website page counter জাতীয়করণ আদায়ে বার বার ব্যর্থ হওয়া মানে সফলতা উঁকি মারছে - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জাতীয়করণ আদায়ে বার বার ব্যর্থ হওয়া মানে সফলতা উঁকি মারছে

আমাদের স্বপ্নের জাতীয়করণ আদায়ের মূলমন্ত্র হউক সকলের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এনে দিতে পারে আমাদের স্বপ্নের জাতীয়করণ আদায়ের স্বাদ।

প্রতিটি সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। আমাদের জাতীয়করণের স্বপ্ন পূরণ হবে একদিন সেদিন বেশি দূরে নয়। জাতীয়করণ আদায়ের পথটা কঠিন কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে সফলতা এসে যাবে। হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। এগিয়ে যেতে হবে সফলতার মূলমন্ত্রকে অন্তরে ধারণ করে।

ব্যর্থতার মধ্যেই সফলতার বীজ লুকায়িত। ব্যর্থতাকে সফলতায় রুপ দিতে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আমাদের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছি এই নয় যে, আমরা সফলতা পাব না। বার বার চেষ্টার ফলে আমরাও আমাদের দাবি আদায়ে সক্ষম হব। যদি আমরা সঠিক পথ ধরে সামনে এগিয়ে যাই তাহলে একদিন সফলতা অর্জন করবই। মনে রাখতে হবে ব্যর্থতাই সফলতার চাবি কাঠি। আমরা কিন্তু পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম বার বার ব্যর্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে। আমরা আমাদের দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য। সকলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফসল আমাদের দেশের স্বাধীনতা।

পৃথিবীর ইতিহাস বলে প্রতিটি কাজের সফলতা এসেছিল বার বার ব্যর্থ হওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে। বার বার ব্যর্থ হওয়ার কারণে এসেছিল কাজের গতি। বেড়ে গিয়েছিল সফলতা অর্জনের স্পৃহা। বদলে গিয়ে ছিল কাজের পরিকল্পনা। নিত্য নতুন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়েছিল কাজের গতি বৃদ্ধিতে।

আমাদের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া দাবি আদায় করা কখনো সম্ভব নয়। আমাদের ব্যর্থতার জন্য আমরাই প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে আমরাই দাায়ী। আমাদের মধ্যে নেই ঐক্য, নেই একতা, নেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। সঠিক পরিকল্পনা সফলতা অর্জনে অতীব জরুরি। জাতীয়করণ আদায়ের জন্য প্রয়োজন সকল শিক্ষক সংগঠন গুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা।

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য প্রয়োজন সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে এক প্লাটফর্মে আসা। জাতীয়করণ আদায় ছাড়া বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মুক্তি নাই। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে এসে জাতীয়করণ আদায়ে সোচ্চার হওয়া । সংগঠন যার যার জাতীয়করণ সবার।

দাবি আদায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া সম্ভব নয়। আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্য গড়ে তুলার জন্য এগিয়ে যাই। সংগঠনের মধ্যে বিভাজন থাকলে জাতীয়করণ আন্দোলন পিছিয়ে যাবে। আমাদের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। কোন সংগঠনের একার পক্ষে জাতীয়করণ আদায় করা সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় এনে দিতে পারে সেরা সাফল্য। জাতীয়করণ আদায়ের মূলমন্ত্র হচ্ছে বৃহত্তর ঐক্য গঠন করা। যেকোনো কাজের সফলতা নির্ভর করে ঐক্যের ওপর। ঐক্য মজবুত হলে যেকোনো কাজের সফলতা আসতে বাধ্য।

আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন জাতীয়করণ আদায়ে তাই ঐক্য গঠনের বিকল্প কিছু হতে পারে না। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সংগঠন গুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গঠন করে আন্দোলনের ডাক দিলে সাধারণ শিক্ষক বৃন্দ আর ঘরে বসে থাকবে না। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়বে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে প্রতিটি সংগঠনের উচিত এক প্লাটফর্মে উপনীত হওয়া।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আজ পর্যন্ত কোন দাবিই আন্দোলন ছাড়া সফলতার মুখ দেখেনি। সফলতার পূর্ব শর্ত হলো বৃহত্তর ঐক্য। ঐক্য গঠন করে আন্দোলন করা যে যার মত করে কর্মসূচি পালন নয়। আন্দোলনের রুপ রেখা ঠিক করতে প্রত্যেক সংগঠন গুলোর নেতৃবৃন্দকে গোলটেবিল বৈঠকে বসতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সকলের মতামতকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

সংগঠন ভিন্ন হতে পারে কিন্তু জাতীয়করণ সবার এটা হতে হবে মূলমন্ত্র। এর বাইরে কোন পদক্ষেপ নিলে তা কখনো ফলপ্রসূ হবে না। আলোচনার মাধ্যমে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেক সংগঠনের সভাপতি এবং মহাসচিব /সাধারণ সম্পাদককে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে সফলতা অর্জন করার জন্য। সকল সংগঠনকে এক প্লাটফর্মে আনার চেষ্টা চালাতে হবে। আমরা মনে করি সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এক প্লাটফর্মে আসতে পারলে সফলতা আসবে পূর্ণাঙ্গ।

ঐক্য গড়ার জন্য চাই ক্লীন মনমানসিকতা। একে অপরকে ছাড় দিয়ে এগিয়ে আসা। প্রয়োজনে হতে পারে একে অপরকে এগিয়ে আসার জন্য উৎসাহিত করা । কোন সংগঠন যদি ঐক্য করতে অনীহা প্রকাশ করে কিংবা এগিয়ে না আসতে চায় তাহলে সেই সংগঠনকে বয়কট করে এগিয়ে যেতে হবে। দাবির বিপক্ষে অবস্থা নেয়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে বার বার বুঝানো যেতে পারে কিন্তু তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে তাদেরকে বাদ দিয়ে সামনে অগ্রসর হতে হবে।

আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক এটা কোন পরিচয় হতে পারে না। সমগ্র শিক্ষককে এক লেভেলে আনতে হবে। সরকারি কিংবা বেসরকারি এ দুইয়ের মধ্যে বিভাজন চাই না। কেউ সরকারি আবার কেউ বেসরকারি এটা শিক্ষা ব্যবস্থায় বেমানান। আমরা চাই সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা একই ধারায় পরিচালিত হউক। আমাদের ন্যায্য অধিকার আমাদেরকেই আদায় করতে হবে। কেউ আমাদের দাবিকে আদায় করে দিবে না। আমাদের মধ্যে বিভাজন থাকলে সুবিধা নিবে তৃতীয় পক্ষ। সরকার যেহেতু আমাদের দাবি দাওয়া কতটুকু যুক্তি সঙ্গত তা বিচার বিশ্লেষণ করছে। সেহেতু আমাদের মধ্যে বিভাজন থাকা উচিৎ নয়। খন্ড খন্ড আন্দোলন আমাদের দাবিকে হালকা করে দিচ্ছে। সরকার বুঝে গেছে আমাদের মধ্যে ঐক্য নেই। আর ঐক্য ছাড়া জাতীয়করণ আদায় করা সম্ভব নয়। আমরা ভিন্ন মতামত পোষণ করে নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করছি। আসুন আমরা একবারের জন্য হলেও বৃহত্তর ঐক্য গড়ি এবং দাবি আদায় করি।

আমরা আমাদের দাবিকে আদায় করব এই মূল মন্ত্রকে অন্তরে লালন করে আসুন আমরা সামনে এগিয়ে যাই। আমরা সফলকাম হব ইনশাল্লাহ।
মোঃ আবুল হোসেন
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
বাশিস ( কেন্দ্রীয় কমিটি)

এই বিভাগের আরও খবরঃ