website page counter বেতন বৃদ্ধি: প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষকের খোলা চিঠি - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বেতন বৃদ্ধি: প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষকের খোলা চিঠি

সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ছে। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ পাওয়া ও প্রশিক্ষণবিহীন দুই ধরনের প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড হবে ১১তম। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড হবে ১৩তম।

বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে অর্থ বিভাগ সম্মতি দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিসহ প্রস্তাব পেলে এই পদেরও বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেডে উন্নীতকরণের প্রস্তাব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র প্রত্যাখ্যান করেছে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের নেতারা। ওই প্রস্তাব বাদ দিয়ে সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১ তম গ্রেডে নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষকরা তাদের দাবির পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি ঢাকার ধামরাইয়ের একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমস্যা সমাধানে লিখেছেন খোলা চিঠি। সাইদুল ইসলাম নামে ঐ শিক্ষকের ফেসবুকে দেওয়া লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা আপা।

প্রথমে আমার সহস্র কদমবুচি নিবেন! আমি জানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো আপনার নজরে আছে। পেটে ক্ষুধা থাকলে সে ছুটাছুটি করবে এটাই স্বাভাবিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনি মানবতার মা! আপনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন! শিক্ষকদের যেনো আর রাস্তায় নামতে না হয়! শিক্ষকেরা যেন বিদ্যালয়ে ফিরে যেতে পারে এবং পাঠাদানে মনোযোগী হয় সেই ব্যাবস্থা করে দিবেন আশাকরি!

নার্সরা যদি এইচএসসি পাশ করে ১০ম গ্রেড পেতে পারে কৃষিরা যদি এইচএসসি পাশ করে ১০ গ্রেড পায় তাহলে আমরা ডিগ্রিধারী শিক্ষকেরা কেন ১১ গ্রেড পাবো না!

একজন শিক্ষক অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে ৯৭০০ টাকা বেতন পান সর্বসার্কুল্যে ১৬০০০ টাকা! এই ১৬ হাজার টাকা দিয়ে কিভাবে তার পরিবার কে চালাবেন?

একটি বাসা ভাড়া নিতে গেলে নূন্যতম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগে। বাকি টাকা দিয়ে কি পরিবার চালানো সম্ভব? বাকি টাকা দিয়ে মাসের ১৫ দিন টেনেটুনে চলতে হয় এবং ১৫ দিন মুদির দোকানে ঋণ করে চলতে হয়। বর্তমানে এক কাপ চায়ের দাম ৫ টাকা সেখানে শিক্ষকের মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকা!

একটা ছেলে যখন অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে চাকরিতে নিযুক্ত হয় তখন তার বাবা মা এবং তার পরিবার তার ওপরে অনেক আশা ভরসা করে! আমরা সেই হতভাগ্য শিক্ষক আমরা আমাদের বাবা মায়ের সেই আশাটুকু পূরণ করতে পারি না!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর! আপনি মানবতার মা! আপনি পারেন না এমন কিছুই নেই! আপনি চাইলে সবকিছু করতে পারেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি শুনেছি! আপনি একদিন এক বক্তব্যে বলেছিলেন,আওয়ামী লীগ মানে বিলাশ বহুল জীবন যাপন নয়!

আওয়ামী লীগ মানে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো!আমার বিশ্বাস আপনি এই অসহায় শিক্ষকদের ফিরিয়ে দেবেন না! আমার দীর্ঘ বিশ্বাস আপনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষকদের সসম্মানে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেবেন। আর আমরা শিক্ষকেরা যেনো আপনাকে সারা বিশ্বের মধ্যে আবারও একবার মাদার অব হিউম্যানিটি উপহার দিতে পারি।আমার সামান্য কথাগুলো আপনি বিবেচনা করে দেখবেন।

এই বিভাগের আরও খবরঃ