website page counter মুখোমুখি অবস্থানে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষকরা - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মুখোমুখি অবস্থানে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষকরা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে মুখোমুখি অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। প্রাথমিকের শিক্ষকরা তাদের এক দফা দাবিতে অনড় থেকে সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। আর এ পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে সমাপনী পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি নিতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয় ও ডিপিই। আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে সারা দেশে একযোগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা-২০১৯ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্ষমতাসীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুসারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসনের প্রস্তাব দিয়ে যে সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক তা প্রত্যাখ্যান ও ফেরত পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের ১৪টি সংগঠন একত্রিত হয়ে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে কর্মসূচি ঘোষণা করে। সারা দেশের তিন লক্ষাধিক প্রাথমিকের শিক্ষক কর্মবিরতি পালন ও ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি পুলিশ পণ্ড করে দেয়ার মুখে আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের সুস্পষ্ট ঘোষণা দাবি করে আলটিমেটাম দেয়। অন্যথায় আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা বর্জনের হুমকি দেয় প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ।

এমনই প্রেক্ষাপটে গত পরশু বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) মো: সাবের হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, সারা দেশে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মোট সাত হাজার ৪৫৮টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন হাজার ৯৩১টি এবং উচ্চবিদ্যালয় ও মাদরাসায় তিন হাজার ৫২৭টি কেন্দ্র রয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কেন্দ্র নির্বাচন সম্পন্ন হলেও শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে মর্মে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘এমতাবস্থায় সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পাদনের লক্ষ্যে যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কেন্দ্রসচিব অথবা ইনভিজিলেটরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সে সব কেন্দ্রে প্রয়োজনে উচ্চবিদ্যালয় বা মাদরাসার প্রধান শিক্ষক/সুপারিনটেনডেন্ট/সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্ব দিয়ে পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিকল্প প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।’
সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষার সব বিভাগীয় উপপরিচালক, পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট, উপজেলা/থানা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টরকে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এ চিঠি গত পরশু রাত থেকে অদ্যাবধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষকদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাইরাল হয়েছে এবং শিক্ষকরা নানা মন্তব্যও করছেন। সাধারণ শিক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, মাধ্যমিকের শিক্ষকরা পরীক্ষা নিলো, কিন্তু এক মাসের মধ্যে সমাপনীর ফলাফল দিতে হলে, ৩০ লাখ উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে কিভাবে? কারা খাতা মূল্যায়ন করবে? মাধ্যমিকের শিক্ষকদের কি খাতা দেখার জন্য তিন দিনের মার্কিং স্কিল ট্রেনিং রয়েছে?

এ দিকে ডিপিই ও মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এ পদক্ষেপের পরও শিক্ষকরা তাদের দাবিতে ও কর্মসূচিতে অনড় বলে শিক্ষক নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়া দিগন্তকে জানান। সাধারণ শিক্ষকরা দাবি আদায়ের জন্য অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য নেতাদের কাছে দাবি তুলেছেন তাদের ফেসবুক গ্রুপে। ডিপিইর ওই চিঠি সম্পর্কে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কোনো নেতা গতকাল কোনো মন্তব্য করেননি। জানা গেছে, তারা মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তারা মাধ্যমিকের শিক্ষক নেতাদেরও প্রাথমিক শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এ দিকে গত সপ্তাহে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন এবং ডিপিইর মহাপরিচালকের সাথে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের পৃথক বৈঠক হয়েছে। আজ বিকেলে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আকরাম আল হোসেনের সাথে প্রাথমিক শিক্ষক নেতাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে একটি বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবরঃ