website page counter সহজ জীবন - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সহজ জীবন

নিউজ ডেস্ক।।

নামটা শুনলেই অবচেতন মনে চীন-জাপানের কোনো শহর কিংবা সে দেশের কোনো পণ্যের ছবি চোখে ভেসে ওঠে। বলছি জাপানের ফার্স্ট গ্রোয়িং ডিজাইনার স্টোর ‘মিনিসো’। ক্রেতার কাছে সাশ্রয়ী দামে ভালো পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এটি। জাপানি ডিজাইনার মিয়াকি জুনিয়া এবং তরুণ চৈনিক উদ্যোক্তা ইয়ে গুয়োফো। উভয়ে মিলে এক বিস্ময়কর অভিযাত্রা শুরু করেন। তাও মাত্র ২০১৩ সালে। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববাসীকে এমন কিছু পণ্য উপহার দেওয়া, যা কেবল তাদের জীবনযাপনকে গতিময় করবে তা-ই নয়, ছড়িয়ে দেবে তৃপ্তির আনন্দ এবং অবশ্যই তা হবে সাশ্রয়ী। জাপানের ফার্স্ট-ফ্যাশন ডিজাইনার ব্র্যান্ড হিসেবে অল্প সময়েই এটি অনেক দেশেই ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে। মিনিসোর মূল লক্ষ্য সাশ্রয়ী দামে উচ্চমানের জীবনযাপন করতে ভোক্তাদের সাহায্য করা। ২০১৩ সালে টোকিওতে যাত্রা শুরু করলেও মিনিসোর বর্তমানে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশে চার হাজারের বেশি স্টোর রয়েছে জাপানি ডিজাইনের এই ব্র্যান্ডের।

মিনিসোর ক্রমবর্ধমান এই যাত্রায় যোগ হয়েছে বাংলাদেশও। ২০১৭ সালে মিনিসোর তরী ভিড়ে এ দেশে। ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় বনানীতে তাদের প্রথম আউটলেটের দরজা খুলে দেওয়া হয়। বনানীর পর ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, যমুনা ফিউচার পার্ক হয়ে উত্তরা। এরপর যোগ হয়েছে বসুন্ধরা সিটি। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় আউটলেট। ছয় হাজার বর্গফুট বিস্তৃত। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, শুধু বাংলাদেশেই নয়; পরিসরের নিরিখে এশিয়ায় এটাই সবচেয়ে বড়। ক্রিয়েটিভ লাইফস্টাইল পণ্য, স্পোর্টস-ফিটনেস, গেজেটস, আইসিটি পণ্য, স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য, স্টেশনারি ও উপহার, খেলনাসহ বৈচিত্র্যপূর্ণ জিনিসপত্র পাওয়া যাবে এখানে। ঢাকার বসুন্ধরা সিটির লেভেল-৪ এবি ব্লকে এলেই চোখ পড়বে যে কারও। দূর থেকে সবার নজর কেড়ে নেয় যে বিষয়টি, তা হচ্ছে এর সাইন বোর্ড। পাশাপাশি দুটি লাল ব্যাগ। একটি লাল ব্যাগটির ওপর ছয়টি অক্ষর সাদা রঙে দুই লাইনে লেখা। প্রথম লাইনে চারটি আর পরের লাইনে দুটি। দ্বিতীয় লাইনে দুটি অক্ষরের পাশে একটি স্মাইলি। অন্য ব্যাগেটির ওপর জাপানি ভাষা লেখা। হ্যাঁ, এটাই একটা লোগো। এটাই আউটলেটের সাইনবোর্ড। গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অষ্টম আউটলেট হিসেবে যাত্রা শুরু করে এটি। মিনিসোতে প্রবেশ করতেই চোখ চলে যায় ড্রেসিং টেবিলের ওপর, সাজানো আছে চেয়ারও। পাশেই থরে থরে সাজানো নারীদের প্রসাধনী। প্রথমে মনে হতেই পারে এটা কোনো বিউটি পার্লার না তো? নাকি এখানে ড্রেসিং টেবিলচেয়ার পাওয়া যায়। তবে কি ভুল করে অন্য কোথাও চলে এসেছি! ভুলটা ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। বিক্রয়কর্মী জানিয়ে দিলেন, ড্রেসিং টেবিল রাখা হয়েছে মূলত ক্রেতাদের পছন্দ করা প্রসাধনী ব্যবহার করে দেখার জন্য। মানে বিষয়টা হচ্ছে এমন, আপনি যে প্রসাধনীটি নিতে চাইছেন, তা ব্যবহার করে দেখতে পারবেন। এ জন্য রয়েছে, আলাদা কর্মী যে আপনাকে এটি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাসহ ব্যবহার করে দেখাবেন। এ ছাড়া এই সারিতে রয়েছে পারফিউম। এখানে কথা হলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সিনথিয়ার সঙ্গে। এখানে যে বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে তা হচ্ছে, প্রসাধনী নিতে চাইলে ব্যবহার করে দেখতে পারা। তিনি জানালেন, দেশে বসেই জাপানি পণ্য দেখছেন। নিতে পারছেন পছন্দের জিনিসটি। এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক জিনিস রয়েছে, যা আমরা সচরাচর ব্যবহার করি। এগুলোতে রয়েছে ভিন্নতার ছাপ। এ তো গেল সৌন্দর্যবর্ধক পণ্য।

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মানুষ নিজেকে এগিয়ে রাখার জন্য চায় অত্যাধুনিক গেজেট। সেই সঙ্গে নিজের গেজেটটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করার একটি তাড়া থাকে অনেকের মধ্যেই। আর এই ভিন্নতার প্রধান অনুষঙ্গ হচ্ছে মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ। স্টাইলিস্ট ইউএসবি কেবলস থেকে শুরু করে হেডফোন, পাওয়ার ব্যাংক, ফোনকেস, রিং ব্রাকেট, সেলফি স্টিক, স্কিন প্রটেক্টর- কী নেই! এখান থেকে সহজেই বেছে নিতে পারবেন পছন্দমতো অ্যাক্সেসরিজ, যা আপনাকে করবে আলাদা। সামনেই টেবিলে সাজানো রয়েছে পোর্টেবল ফ্যান, ব্লুটুথ স্পিকারসহ অন্যান্য মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ। এখান থেকে ক্রেতা তার পছন্দ জিনিসটি অনায়াসে ব্যবহার করে দেখে নিতে পারবেন। আজকাল ফ্যাশনের নতুন অনুষঙ্গ হচ্ছে হেডফোন। মিনিসোতে পাওয়া যাবে স্টাইলিশ হেডফোন, যা সাজানো রয়েছে প্রবেশদ্বারের পাশেই। একটু এগিয়ে যেতেই দেখা গেল দুটি বড় সাইজের পিংক প্যান্থার শুয়ে আরাম করছে। এখানে ছোট্ট চিরকুটে বসতে নিষেধ করা হয়েছে। এ যেন দুপুরের খাবার খেয়ে বসার ঘরের সোফায় গা এলিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা। যেন কেউ বিরক্ত না করে। শুধু পিংক প্যান্থার নয়, আছে কার্টুন ক্যারেক্টার বেয়ার বিয়ার, দাঁড়ানো ও বসা টেডি বিয়ার মার্ভেলসহ অন্যান্য খেলনা, যা শিশুদের আকৃষ্ট করবে। সামনে এগিয়ে যেতেই দেখা গেল সাজানো-গোছানো খাবার টেবিল। যেন এইমাত্র ওয়েটার এসে থালাবাসন রেখে দিয়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই খাবার চলে আসবে। রেস্টুরেন্ট ভেবে ভুল করবেন না যেন। এই টেবিল সাজিয়ে রাখা হয়েছে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য। এগুলো দেখে নিতে পারেন আপনার প্রয়োজন যেটা। এ ছাড়া আছে জাপানি ব্র্যান্ডের ব্যাগ ও অ্যাক্সেসরিজ। এর মধ্যে বিভিন্ন ডিজাইন ও সাইজের লেডিস ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, কয়েন পার্স, ক্রসবডি শোল্ডার ব্যাগ, পোর্টেবল কসমেটিকস ব্যাগ। এখানে পেয়ে যাবেন আই মাস্ক, ইউ শেপ পিলো, ভ্যাকুয়াম বক্স ও বোতল, বিভিন্ন সাইজের ক্যাট টাওয়াল, জাপানিজ স্টাইলের কার্টুন ম্যাট, ফ্লোর ম্যাট। আছে লেডিস ও জেন্টস সানগ্লাস, কমফোর্টেবল স্লিপার্সসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী।

জাপানের ফার্স্ট ফ্যাশন ডিজাইনার ব্র্যান্ড হিসেবে অল্প সময়েই এটি অনেক দেশে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে। মিনিসোর মূল লক্ষ্য সাশ্রয়ী দামে উচ্চমানের জীবনযাপন করতে ভোক্তাদের সাহায্য করা। এ ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটির সাহায্যে ক্রেতাদের সে সেবা আরও কাছাকাছি থেকে দিতে পারবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত মিনিসোতে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন সুতমা ধর। তার বাসা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। সুতমা জানান, ‘বসুন্ধরা আবাসিকে থাকার কারণে সবকিছু আমরা হাতের নাগালে পাই না। কেনাকাটার জন্য যমুনা ফিউচার পার্কই এখানে ভরসা। আর এই মার্কেটে যখন মিনিসো হয়েছে আমরা পরিবারের সবাই খুব খুশি। কারণ হাতের কাছেই গৃহস্থালি পণ্য থেকে শুরু করে সাজগোজ, শিশুদের প্রয়োজনীয় সবকিছু এখানে পাচ্ছি। হাঁড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে শিশুর ফিডার- কী নেই! তাই এখন আমি মিনিসোতে শপিং করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। শুধু আমি নই, আমার পরিচিত অনেকেই মিনিসোর নিয়মিত ক্রেতা। তারা তাদের পরিবারের, গৃহস্থালি সবকিছুর কেনাকাটা এখান থেকেই করেন।’

দুই সারি পেছনেই ছিলেন সামিরা আঞ্জুম। তিনি বসুন্ধরা ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘আগে আমার যখন কিছু কেনার থাকত আমি সব গুছিয়ে লিস্ট করে রাখতাম কবে নিউমার্কেট কিংবা বনানী সুপার মার্কেটে যাব, নয়তো ডিসিসি মার্কেটে। এখন মিনিসো হওয়ার পর আমার ঝামেলা কমে গেছে অনেকখানি। এখানে এসেই আমি সব ধরনের কেনাকাটা করি। নিজের এবং পরিবারের সবার জন্য।

সবচেয়ে মজার তথ্য হচ্ছে, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মিনিসো অনলাইন শপিংকে নিরুৎসাহিত করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এদের কোনো অনলাইন শপ নেই। এমনকি ফেসবুকে সব পণ্যের ছবি দিলেও মূল্য উল্লেখ করা হয় না। মিনিসো কেবল একটা স্টোর নয়, একজন ক্রেতার কাছে সম্পূর্ণ শপিং এক্সপেরিয়েন্সও বৈকি। এ জন্যই সবাই পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে লেভেল ফোরের মিনিসোতে যেতে পারেন। দেখে নিতে পারেন দারুণ এক সাজানো আয়োজন।

এই বিভাগের আরও খবরঃ