website page counter প্রাথমিকের বেতন বৈষম্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আহ্বান - শিক্ষাবার্তা ডট কম

বুধবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিকের বেতন বৈষম্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আহ্বান

আব্দুস সবুর।।

অমিত সম্ভাবনাময়ী আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বপ্নদ্রষ্টা বাংলাদেশের স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্দু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষকদের পরম শ্রদ্ধার পাত্র। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সেই মহানায়ক। যিনি ১৯৭৩ সালে ৩৬,১৬৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের মাধ্যমে আমাদেরকে দিয়েছেন সরকারি কর্মচারীর পদমর্যাদা ও আত্মমর্যাদা। তারই ধারাবাহিকতায় জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা, মাদার অব হিউম্যানিটি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ২৬,১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছেন।

বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুন করেছেন। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতে এখনও বৈষম্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে সরকারি অন্যান্য বিভাগের কর্মচারীদের সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন স্কেলের ব্যাপক ব্যবধান রয়েছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে ডিপিএড কোর্স সম্পন্ন করে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১১তম গ্রেডে (১২,৫০০) এবং একজন সহকারি শিক্ষক ১৫তম গ্রেডে (৯,৭০০) টাকা বেতন পান। অথচ অন্যান্য সরকারি ডিপার্টমেন্টে এর চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের তুলনায় কয়েক গ্রেড উপরের স্কেলে বেতন ভোগ করে থাকেন। যেমন স্বাস্থ্য বিভাগের একজন সেবিকা, কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজার, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ক্যাটালগার, উচ্চমান সহকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চেয়ে কয়েক গ্রেড উপরের স্কেলে বেতন পেয়ে থাকেন।

শুধু অন্য বিভাগের সাথে না, নিজ ডিপার্টমেন্টেও প্রাথমিক শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারি শিক্ষকদের বেতন ও পদমর্যাদাগত বৈষম্য বিরাজমান রয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণের পরবর্তীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রাথমিক শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকের মাঝে বেতনের কোন ব্যবধান ছিল না। কিন্তু ২০০৬ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারি শিক্ষকদের বেতন গ্রেডের পার্থক্য হয় ২ গ্রেড এবং ২০১৪ সালে ৩ গ্রেডে পার্থক্য হয়। মূল বেতনের ব্যবধান হয় ১২০০ টাকা এবং ২০১৫ সালের ৮ম জাতীয় পেস্কেলে সে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৩০০ টাকা। অথচ ২০০৬ সালের পূর্বে প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারি শিক্ষকদের মূল বেতনের পার্থক্য ছিল মাত্র ১০০/- টাকা। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড (১২,৫০০) এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারি শিক্ষকগণ জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪তম গ্রেড (১০,২০০) টাকা পান। ১৬ বছর চাকুরীর পর একজন প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারি শিক্ষকের বেতনে ব্যবধান হবে ভাতা সহ প্রায় ২০,০০০ টাকা। বর্তমানে একজন প্রধান শিক্ষক যে স্কেলে চাকুরী শুরু করেন একজন সহকারি শিক্ষক ও একজন পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেই স্কেলেরও ১ গ্রেড নিচে চাকুরি শেষ করেন, যা সহকারি শিক্ষক ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের জন্য চরম বৈষম্য। আমরা প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক কেউই এই বৈষম্য চাই না। উল্লেখ্য যে, বর্তমান সরকারের বিগত নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আমরা এর দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।

সহকারি শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণ এবং প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড মর্যাদাসহ ১০ম গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা দীর্ঘদিন যাবৎ মন্ত্রণালয়সহ নানা দপ্তরে যোগাযোগ করে আসছি। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে বারবার দাবি বাস্তবায়নের আশ^াস দিলেও আজও তা আলোর মুখ দেখেনি। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রায় সকল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আজকের বেতন বৈষম্য নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা আশা করছি অতি দ্রুত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে সহকারি শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করা হবে।

আমাদের প্রত্যাশা, আপনাদের মাধ্যমে আমাদের বেতন বৈষম্য নিরসনের একদফা দাবি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি গোচর হবে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন হবে।

লেখক-মুখপাত্র, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ
ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি

এই বিভাগের আরও খবরঃ