website page counter শিক্ষক জাতির কান্ডারী - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক জাতির কান্ডারী

মো. সাজ্জাদ হোসেন।।

“ যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত উন্নত ।” দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছেন
“Education is the most powerful Weapon that we can use to Change the World.”(1918-2013)
শিক্ষা হচ্ছে মানুষের শক্তি । শিক্ষা মানুষের মনের চোখ খুলে দেয় । শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের অন্তরাত্মা পরিশোধিত হয় । শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্বের বিকাশ লাভ করে । শিক্ষার দ্বারা মানুষের আত্মা ও বুদ্ধির বিকাশ হয় । শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন করে । শিক্ষা দেশপ্রেম জাগ্রত করে । শিক্ষা মানুষকে মানবিকতাবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে তৈরি করে । শিক্ষাদানের সমস্ত দায় দয়িত্ব গুলো শিক্ষক পালন করে । শিক্ষক ছাড়া শিক্ষাদান সু-সম্পন্ন হয় না ।একজন শিশুর পৃথিবীতে আগমনের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তার পরিবারের মা,বাবা,ভাই-বোন সহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের নিকট থেকে প্রাথমিক কিছু অক্ষর জ্ঞান ও আদব কায়দা সম্পর্কিত কিছু জ্ঞান অর্জন করে থাকে । মা ই তার প্রথম শিক্ষক হিসেবে আবির্ভাব হয় । মায়ের কাছেই শিশু তার নীতি নৈতিকতা ও আদব কায়দা বোধটুকু শেখে ।

বিশ্ব বিখ্যাত সম্রাট নেপোলিয়ান বোনাপার্ট বলেছেন-“ মায়ের শিক্ষাই শিশুর ভবিষ্যতের বুনিয়াদ ।”
নির্দিষ্ট বয়স সীমায় শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য বিদ্যালয় গমন করে । বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর শিক্ষার হাতখেড়ি শুরু হয় । শিশুর অক্ষর জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষা দানের জন্য একদল শিক্ষক মন্ডলীকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় । শিশুর অক্ষর জ্ঞান ও নৈতিক গুনাবলীর শিক্ষা তাদের মাধ্যমেই সু-সম্পন্ন হয় ।শিশুর কচি মনে ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষা দিতে হয় । শিশু যা কিছু বিদ্যালয়ে শেখে তার সবকিছুই আবার ভুলে যাই । পারিবার ও সামাজের অনেক কিছুই শিশুর মনে গ্রথিত হয় । এজন্য শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষকদের প্রতিদিনই নতুন করে শিশুর গ্রহণ উপযোগী জ্ঞান দান করতে হয় । যা অনেকটা কস্টসাধ্য ।

বিশ্ব বিখ্যাত দার্শনিক প্লেটো বলেছেন-“ শিশুর ধারণ ক্ষমতা অনুসারে তাকে শিক্ষা দেওয়া উচিত তবেই সে একদিন কালজয়ী বিশেষজ্ঞ হতে পারবে ।”

প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক,উচ্চ-মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় সকল ক্ষেত্রে একদল শিক্ষক নিয়োজিত থাকে । সবার অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ছোট্ট্র শিশু পরিপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পর্ব শেষ করে ।
শিক্ষক শুধু জ্ঞান দানই করে না । শিক্ষক শিক্ষার্থীকে বিকশিত করে । শিক্ষক শিক্ষার্থীর চারিত্রিক দৃঢ়তা তৈরি করে । শিক্ষক তার সকল ধ্যান জ্ঞান ও সাধনার মাধ্যমে জ্ঞান বিজ্ঞান ও নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত জনশক্তি তৈরি করে । শিক্ষিত জনশক্তি দেশের সম্পদ । শিক্ষিত জনশক্তি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই । শিক্ষকতা একটি সেবামূলক মহৎ পেশা । এই মহৎ পেশার মানুষ গুলো তাদের মেধা দিয়ে, সততা দিয়ে, সবোর্চ্চ আন্তরিকতা দিয়ে জাতিকে শিক্ষার আলো বিলিয়ে দিচ্ছে ।

শিক্ষক শুধু শিক্ষাদানের মধ্যেই তার দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখে নি । যুগে যুগে কালে কালে পৃথিবীতে যত শিক্ষকের আবির্ভাব ঘটেছে সবাই মানষের জন্য,মানব সভ্যতার কাজ করেছেন । শিক্ষক সকল জাতির ক্ষেত্রে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে । দেশ মাতৃকার সংকট কালীন মুহুর্তে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের জম্নভূমিকে রক্ষার জন্য প্রাণপণ লড়াই করেছেন । স্বদেশী আন্দোলন,স্বাধীকার অন্দোলন,গণতান্ত্রিক আন্দোলন,মহান মুক্তিযুদ্ধ সহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে শিক্ষকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং অকাতরে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন ।

আমাদের সামনে জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে আছে মাস্টার দা সূর্যসেন ,যার নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী ১৯৩০ সালে চট্ট্রগ্রামের ব্রিটিশ সরকারের অস্ত্রাগার লুন্ঠন করেছিলেন । ১৯৬৯ সালে স্বৈরাচার আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের অত্যাচার থেকে ছাত্রদের কে রক্ষা করতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড.শামসুজ্জোহা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন । ড.শামসুজ্জোহা ছিলেন প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ।

পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার আইয়ুব খানের পতন ঘটেছিল ।মহান মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন । ২৫ শে মার্চ থেকে ১৬ ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৬৮ জন শিক্ষাবিদ ও ২১ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের মহান শিক্ষক পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে জীবন দিয়েছিলেন ( তথ্য সূত্র-বাংলা পিডিয়া । দেশের তথ্য প্রযুক্তি,শিক্ষা চিকিৎসা,কৃষি,শিল্প, ও উন্নয়ন অগ্রগতির সকল ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে । একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক ,মাধ্যমিক,উচ্চ-মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভের মাধ্যমে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আত্মনিয়োগ করে । জীবনের সর্বক্ষেত্রে শিক্ষকদের নিকট থেকে লব্ধ জ্ঞান তার চলার পথের আলোর দিশারী হয়ে পথ চলতে সহযোগীতা করে । অনন্ত কালে ও সেই জ্ঞানের কোন ক্ষয় হয়না ।

একজন শিক্ষক তার ছাত্রের কাছে যে জ্ঞান বিলিয়ে দেয় তা আজীবন তাকে তার ভবিষ্যৎ চলার পথকে সহজ করে দেয় । বিদ্যার পাশাপাশি সেই শিক্ষক ও তার কাছে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকে । জীবন চলার পথে কঠিন সময়ে সেই শিক্ষক ও তার বিলিয়ে দেওয়া জ্ঞান ছাত্রের জীবন কে পরিবর্তন করে দিতে পারে ।
হেনরি এ্যাডামস বলেছেন-“ শিক্ষকের প্রভাব অনন্তকালে গিয়ে ও শেষ হয় না ।”

লেখক-
প্রভাষক,হিসাব বিজ্ঞান
লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজ ।
নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া ।

এই বিভাগের আরও খবরঃ