website page counter রাবি ছাত্রলীগে ‘অনুপ্রবেশকারী’ কে এই মেজবাহ? - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাবি ছাত্রলীগে ‘অনুপ্রবেশকারী’ কে এই মেজবাহ?

মো. মেজবাহুল ইসলাম ওরফে মেজবাহ’র বাবা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি, মামা উপজেলা জামায়াতের আমির। এমনকি তিনি নিজেও শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের এই সহসভাপতির বিরুদ্ধে।

গত শনিবার একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওই অভিযোগ সংবলিত একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে কিছু তথ্য-প্রমাণও তুলে ধরা হয়। পোস্টে মিজবাহ সম্পর্কে বলা হয়, ‘এ কী করে ছাত্রলীগে পদ-পদবি পায়? জঙ্গি মামলার আসামির সন্তান এখন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি! সে নিজেও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সহসভাপতি ছিল, তার মামা উপজেলা জামায়াতের বর্তমান আমির…।’

তবে রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. মেজবাহুল ইসলাম ওরফে মেজবাহ’র দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আগামী সম্মেলন থেকে সরিয়ে দিতে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।

রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র মেজবাহ’র বাবা মো. আবদুস সাত্তার কাদেরী। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের এই বাসিন্দার নামে রয়েছে সন্ত্রাসী মামলার অভিযোগপত্র।

গত শনিবার ÔJoya Hasan Diya’ নামে ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা একটি নথিতে দেখা যায়, দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বজলুর রশিদ ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে আবদুস সাত্তারসহ তিনজনকে গোপন বৈঠকে মিলিত হওয়ার ষড়যন্ত্র করায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধিত/২০১৩) এর ৮/১০ ধারা অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি মেজবাহ’র বাবা আবদুস সাত্তারকে একজন পলাতক আসামি হিসেবে অভিযোগপত্রে দেখানো হয়।

ওই অভিযোগপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে এসআই মো. বজলুর রশিদ বলেন, ‘জেলা ডিবির এসআই মো. ফরিদুল ইসলাম দিনাজপুর কোতোয়ালী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি অভিযোগ (নম্বর : ১১১৭) দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই আমি আদালতে চার্জশিট দাখিল করি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।’

রাবি ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মেজবাহুলের বাবা নিষিদ্ধঘোষিত একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তার বড় ভাই কাহারোল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিল। তার মামা আবদুল গণি মাস্টার বর্তমান উপজেলা জামায়াতের আমির। এ ছাড়া সে নিজেও ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। মূলত বাবার অপকর্ম ঢাকতেই মেজবাহুল ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করেছে।’

এ বিষয়ে কাহারোল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শেখর কুমার দাস বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে তাকে (মেজবাহ) কখনো ছাত্রলীগ করতে দেখিনি। তবে তার মামা উপজেলা জামায়াতের বর্তমান আমির। বর্তমানে জামায়াত-শিবির “আন্ডারগ্রাউন্ড” এর দল হয়ে গেছে। সে আগে শিবির করত কি না তা আমার জানা নেই। এ ছাড়া শুনেছি তার বাবার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস আইনে মামলা রয়েছে।’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. মেজবাহুল ইসলাম বলেন, ‘সামনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন রয়েছে। সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আমার একটা আবেদন আছে। আর ষড়যন্ত্রকারীরা এটা বুঝতে পেরে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ মেজবাহ আরও বলেন, ‘একটি ফেসবুক আইডি থেকে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে বলা হয়েছে, আমি নাকি উপজেলা ছাত্র শিবিরের সহসভাপতি ছিলাম। কিন্তু ছাত্র শিবিরের সহসভাপতি নামে কোনো পদবি নাই। এতেই প্রমাণিত হয়, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

বাবার মামলার বিষয়ে ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘মামলার বিষয়ে সত্যতা আছে। আমার বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তবে ওই মামলায় বাবার নাম থাকাতে হতবাক আমরাও হয়েছি। আদালত এখনো চার্জশিট গ্রহণ করেননি। চার্জশিটের ওপর শুনানি চলছে। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা বুঝতে পেরেছে যে, মামলা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে এবং আমার বাবা জয়ী হবে। এ জন্য তারা এই বিষয়টা সামনে এনেছে।’

মামার রাজনীতি প্রসঙ্গে মেজবাহ বলেন, ‘আমার মামা উপজেলা জামায়াতের আমির ঠিক আছে। তবে তার সাথে আমার আদর্শগত মিল থাকতে হবে তা তো নয়।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সার আহম্মেদ রুনু বলেন, ‘আমরা বিষয়টি শুনেছি। তার ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এই বিভাগের আরও খবরঃ