website page counter প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূল তথ্যে NTRCA নিয়োগ, হতাশায় নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েক হাজার শিক্ষক - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শুক্রবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূল তথ্যে NTRCA নিয়োগ, হতাশায় নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েক হাজার শিক্ষক

মোঃ মোজাহিদুর রহমান্।।

গত ২০০৫ থেকে যাত্রা শুরু করে বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA)। এর মাধ্যমে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে প্রযোজন হয় নিবন্ধন সার্টিফিকেট। এভাবে ১ম থেকে শুরু করে ১৪টি বছর পেরিয়ে বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ ও প্রত্যযন কর্তৃপক্ষের অধীনে চলছে ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা যার ফলাফল অপেক্ষাধীন রয়েছে।

১ম থেকে ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন পর্যন্ত সার্টিফিকেটধারীদের বেসরকারী স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় নিয়োগ দিত ম্যানেজিং কমিটি। সেক্ষেত্রে কমিটি সার্টিফিকেটধারীদের মধ্যে পছন্দমত প্রার্থীকে নিয়োগ দিত। পরবর্তীতে তাদের কাগজপত্র ম্যানুয়ালী কার্যসম্পাদনের পর মান্থলি পে অর্ডারের মাধ্যমে বেতন  প্রদান শুরু হত। সেক্ষেত্রে যথাযথ নিয়োগ পেয়ে কোনও প্রার্থীর হতাশায় দিনাতিপাত করতে হত না।

পরবর্তীতে ১২তম নিবন্ধন থেকে সরকার শিক্ষক নিয়োগে প্রতিষ্ঠানের শুন্য পদের বিপরীতে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়। প্রতিষ্ঠান প্রধান তার প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের চাহিদা দেয় এনটিআরসিএ তে। নিয়োগ চলে যায় নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের হাতে। গণবিজ্ঞপ্তিতে কিছু নিয়মনীতি করে দেওয়া হয়, যার ভিত্তিতে নিবন্ধন ধারীরা আবেদন করে চাকুরীর সুযোগ পায়। যাদের বেতন অনলাইনের কার্যসম্পাদনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। একজন প্রার্থী যত খুশি প্রতিষ্ঠানে আবেদনের সুযোগ পায়্।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো গত দুই নিয়োগে প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূলে কয়েক হাজার শিক্ষককে এনটিআরসিএ নিয়োগ দেয়। যেসব প্রতিষ্ঠানে আদৌ পদ শূণ্য নাই তাদের মধ্যে অনেকেই চাহিদা পাঠায। এনটিআরসিএ যাচাই বাছাই না করে প্রতিষ্ঠান প্রধানের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ যথারীতি যোগদান করে বেতনের জন্য কাগজপত্র অনলাইনে ফরওয়ার্ড করে। কিন্তু পদ শুণ্য না থাকায় বা জটিলতা থাকায় তাদের ফাইল রিজেক্ট হয়ে যায়। এ দায়ভার কার? নিশ্চয়ই প্রতিষ্ঠান প্রধানের। নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে ভুল নিয়োগের দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানের। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন দিবে প্রতিষ্ঠান প্রধান। কিন্তু সেটা তো আর সম্ভব নয়।

এমতাবস্থায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ হতাশায় দিনাতিপাত করছে। এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের নিকট এইসব হতাশাগ্রস্ত শিক্ষকদের দাবী পরবর্তী নিয়োগে পদ শূণ্য থাকা সাপেক্ষে এসকল শিক্ষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করলে হাজার হাজার অসহায় পরিবারের দুঃখ ঘুচবে। অসহায় শিক্ষকবৃন্দ আশার আলো দেখবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাগেরহাটের এক স্কুলে নিয়োগপ্রাপ্ত জুনিয়র শিক্ষক মোঃ মঞ্জুর রহমান বলেন আমি এনটিআরসিএর নিয়োগে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে উক্ত স্কুলে যোগদান করি। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকের সহায়তায় অনলাইনে কাগজপত্র ফরওয়ার্ড করি। কিন্তু আমার ফাইল রিজেক্ট করে দেওয়া হয়েছে। কারন জানতে চাইলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন প্যাটার্ণ অনুযায়ী ঐ স্কুলে আর শিক্ষক পাবে না। এরকম সারাদেশে হাজারও মঞ্জুর রহমান কর্তৃপক্ষের ভূল তথ্যের মাশুল গুনছে। তিনি বলেন এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের কাছে আমারমত ভূক্তভোগীদের আকুল আবেদন পরবর্তী নিয়োগে তারা যেন আমাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়।

এই বিভাগের আরও খবরঃ