরাম করুন।

অন্যদিকে বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক মানষ ঘোষ লিখেছেন, কেমন আছে দেশের টেলিভিশন? মিডিয়া সংশ্লিষ্টদের কাছে এই সময়ের সম্ভবত সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন।

বিষয়বস্তুর সংকট, অপেশাদারী ব্যবস্থাপনা, মেধার অবমূল্যায়ন, এজেন্সিগুলোর খবরদারী, বিদেশী চ্যানেলে আসক্তি- এমন আরো কতকি প্রতিনিয়ত গিলে খাচ্ছে, মাত্র দুই দশক আগে গড়ে ওঠা বেসরকারি এই টেলিভিশন খাতকে। ছোট্ট এই বাজারে ৩০টি চ্যানেল ! এর সাথে আছে সোশ্যাল মিডিয়ার বারবাড়ন্ত। বিজ্ঞাপনগুলো প্রতিনিয়ত চোখ রাঙাচ্ছে! ভালোবেসে যারা জড়িয়েছেন সৃজনশীল এই পেশায়, তারা আজ চরম ঝুঁকিতে। কাল ২১শে নভেম্বর, বিশ্ব টেলিভিশন দিবস।

চলুন আমরা কথা বলি দেশের টেলিভিশনের সংকট এবং এর সমাধান নিয়ে। দেশের টেলিভিশনকে বাঁচাই। আইনি সুরক্ষা দেই গণমাধ্যম কর্মিদের।

টেলিভিশন দিবসে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র, বিজেসি’র উদ্যোগে কাল এই নিয়ে আলোচনা সকাল সাড়ে ১০টায় আরটিভি’র তেজগাঁও স্টুডিওতে (৯৫ তেজগাঁও শিল্প এলাকা) সবাইকে আমন্ত্রণ।

এই বিভাগের আরও খবরঃ