website page counter প্রয়োজন জাতীয় কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শুক্রবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রয়োজন জাতীয় কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড

প্রকৌশলী রিপন কুমার দাস।।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পাঠ্যবই তৈরির উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পূর্ববঙ্গ স্কুল টেকস্টবুক কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তিতে ১৯৫৪ সালে টেকস্ট বুক আইন পাশ হয় এবং সেই আইন অনুযায়ী স্কুল টেকস্টবুক বোর্ড নামে একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৬, ১৯৬১ এবং ১৯৬৩ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ভাবে পুনর্গঠিত হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত “বাংলাদেশ স্কুল টেকস্টবুক বোর্ড” কর্তৃক ১ম থেকে ১০ম শ্রেণির সকল বিষয়ের সকল পাঠ্যপুস্তক নবজাত রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন, পরিমার্জন ও পুনর্লিখন কাজ করে। ১৯৭৮ সাল থেকে শিক্ষাক্রমের উপর ভিত্তি করে পাঠপুস্তক প্রণয়নের কাজ শূরু করে। ১৯৮১ সালে শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্র (এনসিডিসি)নামে পৃথক একটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষাক্রম উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজে সমন্বয় সাধনের জন্য পরবর্তিতে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ স্কুল টেকস্টবুক বোর্ড এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্রকে একীভূত করণের মাধ্যমে “জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড” গঠিত হয়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, যা এনসিটিবি নামে পরিচিত। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জনের জন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এবং যা জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসারে পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য শিখন উপকরণের উন্নয়ন ও পরিমার্জনের কাজ করে থাকে। এছাড়া এনসিটিবি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী, দাখিল ও ভোকেশনাল স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করে থাকে। পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের সংখ্যা অনুসারে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। অধিকন্তু এটিই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সবচেয়ে বড় স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান।

জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ অনুযায়ী এনসিটিবি’র কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক, নি¤œ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সিলেবাস ও শিক্ষাক্রম পরীক্ষা এবং সেখানে পুনর্বিবেচনা প্রস্তাব । শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচী এবং পাঠ্যপুস্তকগুলির কার্যকারিতা প্রাক পরীক্ষা এবং মূল্যায়ন । পাঠ্যপুস্তকগুলির পান্ডুলিপির প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা । পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ, বিতরণ ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা । পাঠ্যপুস্তক, পুরস্কারের বই, লাইব্রেরী এবং রেফারেন্স বই অনুমোদন । গ্রান্ট এবং অনুদান প্রদান করে বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কাজকে উৎসাহিত করা । দরিদ্র ও যোগ্য ছাত্রদের বই দান । এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হইতে সরবরাহকৃত পান্ডুলিপির সাহায্যে পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ ও বিতরণ করে আসছে।

অপর দিকে তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা পরিচালনা ও সনদপত্র প্রদানের জন্য ১৯৫৪ সালে তদানিন্তন বাণিজ্য ও শিল্প বিভাগ-এর Vide Resolution No. ১৮৮- Ind. Dated ২৭-০১-৫৪ মোতাবেক “ইস্ট পাকিস্তান বোর্ড অব এক্সামিনেশন ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন” নামে একটি বোর্ড স্থাপিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সংগঠন পরিচালন, তদারিক, নিয়ন্ত্রন এবং উন্নয়নের দায়িত্ব পালন, পরীক্ষা পরিচালনা, নিয়ন্ত্রন ও বোর্ড কর্তৃক গৃহীত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিবর্গকে ডিপ্লোমা / সাটির্ফিকেট প্রদান।

অতঃপর ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে এবং ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ও ট্রেড পর্যায়ের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ, সনদপত্র প্রদান, পরিদর্শন ও মূল্যায়নের জন্য একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ার ফলে ১৯৬৭ সালের ৭ মার্চ গেজেট নং -১৭৫ এল.এ. প্রকাশিত এবং ১ নং সংসদীয় আইনের বলে “ইস্ট পাকিস্তান টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ড“ নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়, যার বর্তমান নাম বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও কার্যক্রম হল- সিলেবাস ও শিক্ষাক্রম পরীক্ষা ও সেখানে পুনর্বিবেচনা প্রস্তাব এবং পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করা । পাঠ্যপুস্তকগুলির পান্ডুলিপির প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা । পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ, বিতরণ ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা । শেখার উপকরণগুলির বিকাশের ব্যবস্থা করা। আওতাধীন প্রতিষ্ঠান সমুহের অধিভুক্ত প্রদান করা । শিক্ষার্থীদের ভর্তি করণ এবং স্থানান্তর করার নিয়ন্ত্রণকারী হিসাবে কাজ করা। পাঠদান ও শেখার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিক্ষাক্রমে নিবন্ধন করণ ও নিবন্ধন কার্ড প্রদান করণ। পরীক্ষা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ, ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা এবং এর ফলাফল প্রকাশ করা। ফলাফল প্রকাশের পরে একাডেমিক প্রতিলিপি, প্রশংসাপত্র তৈরি ও বিতরণ করা। পাস করার পর গ্র্যাজুয়েটদের ডিপ্লোমা / সার্টিফিকেট সনদ প্রদান। বিটিইবির পদ সৃষ্টি ও বিলুপ্তকরণ সহ সকল প্রশাসনিক বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। সুন্দর ভাবে পরিচালিত ইনস্টিটিউট সমুহকে বৃত্তি, পদক ও পুরস্কার প্রদান করা।

বর্তমানে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ, বিতরণ ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা করার জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড উপর দায়িত্ব অর্পন করেছে । সরকার বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শন, পরিবীক্ষন ও মুল্যায়ন কার্যক্রম জোরদার করনে মাঠ পর্যায়ে শাখা অফিস স্থাপন করার পাশাপাশি ২০২৫ সনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে সুষ্ঠু একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি এনরোলমেন্ট বৃদ্ধি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে সকল বিভাগীয় পর্যায় স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষা বোর্ড স্থাপন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে ।

যেহেতু সকল বিভাগেই স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষা বোর্ড গঠন করা হবে ও ভবিষ্যতে পৃথক বাংলাদেশ ভোকেশনাল শিক্ষা বোর্ড গঠন করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সিলেবাস প্রণয়ন, শিক্ষাক্রম পরীক্ষা, সেখানে পুনর্বিবেচনা প্রস্তাব । শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচী এবং পাঠ্যপুস্তকগুলির কার্যকারিতা প্রাক পরীক্ষা এবং মূল্যায়ন । পাঠ্যপুস্তকগুলির পান্ডুলিপির প্রস্তুতির, পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ, বিতরণ ও বিক্রয়ের দায়িত্ব কোন শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে থাকবে তা নিয়ে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে । তাই কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমের কারিকুলাম ও পাঠ্যবই প্রনয়নের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এন.সি.টি.বি) এর ন্যায় জাতীয় কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এন.টি.ভি.সি.টি.বি) গঠন করা একান্ত প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত জাতীয় কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এন.টি.ভি.সি.টি.বি) বাংলাদেশ সকল স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও ভোকেশনাল শিক্ষা বোর্ডের বেসিক ট্রেড, স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ, নি¤œ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, ডিপ্লোমা পর্যায়ের সিলেবাস ও শিক্ষাক্রম পরীক্ষা এবং সেখানে পুনর্বিবেচনা প্রস্তাব । শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচী এবং পাঠ্যপুস্তকগুলির কার্যকারিতা প্রাক পরীক্ষা এবং মূল্যায়ন । পাঠ্যপুস্তকগুলির পান্ডুলিপির প্রস্তুতির ব্যবস্থা করবে । পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ, বিতরণ ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা করবে । পাঠ্যপুস্তক, পুরস্কারের বই, লাইব্রেরী এবং রেফারেন্স বই অনুমোদন । গ্রান্ট এবং অনুদান প্রদান করে বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কাজকে উৎসাহিত করবে । দরিদ্র ও যোগ্য ছাত্রদের বিনা মুল্যে বই দান করবে ।
এছাড়া প্রস্তাবিত জাতীয় কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এন.টি.ভি.সি.টি.বি) কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নে টি.ভি.ই.টি কারিকুলাম ডেভলপমেন্ট পুল গঠন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে। কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় মান সম্মত পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী নির্দেশিকা ও আই-বুক প্রণয়ন করবে ।

লেখক-

কলাম লেখক ও ট্রেড ইন্সট্রাক্টর
ডোনাভান মাধ্যমিক বিদ্যালয়,
পটুয়াখালী।

এই বিভাগের আরও খবরঃ