website page counter কলেজ সরকারিকরণে অসঙ্গতি ও কাজে দীর্ঘসূত্রিতা; পর্ব-২ - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কলেজ সরকারিকরণে অসঙ্গতি ও কাজে দীর্ঘসূত্রিতা; পর্ব-২

মো. শরীফ উদ্দিন।।

প্রথমেই প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও একটি করে কলেজ সরকারি করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। ইতোমধ্যে তিনি অক্সফোর্ড নেটওয়ার্ক অফ পিস নামক সংস্থার দেওয়া ‘মানবিক বিশ্বের প্রধান নেতা’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদপত্র খালিজ টাইমসের দেওয়া ‘প্রাচ্যের নতুন তারকা’ মিশরের রাষ্ট্রদূত মাহামুদ ইজ্জত কর্তৃক দেওয়া ‘কারিশম্যাটিক লিডার’ এবং ব্রিটিশ মিডিয়ার দেওয়া ‘মাদার অফ হিউম্যানিটি’ খেতাবসহ আরো অসংখ্য খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সুদূরপ্রসারী যতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেন সবগুলোর মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ।

তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ইতিপূর্বে বাংলাদেশ “মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল(MDGs) বা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা” এর ৮টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সবকটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে জাতিসংঘ ঘোষিত “সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল(SDGs) বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা” যা ২০১৬ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করার কথা এর ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ প্রায় অর্ধেক অর্জন করে নিয়েছে। SDGs এর ৪ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা হলো ‘মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ’।

যেকোনো একটি দেশকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে গেলে মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করেছেন বলেই গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং সাধারণ মানুষদের মধ্যে স্বল্প খরচে শহরের মতো উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে উপজেলাভিত্তিক স্কুল ও কলেজ সরকারিকরণের দিকে মনোনিবেশ করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও ছাত্রছাত্রী তথা আপামর জনসাধারণ সরকারিকরণের কোনো সুযোগ সুবিধাই পাচ্ছেনা। উপরন্ত তারা সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ছে।

সাধারণত অনলাইনে আবেদন করে ভর্তি হতে হয় কলেজগুলোতে। অনেক ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের দূরবর্তী কলেজ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা থাকে না। সরকারি কলেজ দেখে আবেদন করে যখন চান্স পায় তখন আসে কলেজে ভর্তি হতে। কিন্তু কলেজে আসার পর যখন দেখে তাদের বেতন দিতে হবে বেসরকারি নিয়মে তখন আকাশ ভেঙ্গে যেন মাথায় পড়ার মতো অবস্থা হয় তাদের! কিন্তু কলেজ পরিবর্তনের আর কোন সুযোগ থাকে না তখন। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কলেজের নিয়ম মেনেই তাদের ভর্তি হতে হয়। কেউ কেউ আবার ভর্তি না হয়ে লেখাপড়ার ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়। বিষয়টি খুবই অমানবিক এবং অনভিপ্রেত। সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে বেসরকারি নিয়মে বেতন ফি দিতে হবে কোন যুক্তিতে? তাছাড়া সরকারিকরণের পর অনেক কলেজের অধ্যক্ষ নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন। নুন আনতে যাদের পান্তা ফুরায় তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসের এই সামান্য উপার্জনের রাস্তা যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন ব্যাপারটি শুধু বেদনাদায়কই থাকেনা বরং হয় মর্মান্তিক।

সর্বপ্রথম ২০১৬ সালের জুন মাসে ১৯৯টি কলেজে নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এখানে সময় ব্যয় হয় প্রায় ২৬ মাস। পদ সৃজনের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে। এখানে ব্যয় হয় আরও ৭ মাস। মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র দ্বিতীয়বারের মতো দেখানোর কাজ শুরু হয় এ বছরের আগস্ট মাসে। এখানে ব্যয় হয় আরো ৫ মাস। এ পর্যন্ত সর্বমোট ব্যয় হয় ৩৮ মাস বা ৩ বছর ২ মাস। ২৪ অগাস্টের পর এ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭ দিনে মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছে মাত্র ১৫ টি কলেজ। এ হিসেবে প্রায় ৩০০ টি কলেজের কাজ শেষ করতে সময় ব্যয় হবে আরো প্রায় ৩৪০ দিন যা প্রায় একবছর।

মন্ত্রণালয়ের কাজ শেষ করার পরে আরো অনেক ধাপ অতিক্রম করতে হবে কলেজগুলোকে। মন্ত্রণালয়ের পর ফাইলগুলো যাবে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে। সেখানে পদ সৃষ্টির পর অর্থ বিভাগের ব্যবস্থাপনা, বাস্তবায়ন অনুবিভাগ এবং প্রশাসনিক উন্নয়ন সংস্থার সচিব কমিটির অনুমোদনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কর্মচারীদের যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে নিয়োগ প্রদান করবে। মেডিকেল টেস্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশনতো রয়েছেই। এ ধাপগুলো অতিক্রম করতে কত সময় লাগবে তা কারো জানা আছে কি?

সমন্বিত পদ সৃষ্টি করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সরকারের নির্দেশনা থাকলেও কাজে সেভাবে অগ্রগতি নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে কলেজগুলোকে সরকারিকরণের কাজে হাত দিয়েছিলেন সে উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। জনগণের মনে এর বিরূপ প্রভাবও পড়তে পারে। তাই এই বৃহৎ উন্নয়নমূলক কাজে যাতে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয় সরকারের উচিত এখনই এর লাগাম টানার। সরকারের সুনামের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ মহতী উদ্যোগকে বাস্তবায়নের জন্য এ কাজে আমলাতান্ত্রিক কোন জটিলতা রয়েছে কিনা অথবা এ কাজে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তাদের কাজে গাফলা আছে কিনা তা খুঁজে বের করে সমাধানের রাস্তা বের করতে হবে সরকারকে। সরকারের এ উন্নয়নমূলক কাজকে কেউ ব্যর্থ করতে চায় কি না তাও খুঁজে বের করা দরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে সরকারিকরণের এ কাজটিকে বেগবান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতীব জরুরী।

লেখক-প্রভাষক, বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ
সিলেট

এই বিভাগের আরও খবরঃ