website page counter আমিও মানুষ হব – এম.এইচ ইমন - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শুক্রবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আমিও মানুষ হব – এম.এইচ ইমন

আমিও মানুষ

এম এইচ ইমন
(সরকারি বাঙলা কলেজ)
একজন শিশু যখন জন্ম নেয়,তখনও সে জানে না দুর্নীতি কি? তারপরও জ্ঞানী ডাক্তারগণ তার পৃথিবীর শুভ আগমনকে দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে ফেলে।একজন ধৈর্যশীল মাকে ধোঁকা দিয়ে তার জীবনকে ফেলে দেয় হুমকির মুখে।
আমি বলছি না ডাক্তার খারাপ,শুধু বলব তার অর্থের লোভ খারাপ।

শিশু এবং মা দুজনের কম বেশি ঔষধ লাগে।ঔষধ কোম্পানি আর ফার্মেসি তারা অসাধু নয় কিন্তু খুবই বিচক্ষণ। কোম্পানি ঔষধের দাম ৩০%এর মতো বেশি রেখে ফার্মেসিতে দেয়,ফার্মেসীও ১৫-২০% ছাড়ে ঔষুধ বিক্রি করে।
ধরে নিন,আপনি একজন অসামর্থ্য লোক,যিনি দুর্ভাগ্যের জন্য নিজের সন্তান আর অর্ধাঙ্গিনীকে হারাতে পারেন।
দোষ তিন জনের একজনেরও না।কোম্পানি ফার্মেসীকে লাভের লোভ দেখিয়ে দাম বাড়িয়েছে আর দোকানদার বেশি বিক্রির জন্য ডিসকাউন্ট দিচ্ছে কিন্তু আমি আপনি মধ্য বা নিম্নবিত্ত।সবার পেট পূরণের ক্ষমতা আমাদের নেই।

প্রশ্ন হচ্ছে এত বেশি লাভ না করে কি সীমিত করা যায় না?
শিশু বাচ্চার খাবারের তালিকা কোম্পানি ও ডাক্তারের ওপর নির্ভরশীল। খাবারের দাম এক জায়গায় একেক রকম।সাধারণ দোকান থেকে কিনলে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০-২০টাকা কম আর সুপার শপ থেকে কিনলে মূল দামের ওপর ভ্যাট দেয়া লাগে।আবার খাবারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আশংকা সব সময় রয়ে যায়।

প্রশ্ন হল সাধারণ দোকানদার বা কোম্পানি কি সরকারকে ভ্যাট দেয় না? শুধুমাত্র কি সুপার শপের মালিকরাই ভ্যাট দেয়?
বাবার খুশি এখন আর খুশি নেই।সন্তান জন্ম না দিলেই তিনি আর তার স্ত্রী সাচ্ছন্দ্যে চলতে পারতেন।স্কুল নামক শিল্প কারখানায় নানান উপায়ে দুর্নীতি থেকে দূরে থেকে সুন্দর একটি ব্যবসা পরিচালনা করা যায়।স্কুলে যারা চাকরি করেন তাদেরও বাড়তি ইনকামের সুযোগ আছে।শুধুমাত্র বলতে হবে ‘সবার সামনে সব কিছু দেয়া যায় না,তারপর থেকে প্রতি মাসে একেকজন উপহার হিসেবে হাজার টাকা দেয়।’

সবাই বড়লোক হচ্ছে, কিন্তু গরীব রয়ে গেল আমার বাবা-মা।
সন্তান বড় হয়ে দূর দূরান্তে যাচ্ছে জ্ঞান আহরণের জন্য। পয়সার খরচ শহরে কম নয়।এক গ্লাস পানি খেয়ে ১০টাকা দিলে ফেরৎ পাওয়া যায় ৭টাকা।
পানির দাম ২টাকা,১টাকা ভাংতি নাই।

বাবা ছেলেকে টাকা দেয়।ছেলে বাসা ভাড়া সহ নানান কিছুর বিল পরিশোধের পর তার পকেটে আর টাকা থাকে না।বাবাকে বললে তিনি অসহায় হয়ে বলেন-‘এখন তো আমার কাছে আর নেই,কয়েকদিন পর দিব।’
বাবার সংসারেও খরচ আছে।সব বিষয়ে চিন্তা করতে করতে সে হয়ে যায় হার্টের রোগী। তারপরে শুরু হয় নতুন খরচ।
ছেলের মাথায় সংসারের হাল আর নিজের পেটের চিন্তা করতে যেয়ে ভবিষ্যত নির্মাণের সময়ে ধীরে ধীরে হ্রাস পায়,কারণ তার নিজের পেটে কিছু যে দেয়া লাগে।

শেষ পর্যন্ত আমরা হারিয়ে ফেলি দেশের প্রতিভা।
যারা আজ কোটিপতি, যারা আজ উচ্চ শ্রেণির পরিচয় নিয়ে বসবাস করেন,যারা আজ নিজেকে ধনী বলে আখ্যা দেন।আপনার সন্তানের জন্মের পর থেকে প্রতিদিনের খরচ যদি ৫০ হাজার টাকা হয় আপনার ইনকাম কত?
সর্বোচ্চ বেতন ৪লাখ ধরে নিলাম,৮দিন খরচ করে বাকি ২২ দিন কি খরচ করেন না?
আমার আপনার উচ্চ বিলাসিতা,লোভ,উপাধির অহংকারে আমার মতো হাজারো সন্তানের জীবন আজ কারখানার বিষাক্ত কালো পানির সাথে মিশে গেছে।
আমরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করি দেশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, দেশের মানুষের সেবা করার জন্য।
দেশের মানুষকে এমনভাবে সেবা করি তারা যেন জীবনে আর কোনদিন দাঁড়াতে না পারে।
তারা যদি দাঁড়ায় তাহলে আমি কেমনে কোটিপতি হব? আমার পকেটে কোটি টাকা থাকলে কি আর নোংরা বাংলাদেশে থাকতে হয়? সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত সুইস ব্যাংকে টাকা রেখে আমেরিকার কোন এক শহরে ডুপ্লেক্স বাড়ি কিনে উন্নত দেশের নাগরিক হয়ে যাব।

কারণ আমি তো রাজাকার,আমিই তো সে রাজাকারের বংশধর।
নিজের জায়গায় নিজে পরিষ্কার হোন।না হলে আপনার জন্মস্থানে আবার দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে।
১৯৪৩ সালের কথা কি ভুলে গেলেন?
অপরিষ্কার হাতের টাকা পরিষ্কার, কিন্তু পরিষ্কার হাতের টাকা কেন অপরিষ্কার হবে?

এই বিভাগের আরও খবরঃ