website page counter আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং

মো. ওসমান গনি শুভ
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে প্রচুর সম্ভাবনা আছে। আজকের কিশোর সমাজ আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ এই কিশোরগুলোকে নিয়ে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা করে। কিন্তু সামপ্রতিক দেখা যাচ্ছে কিশোর বয়সী ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে। অপরাধমূলক কর্মকা-ের মধ্যে রয়েছে নেশা করা, চুরি করা, ছিনতাই করা, ডাকাতি করা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা, গ্যাং তৈরি করা, খুন করা, ধর্ষণ করা, জুয়া খেলা, কামাসক্ত হওয়া ইত্যাদি। খারাপ বন্ধু বান্ধবদের সাথে মিশে প্রথমে তারা মাদকের প্রতি আসক্ত হচ্ছে। পরবর্তীতে তারা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে সমাজের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

ইংরেজি মাধ্যমের কিশোররাও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে যেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়? তারা নিজেদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গ্রুপ তৈরি করে মারাত্মক বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। তারা বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে মেয়েদের ইভটিজিং করছে। দলবদ্ধ হয়ে তারা দিনের আলোয়ও ছিনতাইয়ের মতো নিকৃষ্ট কর্মকা- সংঘটিত করছে। তারা গ্যাং তৈরি করে বিভিন্ন বাহারি নাম দিচ্ছে যেমন- ডিসকো গ্রুপ, নাইন স্টার, রুট থ্রি, বাবলা গ্রুপ, টুয়েলভ স্টার, সুপার সিঙ্টিন, পাওয়ার হোল্ডার, ডেনজারাস এলিভেন, দুধর্ষ ৯, মিশন ভিশন, হরর গ্রুপ ইত্যাদি। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি রাজধানীর উত্তরায় নবম শ্রেণীর ছাত্র কিশোর আদনান কবির ডিসকো গ্রুপ কর্তৃক নিহত হয়। আদনান কবীর নিজেও নাইন স্টার গ্যাং এর সদস্য ছিলেন। পাল্টাপাল্টি গ্রুপিং এর কারণে তার মৃত্যু হয়। বরিশালের কিশোর গ্যাং এর হাতে খুন হয় ১৫ বছর বয়সী কিশোর হৃদয়। বিগত ১৮ই জানুয়ারি রাজধানীর তেঁজকুনি পাড়ায় কিশোর গ্যাং এর হাতে নিহত হয় ওয়ার্কশপকর্মী আব্দুল আজিজ। ১৫ই জানুয়ারি রূপনগরে এক স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে আহত করে একটি কিশোর গ্যাং। চলতি বছরের ১৪ই মে ভাসানটেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক শিশু ধর্ষণ হয় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের কাছে যা একটি অশনিসংকেত সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য। বিগত ১৫ই সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে এক কিশোরকে নতুন মডেলের গাড়ি কিনে না দেয়ায় সে তার বাবা ও মায়ের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মতো নিকৃষ্ট অপরাধ সংগঠিত করে।

২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী ৯ থেকে অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের কোন শিশু অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। বাংলাদেশে কিশোর সংশোধন কেন্দ্র আছে দুইটি। একটি গাজীপুরের টঙ্গীতে অন্যটি যশোরের পুলেরহাটে। পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা, পারিবারিক অনুশাসনহীনতা, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ না করা, ইন্টারনেটের অপব্যবহার, বিদেশি সাংস্কৃতির অনুপ্রবেশসহ ইত্যাদি নানা কারণে কিশোররা বিপথে ধাবিত হচ্ছে। শুধু তাই না বস্তিতে বসবাসকারী ভ্রাম্যমাণ কিশোর-কিশোরীরাও গ্যাং তৈরি করে ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি, চুরি ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়ছে।

অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছে, ‘পারিবারিক বন্ধন শিথিল, মা বাবার সঙ্গে সন্তানদের দূরত্ব তৈরি এবং খেলাধুলা থেকে বিরত থাকা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- কমে যাওয়া কিশোর অপরাধ সংগঠিত হওয়ার অন্যতম কারণ।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই কিশোর গ্যাংদের অপরাধমূলক কর্মকা-ে সর্বদাই বাঁধা দিয়ে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছে। কিশোর অপরাধ কমাতে খেলার মাঠ বৃদ্ধি করতে হবে, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের প্রতি কিশোরদের উৎসাহ প্রদান করতে হবে, অভিভাবকদের দায়িত্ব নিতে হবে, কিশোর-তরুণদের গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে যুক্ত করতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবরঃ