website page counter অবশেষে আত্মসাতের টাকা ফেরত দিলেন সেই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অবশেষে আত্মসাতের টাকা ফেরত দিলেন সেই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনএম শরীফুল ইসলাম খন্দকার ওই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোবদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রুটিন মেইনটেন্যান্সে ৪০ হাজার এবং স্লিপ প্রকল্পের ৫০ হাজার টাকা অবশেষে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার বিকেলে সেই সরকারি অর্থ দুটি চেক মূলে সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখায় বিদ্যালয়ের নিজস্ব হিসাব নম্বরে জমা দেন তার অফিসের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম।

জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোবদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রুটিন মেইনটেন্যান্সে ৪০ হাজার এবং স্লিপ প্রকল্পের ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি যথাযথভাবে কাজ শেষ করে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহসিন আলীর সুপারিশ ও কাজের ব্যয় ভাউচার দিয়ে বিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যাংক হিসাব নম্বরে বরাদ্দের বিল দেয়ার আবেদন করেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনএম শরীফুল ইসলাম খন্দকার শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে সরকারি কোষাগার থেকে সব অর্থ উত্তোলন করলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিল পরিশোধ করেননি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সেই বিলের জন্য চাপ দিলে টালবাহনা করেন শিক্ষা অফিসার। সেই বিল উত্তোলনে নিরুপায় হয়ে আদালতের আশ্রয় নেন বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ মামলা করতে বিধিমতে প্রথমে অভিযুক্তকে লিগ্যাল নোটিশ দেন তিনি।

লালমনিরহাট জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটনের মাধ্যমে গত ৬ নভেম্বর স্বাক্ষরিত একটি লিগ্যাল নোটিশ শিক্ষা অফিসার বরাবরে পাঠানো হয়। যেখানে নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে আত্মসাৎকরা দুই প্রকল্পের ৯০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব নম্বরে দিতে বলা হয়। অন্যথায় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার অপরাধে কেন দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করা হবে না তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়।

লিগ্যাল নোটিশের বরাত দিয়ে ‘টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শিক্ষা অফিসারকে সভাপতির লিগ্যাল নোটিশ’ শিরোনামে একটি সংবাদ বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশিত হয় গত দুই দিন ধরে। এতে বেরিয়ে আসে শিক্ষা অফিসের দুর্নীতির চিত্র। শিক্ষা অফিসার উপজেলার দীঘলটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়সার উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুটিন মেইনটেন্যান্সে ও স্লিপ প্রকল্পের বরাদ্দও উত্তোলন করে নিজের কাছে রাখেন।

অবশেষে আত্মসাৎ করতে ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে দুটি চেক মূলে বিদ্যালয় তিনটির স্ব-স্ব হিসাব নম্বর সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখায় জমা করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম সেই চেক ব্যাংকে জমা করেন।

আদিতমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনএম শরীফুল ইসলাম খন্দকারের অফিসে একাধিক বার গিয়েও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইলে ফোনে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে তার অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গোবদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দীঘলটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কয়সার উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুটিন মেইনটেন্যান্সে ও স্লিপ প্রকল্পের ভ্যাট কর্তন করে পাওনা এক লাখ ৯৯ হাজার একশ টাকা অফিস হিসাব নম্বরের দুটি চেক মূলে স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের হিসাব নম্বরে জমা দেয়া হয়েছে। তবে অর্থ বছর শেষ হওয়ার ৫ মাস পরে কেন পরিশোধ করা হলো সে বিষয়টি তার জানা নেই বলেও জানান তিনি।

সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মোতাহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অফিস ছুটির প্রাক্কালে শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী দুটি চেক মূলে তিনটি বিদ্যালয়ের হিসাব নম্বরে মোট এক লাখ ৯৯ হাজার একশ টাকা জমা দিয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবরঃ