website page counter ২৩ তারিখ কর্মস্থল ছাড়তে পারবেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শুক্রবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

২৩ তারিখ কর্মস্থল ছাড়তে পারবেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা

বেতন বৈষম্য নিরসন তথা সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে এবং প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ২৩ অক্টোবর রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৪টি সংগঠন নিয়ে গঠিত মোর্চা বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ।

এদিন ‘আখেরী চাহার সোম্বা’র উপলক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ছুটি থাকলেও ২৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মহাসমাবেশে যোগ দিতে কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি পাবেন না প্রাথমিকের শিক্ষকরা। ২১ অক্টোবর শিক্ষকদের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি না দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিভাগীয় উপ পরিচালক এবং জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।

মহাপরিচালক এফ এম মনজুর কাদির স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৩ অক্টোবর পবিত্র আখেরী চাহার সোম্বার বিদ্যালয় ছুটির দিনে কতিপয় শিক্ষক সংগঠন ঢাকায় শহীদ মিনারে বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে বলে জানা যায়। তাই, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে এ ছুটি উপলক্ষে কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি না দিতে নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

এদিকে ওই সমাবেশ উপলক্ষে কঠোর অবস্থানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। চাকরি বিধি ও মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী শিক্ষকদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে (ডিপিই-কে)।

মন্ত্রী-অতিরিক্ত সচিবের সাথে বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, আন্দোলনে যাওয়া শিক্ষকদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আমি বৈঠক করেছি-আলোচনা হয়েছে।

সচিব আরো বলেন, চিঠি দেয়া হবে, যারা সমাবেশে যাবে, তাদের ব্যাপারে কঠোরতম ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সচিব মো: আকরাম-আল-হোসেন আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে অর্থসচিবের সাথে কথা বলেছি এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথে অনেক দূর এগিয়েছি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব আকরাম-আল-হোসেন জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে সম্মত আলোচনার ভিত্তিতে নতুন গ্রেড অর্থাৎ প্রধান শিক্ষকদের ১১তম এবং সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১৩তম গ্রেডের প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। অর্থসচিবের সাথে আলোচনা হয়েছে সহকারী প্রধান শিক্ষকের একটি পদ সৃষ্টির ব্যাপারে। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে সহসাই নতুন করে বেতনবৈষম্য নিরসনের প্রস্তাব পাঠানো হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসনে মন্ত্রণালয় বসে নেই।

এদিকে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে এবং প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের দাবি আদায়ে দেশের ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষককে আগামী ২৩ অক্টোবর (বুধবার) সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঐক্য পরিষদের নেতারা।

আর এ দাবি আদায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গত ১৭ অক্টোবর পূর্ণদিবস, ১৬ অক্টোবর অর্ধদিবস, ১৫ অক্টোবর ৩ ঘণ্টা এবং এর ১৪ অক্টোবর কর্মসূচির প্রথমদিনে ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ ডাকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

যদিও বেতন বৈষম্য নিরসন প্রক্রিয়াধীন থাকা সত্ত্বেও ক্লাস বর্জন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ১৩ অক্টোবর এ নির্দেশনা দিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠি বিভাগীয় উপপরিচালকদের পাঠানো হয়।

আর বেতন বৈষম্য নিরসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কারও আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছিলেন ঐক্য পরিষদের নেতারা।

গত ১৫ জানুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা ছুটির তালিকায় জারি করা ‘সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি’তে আগামী ২৩ অক্টোবর আখেরী চাহার সোম্বার উপলক্ষে বিদ্যালয় ছুটি থাকবে বলে জানানো হয়েছিল।

এই বিভাগের আরও খবরঃ