website page counter লালমনিরহাটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য - শিক্ষাবার্তা ডট কম

বুধবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য

মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফা লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ

সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও আইন অমান্য করে প্রশাসনের নাকের ডগায় লালমনিরহাটে চলছে রমরমা কোচিং-প্রাইভেট বাণিজ্য। পুরানো কৌশল পরিবর্তন করে শিক্ষকরা নতুনভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের এই শিক্ষা বাণিজ্য। লালমনিরহাট জেলা শহরের খোর্দ্দসাপটানা (অভিযান পাড়ায়) অবস্থিত এভারগ্রীন কোচিং সেন্টারে গেলে দেখা যায় বেশ খোলামেলা ভাবেই কোচিং পরিচালিত হচ্ছে। যেখানে বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস করছে।

শিক্ষকদের জন্য সরকার কোচিং বাণিজ্য নিষিদ্ধ করলেও, লালমনিরহাটে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষকগন সুকৌশলে পরিকল্পনা করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের এই কোচিং বাণিজ্য। বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলের দিকে এভারগ্রীন কোচিং সেন্টারে শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে গেলে সেখানকার শিক্ষকগন সাংবাদিকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। সরকারি বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও এমপিও ভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বাসা ভাড়া নিয়ে নামে-বেনামে চালাচ্ছেন এই কোচিং বাণিজ্য।

কোন কোন শিক্ষক নিজের বাড়িতে ৩০/৩৫ জোড়া বেঞ্চ তৈরী করে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। একদিন পর পর এক একটি ব্যাচ পড়ানো হয়। এভাবে ৭/৮টি ব্যাচ পড়ানো হচ্ছে। ফলে ওই সব স্কুলের শিক্ষকরা বিভিন্ন অজুহাতে অনুপস্থিত থেকেও দেদারসে চালাচ্ছে কোচিং প্রাইভেট বাণিজ্য।

কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের নেতা সেজে কোচিং সেন্টার চালাচ্ছে এবং বীরদাপটে বলছেন সারাদেশে অভিযান চললেও আমাদের কোচিং সেন্টারে কেউ অভিযান চালাতে পারবেন না, সব ম্যানেজ করা আছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ কার্যক্রম চলায় দরিদ্র শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা হতাশা জানিয়েছেন। আর এসব কোচিং সেন্টারে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ও বিকেলে এমন কি সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে শিক্ষকদের প্রাইভেট পাঠদান। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরেই রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক কোচিং সেন্টার। অবৈধ কোচিং চালানোর বিরুদ্ধে দেশে আইন থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগ না থাকায় দিনে দিনে কোচিং, প্রাইভেট সেন্টার ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে। ফজলল করিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সামনে কোয়ান্টাম কোচিং সেন্টার, টিএন্ডটির সামনে ভারটেক্স কোচিং সেন্টার, গিয়াস উদ্দিন স্কুলের সামনে আইডিয়াল কোচিং সেন্টার, লাইসিয়াম কোচিং সেন্টার, এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশে অংকুশ কোচিং সেন্টার, নয়ারহাটে রেনেসাঁ কোচিং সেন্টার, সাপ্টিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সেল্ফ কোচিং সেন্টার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, ‘স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে ঠিকভাবে ক্লাস হয় না।

বছরের শুরুতে বিনামূল্যে বই সরকার দিলেও সময়মত ক্লাস নিচ্ছে না শিক্ষকরা। কোচিংয়ে পড়ানোর বিষয়ে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে অনেকেই বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এমন কোন প্রতিষ্ঠান নেই যার ২/৪ জন্য শিক্ষক প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্যের সাথে যুক্ত নেই। যার প্রমান পাবেন জেলা শহরের এভারগ্রীন কোচিং সেন্টারে গেলে। ১৪ বছর ধরে জেলা শহরের এভারগ্রীণ কোর্চিং সেন্টারসহ প্রায় সব কোচিং সেন্টারই বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষকরাই চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানেই রয়েছে এমপিও ভুক্ত বিভিন্ন স্কুল কলেজের ৬/৭ জন শিক্ষক। আর তারাই পরিকল্পনা করে চালিয়ে যাচ্ছে কোচিং বাণিজ্য। কিন্তু আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনা। দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম বলছেন, অ্যামিকাস কিউরিসহ সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে হাইকোর্ট সরকারি স্কুলে কোচিং বাণিজ্য ‘অবৈধ’ বলে রায় দিয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবরঃ