website page counter শিক্ষকের মধ্যে বৈষম্য দূর হোক - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকের মধ্যে বৈষম্য দূর হোক

আমাদের মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষকের সিংহভাগই বেসরকারি। মাত্র ২ ভাগ সরকারি শিক্ষক যে বেতন-ভাতা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, বেসরকারি শিক্ষকরা তা থেকে বহুলাংশেই বঞ্চিত। রোববার সমকালে প্রকাশিত ‘সরকারি-বেসরকারি বেতন বৈষম্য তীব্র শিক্ষকতায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তাতে আমরা বিস্মিত।

বেতন-ভাতা ও পদমর্যাদা সব ক্ষেত্রেই এই বৈষম্য স্পষ্ট। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে আর বেসরকারি শিক্ষক বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে নিয়োগ পেলেও উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এবং একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দিনের পর দিন তাদের মধ্যে কেন এই বৈষম্য? এমনিতেই আমাদের দেশে শিক্ষকদের বেতন বেশি নয়।

তার ওপর সরকারি-বেসরকারি বিভাজন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি, বিধি অনুসারে বেসরকারি শিক্ষকেরও বেতনের সমপরিমাণ বাড়ি ভাড়া ও দেড় হাজার টাকা চিকিৎসাভাতা পাওয়া উচিত। যেখানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তার পদমর্যাদায় রয়েছেন, সেখানে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনো পদমর্যাদা নির্ধারিত থাকবে না- এ কেমন কথা! বেসরকারি শিক্ষকদের পদোন্নতি নেই বললেই চলে।

উৎসব ভাতা, সন্তানদের শিক্ষা ও নানাবিধ ভাতাসহ অবসরকালীন সুবিধায় যে বৈষম্য রয়েছে, তা যৌক্তিক মাত্রায় কমানো দরকার বলে আমরা মনে করি। এটা হয়তো ঠিক, আগে বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষকরা নানাভাবে নিয়োগ পেয়েছেন, যাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কিন্তু এখন যেহেতু এনটিআরসিএ নিয়োগ নিশ্চিত করছে, সেখানে এ প্রশ্ন তোলার অবকাশ সামান্যই। তারপরও সরকারি-বেসরকারি সুযোগ-সুবিধায় কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু বৈষম্য নয় অবশ্যই।

আমাদের মনে রাখা দরকার, তারা প্রত্যেকে একই সিলেবাসে পাঠদান করেন এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় বেসরকারি শিক্ষকদের অবদান ও অংশগ্রহণ বেশি। ফলে বেশিসংখ্যকই সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা উচিত। আমরা এও জানি, বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এমপিওভুক্ত নন। যারা এমপিওভুক্ত তারা অন্তত সরকারি পর্যায়ের শিক্ষকদের কাছাকাছি সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন। আর বাকিদেরও কীভাবে যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করা যায়, তাও ভাবা প্রয়োজন। মোটের ওপর আমরা চাই, শিক্ষক সমাজের মধ্যকার সার্বিক বৈষম্যের নিরসন হোক।

এই বিভাগের আরও খবরঃ