website page counter যে কারণে বুয়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করল ছাত্রলীগ - শিক্ষাবার্তা ডট কম

বুধবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যে কারণে বুয়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করল ছাত্রলীগ

ছুটি শেষ না করেই মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রবিবার সকালে ঢাকার বাসে উঠেছিলেন আবরার ফাহাদ। বিকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শের-ই-বাংলা হলে পৌঁছানোর পর মায়ের কাছে ফোন করে বলেন, ‘মা আমি নিরাপদে পৌঁছেছি। তুমি চিন্তা করো না।’ ছেলের কথা অনুযায়ী মা-ও নিশ্চিত হন যে তাঁর আদরের ধন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। কিন্তু রাত ৩ টার দিকে মায়ের মোবাইলে ফোন করে জানানো হয়, তাঁর আদরের ধনের লাশ হলের বারান্দার সামনে পড়ে আছে!

বুয়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করল ছাত্রলীগ

বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে (২১) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে ডেকে নিয়ে হলের অন্য একটি কক্ষে আটকে দীর্ঘসময় ধরে তাঁর ওপর নির্যাতন চালান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ভিডিও ফুটেজ দেখে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া খোদ বুয়েট শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

জানা গেছে, রবিবার রাত ৮ টার দিকে আবরার ফাহাদসহ দ্বিতীয় বর্ষের ৭-৮ জন শিক্ষার্থীকে শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠান তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৭-৮ জন নেতা। সেখানে তাদেরকে শিবির সন্দেহে পেটানো হয়। এক পর্যায়ে অন্যদের বের করে দেওয়া হলেও আবরারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এসময় তাকে ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে দীর্ঘক্ষণ বেধড়ক পেটানো হয়। এক পর্যায়ে আবরার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরে তারা লাশ ধরাধরি করে হলের নিচতলায় সিঁড়ির নিচে রেখে দেন।

ভিডিও ফুটেজে যা রয়েছে:এ ঘটনায় হলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ জব্দ করেছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, ছাত্রলীগের দুই নেতা আবরারকে দুই পাশ দিয়ে ধরে বারান্দা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পেছনে আরো দুই ছাত্রলীগ নেতা হেঁটে যাচ্ছেন। এর ৪/৫ সেকেন্ড পর তাদের পিছনে আরো ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে বের হতে দেখা যাচ্ছে। এই হত্যায় বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ পর্যন্ত পুলিশ ৯ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাউল ইসলাম জিওন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকারের নাম জানা গেছে।

বুয়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করল ছাত্রলীগ

নিহত আবরার ফাহাদ বুয়েটের তড়িত্ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তিনি শের-ই বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডে। আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে এ প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। গতকাল সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে শের-ই-বাংলা হলের ওই কক্ষ পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এটি যে হত্যাকান্ড সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে।’

এদিকে ফাহাদের মতো একজন মেধাবী ছাত্রকে নৃশংস কায়দায় হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল সকাল থেকেই ফুঁসে ওঠে বুয়েট, ঢাবিসহ বিভিন্ন বিশ্বদ্যািলয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সহপাঠী হত্যার বিচার চেয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি হল থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরেছে। মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে শ্লোগান দেন। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর সহপাঠীরা। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। সেখানে বক্তারা বলেন, ‘শুধু আবরারকে নয়, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশকে। আবরারের মতো আমরাও জানতে চাই কেন ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তি করা হলো? তাহলে আমাদেরও পিটিয়ে হত্যা করা হোক!’ তারা অবিলম্বে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

যে কারণে হত্যা: সংশ্লিষ্টরা জানান, মৃত্যুর আগে আবরার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমপ্রতি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত চুক্তির সমালোচনা করে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেই স্ট্যাটাস দেখে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে তাকে শিবির সমর্থক বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়।

ঘটনার সময় ২০১১ নম্বর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আশিকুল ইসলাম ওরফে বিটু। তিনি জানান, ‘রাত আটটার দিকে আবরার ফাহাদকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডাকা হয়। আমি মাঝে মাঝে ওই কক্ষে বন্ধুর কাছে যাই। গতকাল রাতে গিয়ে দেখতে পাই, সেখানে আবরার ফাহাদের ফেসবুক আইডি ও মেসেঞ্জার চেক করা হচ্ছে। রাত পৌনে নয়টার দিকে আমি কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসি। পরে সেখানে কী হয়েছে, আমি জানি না। নিজের কক্ষে গিয়ে পড়াশোনা ও আড্ডা দিয়ে রাত একটার দিকে ওই কক্ষে রেখে আসা নিজের ল্যাপটপ ও বই আনতে গেলে আবরারকে পড়ে থাকতে দেখি। তখন সেখানে আর কেউ ছিল না।’

বুয়েটের শের-ই-বাংলা হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, আবরারকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন।

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতির দায় স্বীকার: হত্যার সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার জামিউশ সানি। জড়িত যেই হোন না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে খন্দকার জামিউশ সানি বলেন, ‘রাতে খবর পাওয়ার পরই আমি সেখানে যাই। কয়েকজন তাকে ওইরুমে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে মারধর করা হয়েছে বলে শুনেছি। যারা মারধরে জড়িত তারা সবাই ছাত্রলীগের পোস্টেড নেতা।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন একটি ঘটনায় ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়িত থাকতে পারে, এটা খুবই ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ক্যান্টিনে পড়েছিল লাশ: ভোর সাড়ে পাঁচটার সময় শের-ই বাংলা হলে গিয়ে দেখা যায় হল ক্যান্টিনে আবরারের লাশ রাখা। আবরারের সহপাঠীদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও তাঁরা কিছু বলতে রাজি হননি। কিছুক্ষণ পর হলের সিসিটিভি ফুটেজ শিক্ষার্থীদের সামনে দেখানো হলেও রাত ২টা ৬ মিনিটের পর সিসিটিভি ফুটেজে কী রয়েছে, তা দেখানো হয়নি। যে কক্ষে (২০১১ নম্বর) আবরারকে পেটানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে আসা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হলের দারোয়ান মোহাম্মদ মোস্তফা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সিঁড়ির পাশের সিসিটিভি ফুটেজটি নষ্ট। কোনো আওয়াজ বা হইচই শুনিনি। এই অংশের সিসিটিভি কয়েক দিন থেকে এলোমেলো।’

ভোরে ঘটনাস্থলে আসেন নিহত আবরারের মামাতো ভাই একটি দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক আবু তালহা রাসেল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবরারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা একদমই সত্য নয়। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে। আওয়ামী লীগের পাঁচজন সমর্থক থাকলে তাঁর বাবা বরকতউল্লাহ তাদের একজন। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’

শরীরজুড়ে আঘাতে চিহ্ন:পুলিশ, চিকিত্সক ও নিহতের পরিবার বলছে, ফাহাদের গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শরীরের পেছনে, বাম হাতে ও কোমর থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত আঘাতের কালো দাগ ছিল। বুয়েটের চিকিত্সক মাশরুক এলাহী বলেন, ‘খবর পেয়ে তিনটার সময় ঘটনাস্থলে আসি। একতলা ও দোতলার মাঝামাঝি জায়গাতে আবরারকে পড়ে থাকতে দেখি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বুঝতে পারি ছেলেটি বেঁচে নেই।’ কী কারণে আবরারের মৃত্যু হয়েছে? জানতে চাইলে চিকিত্সক এলাহী বলেন, ‘আঘাতজনিত কারণে সে মারা গেছে। সেই আশঙ্কাই বেশি।’

ফাহাদের মামাতো ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ফাহাদের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। সে কুষ্টিয়ায় গিয়েছিল। গতকালই বিকেল পাঁচটায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় এসে হলে উঠে। তারপর মধ্যরাতে খবর পাই ভাই মারা গেছে।’

হল প্রভোস্ট মো. জাফর ইকবাল খান বলেন, ‘রাত পৌনে তিনটার দিকে খবর পাই এক শিক্ষার্থী হলের সামনে পড়ে আছে। কেন সে বাইরে গিয়েছিল, কী হয়েছিল, তা এখনো জানা যায়নি। তাত্ক্ষণিকভাবে বুয়েটের চিকিত্সক দিয়ে তাঁকে পরীক্ষা করা হয়। ওই চিকিত্সক জানান তিনি বেঁচে নেই। পরে পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ এসে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

চকবাজার থানার ওসি সোহরাব হোসেন জানান, রাত পৌনে ৩টার দিকে তারা খবর পান শের-ই বাংলা হলের বাইরে নিচতলায় ছেলেটা পড়ে আছে। তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে যান তারা। ছেলেটির পরনে ছিল ট্রাউজার ও শার্ট। আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঘাত কোনো অস্ত্রের নয়। কোনো কিছু দিয়ে বাড়ি দেওয়া হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রক্তক্ষরণে মৃত্যু: আবরারের ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সোহেল মাহমুদ জানান, বুয়েট ছাত্র ফাহাদের মৃতদেহ পুলিশ আমাদের কাছে নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তে আমরা তাঁর শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাই। আঘাতের কারণে ফাহাদের শরীরে এই দাগগুলো হয়। এসময় সাংবাদিকরা কী দিয়ে আঘাত করা হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফাহাদকে স্টাম্প, বাঁশ, লাঠির মতো ফাঁপা কিছু দিয়ে আঘাত করা হতে পারে। ফাহাদের হাতে, পায়ে এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি। এই ধরনের আঘাতে কারও মৃত্যু হতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁর শরীরে ‘এক্সেসিভ’ আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই ধরণের আঘাতে মারা যেতে পারে। ফাহাদের হাতে, পায়ে এবং পিঠে অনেক আঘাত করা হয়েছে। এর থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে সে মারা গেছে।

ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি : আবরার হত্যার ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সুপারিশসহ তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন, ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ এবং সংস্কৃতি সম্পাদক আসিফ তালুকদার। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বুয়েটের সামপ্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। ছাত্রলীগ কখনো এরূপ ঘটনা বা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।’

ক্যাম্পাসে নেই উপাচার্য : আবরার হত্যার ২৪ ঘন্টা পরও বুয়েট ক্যাম্পাসে আসেননি উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে উপাচার্যকে মোবাইলে কল দেন প্রাধ্যক্ষ। তবে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) কল রিসিভ করে উপাচার্য অসুস্থ বলে জানান। এজন্য তিনি ক্যাম্পাসে আসতে পারবেন না বলেও নিশ্চিত করেছেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

স্ট্যাটাসে যা লিখেছেন আবরার: ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে সম্প্রতি আবরার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘৪৭-এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। তত্কালীন সরকার ছয় মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্ত দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিল। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ ইন্ডিয়াকে সেই মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি (ভাগাভাগি) নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েক বছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চায় না, সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড় লাখ কিউসেক মিটার পানি দেব।’ ভারতকে গ্যাস দেওয়ার সমালোচনা করে বুয়েটের এই শিক্ষার্থী লেখেন, ‘কয়েক বছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তর ভারত কয়লা-পাথর রফতানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দেব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে, সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।’সুত্র ইত্তেফাক

এই বিভাগের আরও খবরঃ