website page counter ১১ ও ১৩ গ্রেডে সন্তুষ্ট থাকতে হবে প্রাথমিকের শিক্ষকদের - শিক্ষাবার্তা ডট কম

বুধবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১১ ও ১৩ গ্রেডে সন্তুষ্ট থাকতে হবে প্রাথমিকের শিক্ষকদের

বেতনবৈষম্য নিরসনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতাদের সাথে গতকাল অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন বৈঠক করেছেন। এর আগে এ নেতৃবৃন্দই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের সাথে গত ১৫ নভেম্বর তার বাসভবনে বেতনবৈষম্য নিরসনে বৈঠক করেন। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুই সচিবের সাথে বৈঠক হয়েছে সচিবালয়ে। তিন সচিবের সাথে প্রাথমিকের শিক্ষক নেতারা সিরিজ বৈঠক করে, কোনো সুরাহা করতে পারেননি বেতনবৈষম্যের। তিনটি বৈঠকের পর শিক্ষক নেতাদের সাথে আলাপ করে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ১১ ও ১৩ গ্রেডের সম্মতিপত্র প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া গেলে, তা দ্রুত কার্যকর করা হবে এবং শিক্ষকদের উন্নীত গ্রেডে বেতন ফিক্সেশনে বেতন যেন না কমে, তার জন্য নি¤œধাপের পরিবর্তে উচ্চ ধাপে বেতন নির্ধারণ করার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থ সচিব শিক্ষক নেতাদের।

অপর দিকে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১ গ্রেডে বেতন নির্ধারণের দাবি আগামীতে বিবেচনা করা হতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে দেশে ফেরার পর সাক্ষাতের আশ্বাস পেয়েছেন নেতারা। জানা গেছে, গত রাত ১১টার পর প্রধানমন্ত্রী দেশে পৌঁছার কথা। তিন সচিবের সাথে বৈঠকের পর শিক্ষক নেতারা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ১১ ও ১৩ গ্রেড সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক এবং প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ নেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, উক্ত গ্রেডের সম্মতিপত্র পেলে তা দ্রুত কার্যকর করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষকদের আশঙ্কা এ গ্রেড বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিন কর্মরত প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন কমে যাবে। অর্থ সচিবের সাথে বৈঠকে সচিব এ ব্যাপারে শিক্ষক নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বেতন যেন না কমে তার ব্যবস্থা তিনি করবেন। অর্থ সচিব শিক্ষক নেতাদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন, এত দিন সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পর তার ফিক্সেশন হতো নি¤œ ধাপে। তার সাথে পার্সোনাল পে (পিপি) যোগ হতো।

 

যার পরিপ্রেক্ষিতে বেতন বৃদ্ধির পরের বছর কর্মচারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। কিন্তু এখন থেকে তা হবে না। এটি সব শ্রেণীর কর্মচারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে বলে শিক্ষক নেতাদের জানান অর্থ সচিব। এখন থেকে আর পিপি থাকবে না এবং যে ধাপে কোনো কর্মচারীর বেতন উন্নীত হবে, সে ধাপেরই তার বেতন নির্ধারণ হবে, না মিললে নি¤œধাপ নয়, উচ্চ ধাপেরই বেতন পাবেন তিনি। অর্থ সচিব শিক্ষক নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন, কোনো শিক্ষকের বেতন আর কমবে না, বরং বাড়বেই। কখনো যদি কেউ ক্ষতির মুখে পড়েন, তা হলে, যেন তাকে অবহিত করা হয়। প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে সহকারী শিক্ষকের বেতন নির্ধারণের দাবির ব্যাপারে কোনো বক্তব্যই শুনতে রাজি হননি বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

 

অর্থ সচিব এ বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করতে শিক্ষক নেতাদের নির্দেশ দেন। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনার মাধ্যমে আসতে হবে বলে অর্থ সচিব মত দেন। অর্থ সচিবের সাথে গতকাল দুপুর ১২টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন শিক্ষক নেতারা। এর পরপরই তারা প্রাথমিকের সচিবের সাথে বৈঠক করেন। প্রাথমিকের সচিবের সাথে উক্ত শিক্ষক নেতারা আশ্বস্ত করেন, কাক্সিক্ষত গ্রেড পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এখন যে গ্রেডেই বেতন নির্ধারণ করা হোক না কেন বেতন ফিক্সেশনের সময় ধাপে না মিললে উচ্চধাপে নির্ধারণ করা হবে।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দ প্রাথমিকের প্রতিমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন, প্রাথমিকের সব শিক্ষক সমাপনী পরীক্ষায় তাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার সাথে সাক্ষাৎ চেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে এলেই সাক্ষাতের সময় পাওয়া যাবে। সেখানে ১০ম ও ১১ গ্রেডের বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

শিক্ষক নেতারা জানান, অর্থ সচিবের সাথে তাদের বৈঠকের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি অর্থ সচিবকে শিক্ষক নেতাদের কথা শোনার অনুরোধ জানান। শিক্ষক নেতারা গত ১৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের দাবি উপস্থাপন করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ১১ ও ১৩ গ্রেডের ফলে, শিক্ষকদের বেতন কমে যাওয়ার শঙ্কার কথা অবহিত করেন।

প্রতিমন্ত্রী ও তিন সচিবের সাথে বৈঠকের জন্য প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের যেসব নেতৃবৃন্দ আমন্ত্রিত হয়েছিলেন, তারা হচ্ছেন আহ্বায়ক মো: আনিসুর রহমান, সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ, প্রধান মুখপাত্র মো: বদরুল আলম, প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, মুখপাত্র এন এ সিদ্দিকী বদিউল, প্রধান সম্পাদক আতিকুল ইসলাম, সদস্য বেগম বাঁধন খান ববি, মো: মশিউর আলম, জাকির হোসেন।

এই বিভাগের আরও খবরঃ