website page counter কালীগঞ্জে এক মাদ্রাসার সব পরীক্ষার্থীই ভুয়া! - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শুক্রবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে এক মাদ্রাসার সব পরীক্ষার্থীই ভুয়া!

মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফা লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বৈরাতি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর ২২জন শিক্ষার্থী জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষা শুরুর দিনই অনুপস্থিত ছিল ৬ জন। আর বুধবার, ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ১২জনে।অভিযোগ উঠেছে এসব পরীক্ষার্থীর সবাই ভুয়া।অনুপস্থিত ১২জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২জনকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে ভুয়া হিসেবে।জানা গেছে, চলতি বছরের ২ নভেম্বর থেকে সারা দেশে জেডিসি পরীক্ষা শুরু হলে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বৈরাতি দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে। উপজেলার কাকিনাহাট মোস্তাফিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর দিনেই ওই মাদ্রাসার ৬জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।বাকী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে এলে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তার চোখে শিক্ষার্থীদের অনেকের বয়সের বিষয়টি ধরা পড়ে।

এরপর তিনি তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি তার নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটির হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়া অনেকেই বিভিন্ন স্কুলও কলেজ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রী।এদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলার বাবর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী সিতুলী বেগম জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। জেডিসি পরীক্ষায় তার রোল নম্বর ২৩৮৭৮৪।

আরেক ছাত্রী আফসিন খাতুন । তিনি করিম উদ্দিন পাবলিক ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৩.৪৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনিও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। আফসিন খাতুনের রোল নম্বর ২৩৮৭৮৬।ওই দিন থেকেই বাকী শিক্ষার্থীরা বিষয়টি আচ্ করতে পেরে ওই ২ শিক্ষার্থীসহ আরো ৪ শিক্ষার্থী বাকি পরীক্ষাগুলোতেঅনুপস্থিতরয়েছেঅনুসন্ধানকালে জানা গেছে, বৈরাতি দাখিল মাদ্রাসার সুপার ফাতেমা বেগম ও তার স্বামী আবুল কাশেম এসব ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছেন।১৯৯৭ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করে এখন পর্যন্ত ১৭জন শিক্ষককে নিয়োগ দিয়েছেন সুপার । আর এসব শিক্ষকদের প্রত্যেকের নিকট থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা ।বুধবার, ১৩ নভেম্বর সরেজমিন গিয়ে বৈরাতি এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই তিন বছর থেকেই মাদ্রাসাটি বন্ধ রয়েছে । জরাজীর্ণ মাদ্রাসাঘরটির ভিতরে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় বখাটেরা জুয়ার খেলার আসর বসান ।

এই বিভাগের আরও খবরঃ