website page counter নতুন গ্রেড মানছেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নতুন গ্রেড মানছেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা

অর্থমন্ত্রণালয় থেকে সম্মতি পাওয়া প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ১১ তম, সহকারি প্রধান শিক্ষকদের ১২ তম এবং সহকারি শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডের বিষয়টি মানছেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা। বেতন বৃদ্ধি এবং নতুন গ্রেডে সম্মতি দিয়ে ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ । এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিসহ প্রস্তাব পেলে এই পদেরও বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

বর্তমানে প্রশিক্ষণ পাওয়া প্রধান শিক্ষকেরা ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকেরা ১২তম গ্রেডে বেতন পান। অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকেরা ১৪তম গ্রেডে ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকেরা ১৫তম গ্রেডে বেতন পান। আর বর্তমানে সহকারী প্রধান শিক্ষকের কোনো পদ নেই।

এসম্মতির বিষয়ে আন্দোলনকারী বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সদস্যসচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দিন বলেন, গ্রেড এবং বেতন বৃ্দ্ধির বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছি। সাক্ষাৎ হলে প্রধানমন্ত্রী যে বেতন গ্রেড নির্ধারণ করে দেবেন সেটা আমরা মেনে নেবো।। যদি ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে আবারও আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে। তাঁদের চাওয়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড হবে ১০ তম এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড হবে ১১ তম গ্রেডে।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং ঐক্যপরিষদের প্রধান মুখপাত্র মো. বদরুল আলম (মুকুল) এডুকেশন বাংলাকে বলেছেন, তাহলে আমরা ভেবে নিতে পারি যে আমাদের মন্ত্রণালয় এই ধরনের একটা প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় এ ধরনের একটি সম্মতি পত্র প্রদান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধান শিক্ষকগণ তো ১১তম গ্রেডে আছেই আবার নতুন করে ১১ গ্রেডে প্রদানের সম্মতি প্রদান করার বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়।

বদরুল আলম বলেন, আমরা সম্পুর্নভাবে এই সন্মতিপত্র প্রত্যাখান করছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ এই সম্মতি পত্র কোন অবস্থাতেই মানতে পারেনা। আমরা চাই প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১ গ্রেড এর বিকল্প কোন প্রস্তাব আমাদের কাছে গ্রহণ যোগ্য নয়।

বাংলাদেশ সহকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের সভাপতি আনিছুর রহমান এডুকেশন বাংলাকে বলেন, আমাদের সহকারি শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড বেতন দিলে আর্থিকভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন অধিকাংশ শিক্ষক। কারণ বর্তমানে শতকরা ৯০ভাগ শিক্ষকই একাধিক টাইমস্কেল পেয়ে ইতোমধ্যে ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। তাদের যদি আবার ১৩তম গ্রেডে নামিয়ে বেতন স্কেল নির্ধারন করা হয় তাহলেতো আমরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আমরা এই সম্মতি প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি আরও বলেন, সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং সহকারি শিক্ষক একই গ্রেডে অর্থাৎ ১১ তম গ্রেডে রাখলেইতো হয়। এখানে সহকারি প্রধান শিক্ষকদের আবার ১১ তম গ্রেড দিতে হবে কেন? জনাব আনিছ আরও বলেন, সরকার একবার পে স্কেল ঘোষণা করেছে আবার নতুন করে স্কেল নির্ধারণ করারতো প্রয়োজন নাই।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন আজ মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের সম্মতি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এখন বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১ তম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁরা ঢাকায় সমাবেশ করে আসন্ন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বর্জনেরও হুমকি দিয়েছিলেন। অবশ্য পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করার পর শিক্ষকেরা পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

এই বিভাগের আরও খবরঃ