website page counter শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির আবশ্যকতা আছে কি? - শিক্ষাবার্তা ডট কম

বুধবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির আবশ্যকতা আছে কি?

নজরুল ইসলাম :

স্কুল থেকে কলেজে ভর্তি এ যেন এক বিশাল অনুভূতি। আমি তখন সিলেট মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র। আমাদের অভিনন্দন জানিয়েও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পতাকাতলে সমবেত হওয়ার সংগ্রামী আহ্বান জানিয়েছিলেন সিলেটের সেই সময়ের প্রিয় ছাত্রনেতা বিধান কুমার সাহা। অনেকেই সেইদিন তাদের স্ব স্ব পতাকাতলে সমবেত হওয়ার সংগ্ৰামী আহ্বান জানিয়েছিলেন যা আজও স্মৃতিপটে। কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে এক্সেল মটর বাইক নিয়ে ৬০ মাইল স্পিডে লেন্ডিং অতঃপর হার্ডব্রেক—-এ যেন বাংলা সিনেমার ভিলেনদের মতো তুলকামান্ড।

ক্যাম্পাস দখল ,হোস্টেল দখল, কর্তৃত্ব, নিজেদের মধ্যে একটা হিরো হিরো ভাব এ-সবের সংমিশ্রণে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রায়ই টান টান উত্তেজনা বিরাজ করত।

প্রিয় কলেজের দেয়ালে পোস্টারিং, সাদা রক্তাক্ত পাঞ্জাবি পরিহিত নিখোঁজ ইলিয়াস আলী হুঙ্কার ছেড়ে বলছেন ‘আমাকে ধ্বংস করা সহজ, সৃষ্টি করা কঠিন’-যা খুবই মনোযোগ নিয়ে দেখছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ ! সমগ্র ক্যাম্পাস জুড়ে কালো ধোয়া। তাৎক্ষণিক কলেজ এডমিশন অফিসে ঢুকে একটু নিরাপদ অবস্থান–পরিস্থিতি অনুকূলে আসে কিছুক্ষণের মধ্যে।

একদিন আমার প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক বিজিত কুমার সাহা ক্লাস নিচ্ছিলেন। হঠাৎ বিরাট বিকট শব্দ ! মুহূর্তেই রণক্ষেত্র সমগ্র ক্যাম্পাস। ক্লাসে আমাদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখে স্যার বললেন, দরজাটা বন্ধ করে দাও বাবারা তোমাদের ক্লাস চলবে। স্যার দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বললেন, একটা সময় ছিল কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্ররা মারামারি শুরু করার পর আমাকে দেখলেই তারা শান্ত হয়ে যেত। বাবারা আজকাল ভয় হয় ক্যাম্পাসে বের হয়ে তোমাদের সান্ত্বনা দিতে। চোখ বুজে যেভাবে তোমরা গুলি বর্ষণ করো তাতে ভুলেট বিদ্ধ হয়ে নিজেই রক্তাক্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

স্কুল পর্যায়ে একবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ছাত্র রাজনীতির সুফল ও কুফল নিয়ে বিতর্ক করেছিলাম। একটি শক্তিশালী ভূমিকা নেয়ার জন্য আমার প্রিয় শিক্ষক দুরুদ আহমদ বিএসসি (কমলগঞ্জের) ছাত্র রাজনীতির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে আমাদের তৈরি করেছিলেন। আজ একটু মাতব্বরি করতে চাই ছাত্র রাজনীতি নিয়ে, বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ে আমাদের ছোট্ট বাচ্চাদের ব্রেইন ওয়াস ও প্রাসঙ্গিক!

আমাদের গর্বিত ইতিহাস ধারণকারী ছাত্র রাজনীতির বর্তমান অবস্থা কি সে বিষয়ে তেমন প্যাচাল পাড়ার ইচ্ছে আমার নেই। ছাত্র রাজনীতির সুফল আর কুফল নিয়ে সেই প্রাইমারি স্কুল থেকে আজ অবধি শুনে আসছি। মৌলিক সমস্যা সমাধান উত্তরণের জন্য আমরা দায়িত্বশীলরা চৌরাস্তায় ঘুরছি আর ঘুরছি, সমাধানের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছি না। সেই একই চিন্তা চেতনা নিয়েই সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি nothing has been change since.

ছাত্র রাজনীতি বলতে আমি স্বাভাবিক ভাবে যা বুঝি তাহলো ছাত্র/ছাত্রী সংশ্লিষ্টদের কল্যাণের জন্য রাজনীতি। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশুনা করবে, ডিগ্রি অর্জন করবে, নিজের ক্যারিয়ার গড়বে- প্রশ্ন, এক্ষেত্রে রাজনীতি করার প্রয়োজনটা কী? প্রয়োজন আছে এই জন্যই যে, শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে যে বৈষম্য অনিয়ম তা দূর করার জন্য ছাত্র রাজনীতি ভূমিকা রাখতে পারে। ভূমিকা রাখতে পারে ছাত্রদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। আজকে যারা ছাত্র আগামী দিনে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের কর্ণধার। সমাজ ও রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেয়ার রাজনৈতিক ও একাডেমিক যোগ্যতা তাদেরকে অর্জন করতে হবে। দেশ ও সমাজের প্রতি আগামীর ভবিষ্যত প্রিয় ছাত্র/ ছাত্রীদের একটা দায়িত্ববোধ তো আছেই।

একজন ছাত্র যে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের নেতা হতে চায়, তার চিন্তা চেতনায় থাকতে হবে আমি কিভাবে সবার চেয়ে চরিত্রবান নীতিবান ও মেধাবী হব। প্রতিদিন তাকে ক্লাসে উপস্থিত হতে হবে, সহপাঠি ছাত্রদের কাছে তার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। তাকে নিয়ম নীতি মেনে ক্যাম্পাসে চলতে হবে। তাকে যদি সত্যিকারের নেতা হতে হয় তাহলে সে প্রথমে নিজেকে বোঝার চেষ্টা করবে, নিজের বিচার-বুদ্ধি দিয়ে আসল মনুষ্যত্বকে খুঁজে নেবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে আজ অবধি সহিংসতা চলছে। নিজেদের স্বার্থে ছাত্রদের পড়াশুনার জায়গা থেকে সরিয়ে দিয়ে এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমরা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার কথা বলছি কিন্তু আমরা প্রধান সমস্যাটিকে সামনে নিয়ে আসছি না। যে ছাত্রের হাতে বই থাকার কথা তার হাতে অস্ত্র কেন?

বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির একটি গৌরবজ্জল অধ্যায় রয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণআন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে ছাত্রসমাজ গৌরবময় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সে অবস্থা কি আজ আর আছে? স্বাধীন দেশে ছাত্ররা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। রাজনীতিতে তাদের যে আদর্শ ছিল তা আজ ভূলুণ্ঠিত। স্বার্থ যেখানে মুখ্য সংঘাত সেখানে অনিবার্য। আমাদের ছাত্র সংগঠনগুলো শুধু যে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে থাকে তা নয়, সংগঠনের অভ্যন্তরেও সংঘাত দানা বেঁধে ওঠে নানা স্বার্থে। ছাত্র সংগঠন গুলো অতিমাত্রায় দলীয় রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়ায় তাদের মধ্যে সহিংসতা বাড়ছে। ছাত্র নেতারা ছোট্ট বিষয় নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হচ্ছে। অনেক মেধাবী ছাত্রের জীবন এভাবে অকালে ঝরে পড়ছে। সংঘাতের কারণে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে লেখাপড়ার স্বাভাবিক পরিবেশ।

নেতা কোনো বিশেষ মানুষ নয়, নেতা হলো অনেক মানুষের সমষ্টি। যে মানুষের মধ্যে অনেক মানুষ আসে সেই হলো নেতা। আমাদের দুর্ভাগ্য হলো বিভিন্ন অজুহাতে স্বাধীনতার পর আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জায়গা গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেনি। আজকের ছাত্র সমাজকে বিপথগামী করার জন্য দায়ী হলো আমাদের যে কোনো সময়ের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো। ছাত্রদের হাতে অস্ত্র দিয়ে তাদের দলীয় লেজুড় বাহিনীতে পরিণত করা করেছে। তাদের গাড়ি-বাড়ি চাকরির লোভ প্রলোভন দেখিয়ে পড়াশুনা থেকে দূরে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। যাদের বানিয়ে ফেলা হয়েছে দখলদার বাহিনীতে। প্রিয় ছাত্রদের উদ্দেশে নেতাদের কখনও বলতে শুনিনি যে, তোমাদের হাতে অস্ত্র কেন? তোমাদের প্রধান কাজ হল ভাল ছাত্র হওয়া,জ্ঞানার্জন করা এবং রাজনীতি সচেতন হওয়া। ছাত্ররা তাদের সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণে একটি ভিশন তৈরি করবে , রাজনীতি বিষয়ে পড়ে জ্ঞান অর্জন করবে , রাজনৈতিক সচেতন হবে ! যা বলতে চাই ,আমাদের আগামীর ভবিষৎ ছাত্রদের দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে তাদের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিতে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের চিন্তা চেতনায় মেধায় মননে একটা আমূল পরিবর্তন দরকার।

আমি সামগ্রিক ভাবে সকল ছাত্রনেতা ছাত্র রাজনীতিকে দোষারোপ করছি না। অনেকে ছাত্রনেতা আছেন যারা শিক্ষা দীক্ষায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন। যাদের কথাবার্তা আচার-আচরণ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের গুণাবলী আকর্ষণীয় অনুকরণীয়। আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই চোখে পড়ে কিছু অতি উৎসাহী নেতাকর্মী স্কুল পর্যায়ে আমাদের ছোট বাচ্চাদের রাজনীতির সংস্পর্শে নিয়ে আসার অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন যা কিন্ডার গার্ডেনের দিকে ধাবিত হবে ।

আপনাদের একটি উদাহরণের পুনরাবৃত্তি করছি। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, খবরের কাগজ বিশেষ করে জাতীয় পত্রিকায় আর্টিকেল পড়তাম। বেসরকারি জরিপে দেশের সেরা দশ ব্যাক্তির লিষ্টে নিজের নাম দেখে সায়েন্স শিক্ষক অধ্যাপক জাফর ইকবাল নিজের অনভূতি ব্যক্ত করেছিলেন একটি আর্টিকেলের মাধ্যমে। লিখেছিলেন দেশে জ্ঞানী-গুণী ভাল মানুষের বড়ই অভাব লক্ষ্য করছি। আর কেউ জানুক আর না জানুক আমি তো নিজে জানি আমি কত জ্ঞানী গুণী। দেশের সেরা দশজন জ্ঞানী-গুণীর লিষ্টে আমার নাম দেখে বড়ই উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি। তাই বলতে চাচ্ছি আমরা যারা আমাদের ছোট্ট ছোট্র বাচ্চাদের নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় মাথায় রেখে ঠান্ডা মাথায় তাদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছি।

একজন আপোষহীন ছাত্রনেতা হিসেবে আপনাকে চিন্তা করতে হবে আপনার নিজের অর্জনটা কি? মানুষের ভালোবাসায় সামাজিক ভাবে আপনি কতটা সিক্ত। ব্যক্তি জীবনে আপনি কতটা সাফল্যের স্বীকৃতি রেখেছেন যা দেখে শুনে আমাদের স্কুল পড়ুয়া ছাত্ররা একটু অনুপ্রেরণা পাবে। লেখা পড়া বাদ দিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করবে।আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ ছাত্রদের কথা চিন্তায় এনে বিষয়টি আমাদের ভাবতে হবে।

ছাত্র রাজনীতির উদ্দেশে আজ কালকের নেতাকর্মীদের বাণী বিবৃতি উপদেশ প্রায়ই চোখে পড়ে। বাণী চিরন্তন, কিন্তু তাদের বাণী কতটা চিরন্তন আত্মবিশ্বাস নিয়ে তা বলতে পারছিনা। প্রায়ই চোখে পড়ে রাজনীতিবিদদের ইশারা-ইঙ্গিত দিকনির্দেশনায় তাদের নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী বই পড়ে আরেকবার মনে হল কেন জাতির জনককে বঙ্গবন্ধু উপাধীতে ভূষিত করা হযেছে। ছাত্র ও ছাত্র রাজনীতির উদ্দেশ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কি কিছু বলেছিলেন তা জানার ইচ্ছে হল। অনেক চেষ্টার পর খুঁজে পেয়েছি ১৯ অগাস্ট, ১৯৭৩সাল – সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কি বলেছিলেন তা পড়ে আমার কাছে আবার মনে হলো বঙ্গবন্ধু শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা। ছিলেন একজন অভিভাবক ও অনুকরণীয় ব্যাক্তিত্বের অধিকারী শ্রেষ্ঠ বাঙালি। ছাত্রলীগের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলছেন, ‘বাবারা –একটু লেখাপড়া শিখ, যতই জিন্দাবাদ আর মুর্দাবাদ কর, ঠিকমত লেখাপড়া না শিখলে কোনো লাভ নেই। আর লেখাপড়া শিখে যে সময়টুকু থাকে বাপ-মাকে সাহায্য কর। প্যান্ট পরা শিখেছো বলে বাবার সাথে হাল ধরতে লজ্জা করো না। দুনিয়ার দিকে চেয়ে দেখ- কানাডায় দেখলাম ছাত্ররা ছুটির সময় লিফট চালায়। ছুটির সময় দু’পয়সা উপার্জন করতে চায়। আর আমাদের ছেলেরা বড় আরামে খান, আর তাস নিয়ে ফটাফট খেলতে বসে পড়েন। গ্রামে গ্রামে বাড়ীর পাশে বেগুন গাছ লাগিও, কয়টা মরিচ গাছ লাগিও, কয়টা লাউ গাছ ও কয়টা নারিকেলের চারা লাগিও। বাপ-মারে একটু সাহায্য কর। কয়টা মুরগী পাল, কয়টা হাঁস পাল। জাতীয় সম্পদ বাড়বে। তোমার খরচ তুমি বহন করতে পারবে। বাবার কাছ থেকে যদি এতটুকু জমি নিয়ে ১০টি লাউ গাছ, ৫০টা মরিচ গাছ, কয়টা নারিকেলের চারা লাগায়ে দেও, দেখবে ২/৩ শত টাকা আয় হয়ে গেছে। তোমরা ঐ টাকা দিয়ে বই কিনতে পারবে। কাজ কর, কঠোর পরিশ্রম কর, না হলে বাঁচতে পারবে না। শুধু বিএ, এমএ পাস করে লাভ নেই। আমি চাই কৃষি কলেজ, কৃষি স্কুল, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল, কলেজ ও স্কুল, যাতে সত্যিকারের মানুষ পয়দা হয়। বুনিয়াদি শিক্ষা নিলে কাজ করে খেয়ে বাঁচতে পারবে। কেরানী পয়দা করেই একবার ইংরেজ শেষ করে দিয়ে গেছে দেশটা। তোমাদের মানুষ হতে হবে ভাইরা আমার। আমি কিন্তু সোজা সোজা কথা কই, রাগ করতে পারবে না। রাগ কর, আর যা কর, আমার কথাগুলো শুন। লেখাপড়া কর আর নিজেরা নকল বন্ধ কর। আর এই ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি-ডাকাতির বিরুদ্ধে গ্রামে গ্রামে থানায় থানায় সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তোল। প্রশাসনকে ঠিকভাবে চালাতে সময় লাগবে। তোমাদের আমি এতটুকু অনুরোধ করছি, তোমরা সংঘবদ্ধ হও। আর মেহেরবানী করে আত্মকলহ করো না। এক হয়ে কাজ কর। দেশের দুর্দিনে স্বাধীনতার শত্রুরা সংঘবদ্ধ, সাম্প্রদায়িকতাবাদীরা দলবদ্ধ, তোমাদের সংঘবদ্ধ হয়ে দেশকে রক্ষা করতে হবে।’

দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনে হওয়া বইছে। সরকার ,সরকার প্রধান দেশপ্রেমিক নাগরিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন যা একটি সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার পূর্বশর্ত। রাজনীতিতে সু-বাতাস সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করছে। আগামীর ভবিষ্যত কর্ণধার ছাত্র সমাজের উপর দেশ ও জাতির অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা। একদিন যারা এ দেশের হাল ধরবে, তাদের মধ্যে হানাহানি প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ না হলে দেশ কিভাবে উন্নত হবে? অনেক মা বাবা সন্তানদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য কষ্ট করেন। তাদের আশা ও স্বপ্ন থাকে একদিন তাদের সন্তান মানুষ হয়ে তাদের ভাগ্যের সাথে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধিতে অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু সন্ত্রাস লেজুড়বৃত্তি রাজনীতির পদদলিত হয়ে তাদের সন্তান যখন লাশ হয়ে বাড়ি ফিরে তখন স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।

সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্যই রাজনীতি তা নিশ্চিত করতে হলে– ছাত্রসমাজকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। ছাত্রদের মনে রাখতে হবে -‘ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ’, অর্থাৎ অধ্যয়ন একজন ছাত্রের তপস্যা ও ধ্যান। লেখাপড়ায় ব্যঘাত ঘটায় দেশের শিক্ষাঙ্গনে যেসব সমস্যা তা উত্তরণে ছাত্র সমাজকেই পথ খুঁজে বের করতে হবে। ছাত্রদের রাজনীতি হবে শিক্ষা দিক্ষা শিক্ষাঙ্গনের উন্নয়নে নেতৃত্ব অর্জন। ছাত্র সংগঠন গুলো চলবে তাদের নিজস্ব ধারায়। প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আদর্শগত কিছু অমিল থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নিজেদের একটি সম্ভাবনাময়ী ভবিষ্যতের স্বার্থে একে অন্যের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তুলতে হবে। অনেক কিছুই বিচ্ছিন্নভাবে আলোচনা করেই ফেলেছি। তিলকে যেমন তাল বানানো যায় না তা জেনেও আমরা তাল বানাইয়া আনন্দ পাই। কয়লা ধুইলে ময়লা যায়না এর পরও আমরা কয়লা পরিষ্কার করতেই আছি। সামাজিক মাধ্যমে দেখলাম এক মানসিক রোগী (পাগল) দর্শকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন বলছেন, ভাইরা আমার বিদেশ যাইতে হলে আমাদের কি থাকতে হবে? পাসপোর্ট এবং ভিসা ! কবরে যাইতে হলেও আমাদের দুইটা জিনিস দরকার তা হলো ঈমান আর আমল। আমরা যদি ঈমান আর আমল নিয়ে কবরে না যেতে পারি তাহলে ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়া মালয়েশিয়া গেলে যেভাবে পুলিশের গুতুনি খাইতে হয় সেভাবেই কবরে গেলে আমাদের গুতুনি খাইতে হবে। আমরা সবাই পাগল কিন্তু আমাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বুঝি ঐ পাগলের মত। আমরা সবই জানি এবং বুঝি, আমাদের আগামীর ভবিষৎকর্ণধার মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের আমাদের অতি ক্ষুদ্র স্বার্থে ব্যবহার করছি, তাদের বিপদগ্রস্ত করছি যা মোটেই কাম্য নয়।

পরিশেষে যা বলতে চাই, ছাত্র রাজনীতির নামে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতায় অন্ধ হয়ে আমরা যাতে আমাদের কোমলমতি বাচ্চাদের ব্রেইন ওয়াশ না করি সেই বিষয়টি আমাদের ভাবিয়া দেখিতে হইবে। আমাদের নিজেদের অর্জন নেই তাই বলে আমাদের বাচ্চাদের অর্জন ও জিরো হবে তা ঠিক না। বাচ্চাদের নিয়ে প্রত্যেকটি পরিবারের-ই একটি স্বপ্ন থাকে। বাচ্চারা রাজনীতি করবে, রাজনীতি সচেতন হবে, তাদের মধ্যে থাকবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, কিন্তু তারা কারো লেজুড়ভিত্তিক হবে না।

অভিভাবকদের বলছি, আপনার ছোট্ট ছেলে-মেয়েকে কোনো অছাত্র, ছাত্রনেতা বা পাতিনেতা ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করছে কিনা, তাদের সংস্পর্শ আপনার বাচ্চার লেখাপড়ার ক্ষতি করছে কিনা অভিভাবক হিসেবে তা দেখার দায়িত্ব আপনারই।

লেখক: ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট, ওয়ার্কিং ফর ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস লন্ডন। মেম্বার, দি ন্যাশনাল অটিস্টিক সোসাইটি ইউনাটেড কিংডম।

এই বিভাগের আরও খবরঃ