website page counter ৯ বছর পর এমপিও পাচ্ছে ২৬২৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শুক্রবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

৯ বছর পর এমপিও পাচ্ছে ২৬২৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

দীর্ঘ ৯ বছর পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হচ্ছে আজ বুধবার। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করবেন। প্রায় ২৬ হাজার ২৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউশনে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে কত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১৬২৪টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে বৈঠকে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে (স্কুল-কলেজ) ১৫৪৮টি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে ১০৭৯টি প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ সর্বমোট ২৬২৭টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হচ্ছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে এমপিওর জন্য অনুমোদন পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় আছে মাদ্রাসা দাখিল স্তরের ৩৫৯, আলিম ১২৭, ফাজিল ৪২ এবং কামিল স্তরে ২৯টিসহ মোট ৫৫৭টি। কারিগরি ক্যাটাগরিতে কৃষি স্তরে ৬২টি, ভোকেশনাল স্তরে ৪৮ এবং ভোকেশনাল সংযুক্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া এইচএসসি বিএম প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র ১৭৫, বিএম সংযুক্ত ১০৮টি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য হয়েছে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের কোন স্তরের কত প্রতিষ্ঠান সেটি জানা সম্ভব হয়নি।

গত ৮ দিন ধরে এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। গত সোমবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে আমরণ অনশনে নেমেছেন তারা।

এ ব্যাপারে গতকাল শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচি কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। এটা শিক্ষক, শিক্ষার্থী কারও জন্য মঙ্গলজনক নয়।’ অনশনে থাকা শিক্ষকদের চলমান এমপিও প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব আপনারা বাড়ি ফিরে যান। সরকার আপনাদের দাবির ব্যাপারে সচেতন আছে।’

মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘যোগ্য সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানের যে স্তর যোগ্য সেই স্তরকে এমপিও দেওয়া হচ্ছে। তবে হাওর, পার্বত্য অঞ্চল বা পিছিয়ে পড়া এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নারী শিক্ষায় অবদান রেখেছেন এমন প্রতিষ্ঠানও অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এবার এমপিও দিয়েই আমরা থেমে থাকব না। এগুলো নিয়মিত মনিটরিং হবে। কেউ ভবিষ্যতে যোগ্যতা ধরে রাখতে না পারলে তার এমপিও স্থগিত হয়ে যাবে। এটা শুধু নতুন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না, পুরনো প্রতিষ্ঠানকেও একই মাপকাঠিতে মনিটরিং করে তালিকা করা হবে। যারা নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হবে তাদের এমপিও স্থগিত করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ বছর এমপিও না দেওয়ায় সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এবার আমরা একটি নীতিমালার আলোকে নির্দিষ্ট মানদ-ের আলোকে এমপিও দিয়েছি। এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক বিবেচনা বা অন্য কোনো বিষয় এখানে কাজ করেনি।’

প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন থেকে প্রতি বছর এমপিও দেওয়া হবে। এতে তালিকা কমে আসার পাশাপাশি জটিলতা কমে আসবে। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের নীতিমালায় যেসব অসঙ্গতি রয়েছে সেগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামীতে আশা করি একটি নির্ভুল নীতিমালার আলোকে এমপিও দিতে পারব।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট) তৈরি করা বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সারা দেশে এমপিওভুক্তির আবেদন নেওয়া হয়। এমপিওভুক্তির নীতিমালা-২০১৮-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী, চারটি মানদ-ে প্রতিষ্ঠান যাচাই করা হয়। এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মোট আবেদন জমা পড়েছিল ৬ হাজার ১৪১টি। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন এমপি-মন্ত্রীদের তদবিরে বিশেষ বিবেচনায় এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির এই তালিকায় রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠান বাছাই করার পর দেখা যায়, সারা দেশের ৮৫টি উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। পরে সমতার স্বার্থে এসব উপজেলায় এমপিওভুক্তির নীতিমালার ২২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। পরে ২২ ধারা প্রয়োগ করে মোট ৬১টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের দুর্গম ও পার্বত্য এলাকা, পাহাড়ি, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকায় নীতিমালার ১৪ ধারা অনুসারে এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি এমন ৫৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৫০০ জন বা তার বেশি এবং কমপক্ষে দুই বছরের স্বীকৃতি থাকার শর্ত পূরণ করতে হয়েছে।

অনশনে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন : এদিকে নীতিমালা সংশোধনের দাবিতে এখনো অনশনে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। গতকাল মঙ্গলবারও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশনে ছিলেন সংগঠনটির দুশতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী।

ফেডারেশন সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমাদের অনশন চলছে। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। আন্দোলন থেকে সরে আসব এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। ’

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। তখনই অনেক প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ে। ৯ বছরের বেশি সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ থাকায় নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকাটি দীর্ঘ হয়। বর্তমানে সারা দেশের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবরঃ