website page counter "তরুণ শিক্ষকরাই পেশার ভবিষ্যৎঃ বাংলাদেশ প্রেক্ষিত। - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

“তরুণ শিক্ষকরাই পেশার ভবিষ্যৎঃ বাংলাদেশ প্রেক্ষিত।

মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম :

এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ তরুণ শিক্ষকরাই এই পেশার ভবিষ্যত’। এই প্রতিপাদ্যটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে যথার্থ হলেও বাংলাদেশর জন্য মোটৈও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারন বাংলাদেশের বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা বিদ্যমান। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় শুধুমাত্র এমপিওভুক্ত শিক্ষকতায় নিয়োজিত ৯৭ শতাংশ শিক্ষক। তাঁরা জাতীয় স্কেল ভূক্ত হলেও সরকারি সহায়তা বাঁ অনুদানে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। মূলত দেশে শিক্ষকতা পেশায় যাঁরা আসে তাঁরা একান্ত নিরুপায় হয়ে-ই আসেন। দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা ও যথার্থ সম্মান মর্যাদা নেই বললেই চলে। শিক্ষকরা নানাবিধ বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা না থাকার কারণেই মেধাবী তরুণরা শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নির্বাচন করতে চায় না। শিক্ষকতা মহান পেশা হলেও আর্থিক সচ্ছলতা ও মর্যাদার ক্ষেত্রে শিক্ষকরা অবমূল্যায়িত। তরুণরা পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষকতাকে শেষ পছন্দ হিসেবে বিবেচনায় রাখে।

মেধাবী তরুণরা পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা, পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা ও প্রমোশনের দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে থাকে। দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকদের নেই আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা, নেই পেশাগত নিরাপত্তা, নেই প্রমোশনের ব্যবস্থা, নেই পেনশন সুবিধা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, যে কোন সময়ে চাকরি হারানোর ভয়, নেই সামাজিক সম্মান মর্যাদা উল্লেখিত কারণে শিক্ষকতায় আগ্রহ দেখায় না মেধাবী তরুণরা।

বাংলাদেশে বিশৃঙ্খল ও ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষার গুণগত মান দিন দিন নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক শিক্ষার গুণগত মান বিবেচনায় নিম্নমুখী প্রবণতায় বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ,মন্ত্রী, এমপি ও অভিভাবকরা শিক্ষার মানোন্নয়নে জোরালো দাবি তুলেছেন। এমনকি কয়েক জন মন্ত্রী বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। ধারাবাহিক সরকারেরও নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষার মানোন্নয়নের অঙ্গীকার রয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন বলতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নকে বোঝায় না। দেশের শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হলে সর্বাধিক নজর দিতে হবে শিক্ষকদের আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা ও বঞ্চনা বৈষম্য দূরীকরণে। শিক্ষকদের পরিবর্তিত বিশ্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জ্ঞান অর্জন ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষিত করতে হবে। দেশের সামাজিক অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা নিরুপন করে পাঠ্যপুস্তক, পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রনয়ন করতে হবে। শিক্ষকদের চাকরি সরকারিকরণের মাধ্যমে তরুণ মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকর্ষণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরদিকে মেধাবীরা সরকারি চাকরিতে আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা ও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা থাকায় প্রবেশে অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছে। এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য- তরুণ শিক্ষকরাই এই পেশার ভবিষ্যত’ দেশের প্রেক্ষাপটে তা মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শুধুমাত্র লৌলিকতা সু-বিন্যাস্ত কথামালায় শিক্ষকদের সম্মান মর্যাদা দিলেই হবে না। বঞ্চনা বৈষম্য ও অভূক্ত উদরে থেকে আর যাই হোক শ্রেনী কক্ষে পাঠদান চলে না। শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা, বৈষম্য দূরীকরণ ও মর্যাদাশীল করতে সরকারকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

উপরোক্ত পরিসংখ্যানের আলোকে, বর্তমান সরকারের সাহসী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আগামী ‘মুজিব বর্ষে’ এমপিওভুক্ত শিক্ষা সরকারিকরণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিবেন, এই বিশ্বাস দেশের সর্বস্তরের মানুষের।

(” যদি কাউকে শ্রদ্ধার তালিকায় রাখতে চান, তাহলে শিক্ষকদের রাখুন,কারণ তারা সমাজের নায়ক”) কাওয়াসাকি

মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম

এই বিভাগের আরও খবরঃ