website page counter সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ২৬ হাজার ল্যাপটপ ক্রয় পদ্ধতির শুরুতেই বিতর্ক - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ২৬ হাজার ল্যাপটপ ক্রয় পদ্ধতির শুরুতেই বিতর্ক

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনে ২৬ হাজার ল্যাপটপসহ তথ্যপ্রযুক্তিসামগ্রীর ক্রয় পদ্ধতি নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এসব সামগ্রী কিনতে আগ্রহী।

এ লক্ষ্যে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগও করছে। এদিকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) কেনাকাটায় আগ্রহী বেসরকারি সরবরাহকারীরা। এ নিয়ে বেসরকারি সরবরাহকারীরা কয়েক দফা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে লিখিতও দিয়েছেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এর আগে বহুবার ওটিএমে ল্যাপটপ কেনা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়ার চিন্তা আছে। কেননা, কোনো সামগ্রীই আমাদের দেশে তৈরি হয় না। সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানই আমদানি করেই পণ্য সরবরাহ করে। তাছাড়া কেনাকাটায় সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন আছে। ফলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে কেনাকাটার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ হাজার ৫০০টি বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম চালু আছে। এবার চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি-৪) আওতায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের জন্য ২৬ হাজার ল্যাপটপ কেনা হচ্ছে। সঙ্গে থাকছে ২৬ হাজার সাউন্ড সিস্টেম ও ২৬ হাজার প্রজেক্টর। এজন্য ৩৩৮ কোটি টাকার সংস্থান আছে।

এ কেনাকাটার জন্য ৭ মার্চ উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। ২৪ মার্চ প্রি-বিড সভা হয়। এতে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। ১৯ এপ্রিল এ পদ্ধতিতে কেনাকাটা বাতিল করে সরাসরি পদ্ধতিতে কেনাকাটার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ও ডিপিই মহাপরিচালক ড. এএফএম মনজুর কাদির বলেন, এখন পর্যন্ত ওটিএম পদ্ধতিতে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে মন্ত্রণালয়।

বেসরকারি সরবরাহকারীদের দাবি, ওটিএম পদ্ধতির কেনাকাটায় অধিকতর স্বচ্ছতা থাকে। আন্তর্জাতিক কেনাকাটা হলে তাতে আরও বেশি স্বচ্ছতার পথ খোলা থাকে। কিন্তু ডিপিএমে তা উপেক্ষিত হওয়ারই শঙ্কা থাকে। তাছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হলেও পণ্যাদি সরবরাহ করবে ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস)। টেশিস প্রায় দেউলিয়া হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠান। তারা কতটা মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করতে পারবে তা নিয়ে গভীর সংশয় আছে। বরং এ প্রক্রিয়ায় লুটপাটের শঙ্কা আছে। তারা বলছেন, এর আগে টেশিস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী সরবরাহ করেছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে সেগুলো নিম্নমানের।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল হোসেন বলেন, ল্যাপটপ এবং অন্য সামগ্রী কেমন হবে এবং কোন প্রযুক্তির মডেল হবে সে বিষয়ে স্পেসিফিকেশন তৈরি করা হয়েছে। তা প্রতিমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। পরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছ জানতে চাওয়া হয়েছে যে, ওই স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারবে কিনা। তারা নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, সরবরাহ করা পণ্যের ৫ বছরের ওয়ারেন্টি থাকবে। সরবরাহ-পরবর্তী সার্ভিস দেয়ার জন্য উপজেলা পর্যায়ে সার্ভিসিং সেন্টার খোলা হবে। সবমিলিয়ে এবার সবচেয়ে ভালো অফার টেশিস থেকেই পাওয়া গেছে। টেশিস থেকে পণ্য ক্রয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তাদের সক্ষমতা মনিটরিংয়ের জন্য একটি টিম সব বিষয় পরিদর্শন করবে। এরপর উভয়ে বসে দরদাম ঠিক করা হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কেনাকাটার অর্থ সরকারি ট্রেজারির মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। এতে সরকারি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এখানে কানাকাড়িও ব্যক্তিগতভাবে কারও নেয়ার বা পাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। সুতরাং এভাবে লুটপাটের বায়বীয় কথা তুলে সরকারের কেনাকাটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সেটা বের করা দরকার।
সূত্রঃ যুগান্তর

এই বিভাগের আরও খবরঃ