website page counter ভোকেশনাল কোর্স চালু করে এমপিও সমস্যার সমাধান - শিক্ষাবার্তা ডট কম

সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভোকেশনাল কোর্স চালু করে এমপিও সমস্যার সমাধান

প্রকৌশলী রিপন কুমার দাস।।

সর্বশেষ দেশে ২০১০ সনে ১,৬২৪টি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম.পি.ও ভুক্ত হয়, যার ফলে ঐ সময়ই ৮০০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম.পি.ও আওতার বাহিরে থেকে যায়। পরবর্তীতে আরও নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হলেও তাদের এম.পি.ও ভুক্ত করা হয়নি, ফলে লক্ষাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই  ননএমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠান সমুহের শিক্ষক ও কর্মচারীগন এমপিওর দাবীতে লাগাতার আন্দোলন করছে ।

 

যার প্রেক্ষিতে নতুন কিছু প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে ঠিকই, কিন্তু তা নতুন নীতিমালার আলোকে ভালো ফল, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি বিষয় মূল্যায়ন করে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচন করা হবে। নীতিমালার খসড়ায় জনসংখ্যা অনুপাতে সংশ্নিষ্ট এলাকায় এমপিওর প্রাপ্যতা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এর সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এমপিওভুক্ত হতে চাইলে সংশ্নিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি থাকতে হবে। ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো প্রতিষ্ঠান যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।তবে নীতিমালা অনুসারে প্রাপ্য না হলেও দেশের পিছিয়ে পড়া এলাকা, চা-বাগান, হাওর, পার্বত্য এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

 

প্রত্যেক উপজেলায় কমপক্ষে একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে। সর্বশেষ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৬,১৮০টি। এর মধ্যে স্কুল ১৬,১৯৭টি, কলেজ ২,৩৬৫টি, মাদরাসা ৭,৬১৮টি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে ৯৪১ কোটি ৫০ লাখ ২৪ হাজার ৭১১ টাকা সরকারের ব্যয় হচ্ছে।

নতুন এমপিওভুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ১,৫৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা ৬,১৪১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাদ পড়বে ৪,৬০৪টি প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে নিম্ন-মাধ্যমিক স্কুল এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে ১,৯৬৭টি, এর মধ্যে এমপিওভুক্তির সব শর্ত পূরণ করে যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে ৫৭৯টি প্রতিষ্ঠান বাদ পরবে ১,৩৮৮টি। মাধ্যমিকস্তরে এমপিওভুক্তির জন্য ২,৭৩৯টি আবেদনের মধ্যে সব শর্ত পূরণ করে যোগ্য বিবেচিত হয়েছে ৭৬৪টি প্রতিষ্ঠান বাদ পরবে ১৯৭৫টি। এমপিওভুক্তির নীতিমালা ২০১৮ এর আলোকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়।

 

যে প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালার সব শর্ত পূরণ করেছে তাদের প্রাথমিকভাবে যোগ্য হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আবেদন করা নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলোর সবগুলো এমপিওভুক্তি করতে কত টাকা লাগবে তার একটি হিসাব তৈরি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। নিম্ন-মাধ্যমিক স্তরে একটি স্কুলে একজন প্রধান শিক্ষক, ১১ জন সহকারী শিক্ষক, ২ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এবং ৪ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ ১৮ জন এমপিও ভুক্তি হবে। উৎসবভাতা বাড়ি ভাড়াসহ এক বছরে একটি স্কুলের পেছনে সরকারের ব্যয় ৩৪ লাখ ৮২ হাজার  ৩শ’ টাকা। সে হিসাবে নিম্ন-মাধ্যমিকে আবেদন করা ১,৯৬৭টি প্রতিষ্ঠানের জন্য বছরে প্রয়োজন ৬৮৪ কোটি  ৯৬ লাখ ৮৪ হাজার ১শ’ টাকা।

 

মাধ্যমিক স্কুলে একজন প্রধান শিক্ষক, একজন জন সহকারী প্রধান শিক্ষক, ১৩ জন সহকারী শিক্ষক, ১ জন গ্রন্থগারিক, ২ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এবং ৪ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট জনবল হবে ২২ জন।  মাসিক বেতন, উৎসবভাতা বাড়িভাড়াসহ প্রতিটি স্কুলের পেছনে সরকারের বছরে ব্যয় হবে ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৮শ’ টাকা। সে হিসাবে মাধ্যমিক স্কুল এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা ২,৭৩৯টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ১ হাজার ২৩৭ কোটি ১৫ লাখ ১৫ হাজার ২শ’ টাকা প্রয়োজন।

২০১০ সালে ১,৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। এরপর থেকে এমপিওভুক্তি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। শিক্ষক সংগঠনগুলোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে এমপিওবিহীন দেশের ৮০০০ স্কুল ছিল, আর শিক্ষক ১,২০,০০০জন। আর্থিক সুবিধা না পাওয়ার কারণে গত ছয় বছরের মধ্যে ২,০০০ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

এবারও যদি নিম্ন-মাধ্যমিক পর্যায়ে যদি ১৯৬৭টি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ৫৭৯টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। আর বাকী ১৩৮৮ টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না করা হয় তবে ২০১০ ন্যায় আর্থিক সুবিধা না পাওয়ার কারনে ১৩৮৮টি প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যাবে । ফলে সেখানে চাকুরীরত শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করবে ও ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও হুমকির সম্মুখীন হবে । এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৯৬৭টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হয় তবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হবেনা ঠিকই কিন্তু ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিকস্তরের শিক্ষকরা আর্থিক ভাবে সুবিধা না পাওয়ার কারনে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

তাই এই সকল সমস্যা থেকে সমাধান করার একটি মাত্র উপায় ঐ সকল প্রতিষ্ঠানকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে নিয়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু করণ। ননএমপিও এই সকল প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র সাধারণ শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ভোকেশনাল ও কর্মমুখী শিক্ষা যুক্ত করে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রি-ভোকেশনাল ও ভোকেশনাল কোর্স চালু করা যেতে পারে ।

 

এক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে প্রথম পর্যায় আবেদনকৃত ২৭৩৯টি এমপিও নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিকস্তর চালু রয়েছে, কিন্তু মাধ্যমিকস্তর এমপিওভুক্ত নয় এমন ৭৬৪টি বিদ্যালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মুল্যায়নে এমপিওভুক্তির উপযুক্ত । কিন্তু ১৯৬৭টি এমপিওভুক্তির উপযুক্ত নয়, এই ১৯৬৭টি প্রতিষ্ঠানে নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিকস্তরে ১টি করে ট্রেড বিষয়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু করে ২বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এমপিও ভুক্ত করা যেতে পারে। দ্বিতীয় পর্যায় নন এমপিও ১৯৬৭ টি নিম্ন-মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিকস্তরে ১টি করে ট্রেড বিষয়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু করে নিম্ন-মাধ্যমিকস্তরটি ৩ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করা যেতে পারে ও মাধ্যমিকস্তরটি পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করা যেতে পারে ।

 

শেষ পর্যায় ২০১০ সনে আর্থিক সুবিধা না পাওয়ার কারনে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২০০০ প্রতিষ্ঠান, যেখানে জমিদান করা আছে ও অবকাঠামো তৈরী আছে ঐ সকল প্রতিষ্ঠানে  নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিকস্তরে ১টি করে ট্রেড বিষয়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু করে ২বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করা যেতে পারে। দ্বিতীয় পর্যায় ননএমপিও ১৯৬৭ টি নিম্ন-মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিকস্তরে ১টি করে ট্রেড বিষয়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু করে নিম্ন-মাধ্যমিকস্তরটি ৩ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করা যেতে পারে ও মাধ্যমিকস্তরটি পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করা যেতে পারে ।

 

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি মাত্র ট্রেড থাকবে, যেখানে প্রতিটি শ্রেণিতে ৪০জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করতে পারবে এবং এই প্রতিষ্ঠান সমুহ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসাবে একজন ৭ গ্রেডের টেকনিক্যাল পার্সন ও ৮ গ্রেডে সহকারী প্রধান হিসাবে পুর্বের নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠান প্রধানকে পদায়ন করা যেতে পারে । যেহেতু প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সকল পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া আছে, শুধুমাত্র ভোকেশনাল শাখার প্রতিটি ট্রেডের জন্য ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির জন্যপ্রতিটি ট্রেড বিষয়ের জন্য ১২গ্রেডের ২ জন জুনিয়র ট্রেড ইন্সট্রাক্টর করে, ১৬গ্রেডের ১জন ল্যাব সহকারী  এবং ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণির জন্য ১০ গ্রেডের ৩জন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, ১৬ গ্রেডের  ১জন ল্যাব সহকারী নিয়োগ প্রদান করলেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সম্ভব হবে । জুনিয়র ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদে ১২ গ্রেডে, যেখানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী অথবা ব্যাচেলার অব ভোকেশনাল (বি.ভোক) অথবা ৩ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এইচ,এস,সি (ভোকেশনাল) পাশকৃতদের নিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে। পরবর্তীতে এই সকল প্রতিষ্ঠানের সাধারণ বিষয়ের জনবল কাঠামো সংশোধন করা যেতে পারে, সেক্ষেত্রে মাধ্যমিকস্তরের সাধারণ শাখার জন্য ১০গ্রেডের বাংলা, ইংরেজী, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজ ৫ জন সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টির মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সম্ভব ।

 

অপরদিকে নিম্ন-মাধ্যমিক স্তরের জন্য  ১৪গ্রেডের বাংলা, ইংরেজী, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজ, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, শারীরিক শিক্ষা ৮জন জুনিয়র শিক্ষকের (জুনিয়র শিক্ষকদের বেতন গ্রেড হবে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন সনদ প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সমমান) পদ সৃষ্টির মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সম্ভব । নিম্ন-মাধ্যমিক অর্থাৎ উচ্চ প্রাথমিক স্তরে যদি সহকারী শিক্ষক এর পরিবর্তে জুনিয়র শিক্ষক এর পদ সৃষ্টি করা হয় ও ঐ সকল পদে নুতন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়, তবে সরকার আর্থিক দিক থেকে অনেক সাশ্রয় করতে পারবে এবং অনেক বেশী প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে সক্ষম হবে।এছাড়া স্কুল ম্যাপিং এর মাধ্যমে বর্তমানে বিধি মোতাবেক নিয়োগকৃত শিক্ষকদের স্বমন্বয় করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক অবশ্যই টেকনিক্যাল পার্সন হবে।

বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাথে সংযুক্ত ভোকেশনাল স্থাপন করার ফলে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে ও সরকারের আসল উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে। এই সকল সমস্যা থেকে সমাধানের জন্য নতুন করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমুহে সংযুক্ত ভোকেশনাল স্থাপন করা বন্ধ করতে হবে । যে সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু রয়েছে কিন্ত সাধারণ শাখায় কমসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে ঐ সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ভোকেশনাল বিদ্যালয় হিসাবে রুপান্তর করা একান্ত প্রয়োজন ।

 

এছাড়া স্কুল ম্যাপিং এর মাধ্যমে অবশিষ্ট সংযুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখা বিলুপ্ত করে এমপিও ভুক্ত নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমুহে ১টি করে ট্রেড সংযুক্ত করে নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমুহকে ভোকেশনাল বিদ্যালয় হিসাবে রুপান্তর করা, এর ফলে কোন সংযুক্ত ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকবে না ও সকল প্রতিষ্ঠানই স্বতন্ত্র ভোকেশনাল বিদ্যালয় হিসাবে পরিচিতি লাভ করবে। এক্ষেত্রে ১টি বিষয়ের উপর লক্ষ রাখতে হবে বর্তমানে যেসকল সংযুক্ত ভোকেশনাল এমপিওভুক্ত রয়েছে তাদেরকে অবশ্যই এমপিও ভুক্ত নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাথে ও যে সকল সংযুক্ত ভোকেশনাল এমপিও নয় তাদেরকে অবশ্যই ননএমপিও নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাথে স্বমন্বয় করতে হবে ।

সরকার ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন । উক্ত প্রতিষ্ঠান সমুহের প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোতে ১০৯ জন জনবল রয়েছে, যাদের প্রতি মাসের মুল বেতন বেসিক ১৭,০৫,৭৫০ টাকা ও বাৎসরিক মুল বেতন বেসিক ২,০৪,৬৯,০০০ টাকা, এছাড়া বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি, উৎসব ভাতা, বাড়ী ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, বৈশাখী ভাতা সহ অন্যান্য ভাতা রয়েছে । পক্ষান্তরে যদি নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমুহকে প্রি-ভোকেশনাল ও ভোকেশনাল কোর্স চালু করে ভোকেশনাল বিদ্যালয় হিসাবে রুপান্তর করা হয় তবে সেখানে ৭গ্রেডের ১জন প্রধান শিক্ষক, ৮গ্রেডের ১জন সহকারী প্রধান শিক্ষক, ১০গ্রেডের ৫জন সাধারণ শিক্ষক, ১৪গ্রেডের ৮জন জুনিয়র শিক্ষক (সাধারণ), ১৬গ্রেডের ১জন অফিস সহকারী, ২০গ্রেডের ২জন অফিস সহায়ক মাসিক মুল বেতন ২,৩৯,৪০০, টাকা ও বাৎসরিক ২৮,৭২,৮০০ টাকা সহ প্রতিটি ট্রেডের জন্য ১০গ্রেডে ৩জন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, ১২গ্রেডের ২জন জুনিয়র ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, ১৬গ্রেডে ২জন ল্যাব সহকারীর এক মাসের মুল বেতন ৮৯,২০০টাকা ও বাৎসরিক ১০,৭০,৪০০ টাকা ব্যয় হবে । এক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ১টি ট্রেডের জন্য মাসিক মুল বেতন বেসিক ৩,২০,৬০০ টাকা, বাৎসরিক মুল বেতন বেসিক ৩৯,৪৩,২০০ টাকা প্রয়োজন পড়বে, ২টি ট্রেডের জন্য মাসিক মুল বেতন বেসিক ৪,১৭,৮০০ টাকা, বাৎসরিক মুল বেতন বেসিক ৫০,১৩,৬০০ টাকা প্রয়োজন পড়বে, ৩টি ট্রেডের জন্য মাসিক মুল বেতন বেসিক ৫,০৭,০০০ টাকা, বাৎসরিক মুল বেতন বেসিক ৬০,৮৪,০০০ টাকা প্রয়োজন পড়বে ও ৪টি ট্রেডের জন্য মাসিক মুল বেতন বেসিক ৫,৯৬,২০০ টাকা, বাৎসরিক মুল বেতন বেসিক ৭১,৫৪,৪০০ টাকা প্রয়োজন পড়বে।ভোকেশনাল শিক্ষাকে জাতীয়করণের অংশ হিসাবে ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান সমুহ প্রাথমিক ভাবে এম,পি,ওভুক্তি করে ৫ বছর সফল ভাবে চলার পর এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্য হতে প্রকল্প তৈরির মাধ্যমে প্রথম পর্যায় ২৭৩৯টি প্রতিষ্ঠান, দ্বিতীয় পর্যায় ১৯৬৭ টি প্রতিষ্ঠান ও শেষ পর্যায় ২০০০ টি প্রতিষ্ঠাকে জাতীয়করণ করা হলে সরকার ও দেশের আর্থিক দিক থেকে সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি প্রচুর শিক্ষিত জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে । প্রতিষ্ঠান সমুহকে ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরের ফলে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত বিশাল জনগোষ্ঠি তৈরি করা সম্ভব হবে।

লেখক-

কলাম লেখক ট্রেড ইন্সট্রাক্টর,

ডোনাভান মাধ্যমিক বিদ্যালয়,

পটুয়াখালী

এই বিভাগের আরও খবরঃ