website page counter বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এতো টালবাহানা কেনো? - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এতো টালবাহানা কেনো?

বিন-ই-আমিনঃঃ
বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন,পরিবর্ধন ও সংস্কার সাধন করেছেন। বিনামূল্যে বই বিতরণ,সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি প্রণয়ন,ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা খর্ব করে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ চালু করে শিক্ষাক্ষেত্রে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান( অধ্যক্ষ,সুপারিনটেনডেন্ট,প্রধানশিক্ষক ও তাদের সহকারী এবং কর্মচারী নিয়োগ ম্যানেজিং কমিটি বা গর্ভণিং বডির হাতে রেখে ঘুষ বাণিজ্যকে উৎসাহিত করেছেন। এখন অধ্যক্ষ পদে ২০ লক্ষ, প্রধান শিক্ষক পদে ১০-১৫ লক্ষ এবং অফিস সহকারী পদে ৫-৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগের খবর শোনা যায়। যারা সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন,তারা মিলেমিশে ডিজি ও বোর্ড প্রতিনিধিকে ম্যানেজ করে পছন্দসেই লোককে নিয়োগ দেন মোটা অংকের ডোনেশনের মাধ্যমে। সভাপতি- সম্পাদকের মনোপ্রুত না হলে নিয়োগ বাতিল হয় অজানা কারনে।

মহাপরিচালক অথবা সংশ্লিষ্ট বোর্ড প্রতিনিধি অনেকাংশেই অসহায় ভূমিকা পালন করেন। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতেও ত্রিশ থেকে পয়ত্রিশ লক্ষ টাকা খরচ করার ইতিহাসও আছে। এতো টাকা খরচ করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়ে কি লাভ? টাকার বিনিময়ে কমিটির সভাপতি/সদস্য হওয়া কি দূর্ণীতি নয়? যদি তাই হয়,তাহলে একজন দূর্ণীতিবাজ সভাপতি সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দূর্ণীতি রোধ করবেন না কি উৎসাহিত করবেন? সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টাকার বিনিময়ে কমিটিতে স্থান পাওয়ার ইতিহাস জানা নেই। কারন প্রাইমারি স্কুলগুলোতে কমিটির ক্ষমতা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার মতো নেই। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি। অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিটির কর্তৃত্ব কম থাকায় পরিচালনায় তেমন কোনো অঘটনের সংবাদ শোনা যায়নি।

অথচ মাদরাসা ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমিটির অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত সদস্য কর্তৃক উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষকদের শারীরিকভাবে অপমান,লাঞ্ছিত করার ইতিহাস অহরহ ঘটছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানকে কান ধরে ওঠবস করানো,সুপারিন্টেন্ডেন্ট বা মসজিদের ইমামকে মাথায় মানুষের মল ঢালার মতো ঘটনা ঘটছে। অসহায় শিক্ষকগন এসব নিরবে সহ্য করছেন। কারন সহ্য করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। কেননা কমিটির সভাপতি বা সদস্যরা সরকারি লোক। সরকার দলীয় লোকজন যা ইচ্ছে তাই করছে কেউ কিছু বলার সুযোগ নেই। কারন শিক্ষকরা অসহায়। এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এবং চলতেই থাকবে। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ যখন এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে চালু করছেন,তখন মেধাবীরা আগ্রহভরে শিক্ষকতায় আসছে। অথচ প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ নিয়োগে অসততা- দূর্ণীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে অদক্ষ ও অযোগ্য লোকদের প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে রসাতলে ঢেলে দিচ্ছে।

যেখানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কমিটির হাত থেকে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে চালু করে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন শিক্ষাবান্ধব বর্তমান সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাহসী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষকদের দীর্ঘদিন লালন করা মনের আশা পুরণ করেছেন। আবার দেরীতে হলেও ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী পুরণ করে তাদের সম্মানিত করেছেন,এ জন্য শিক্ষক সমাজ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। কিন্তু প্রশাসনিক পদে ও অফিস সহকারী নিয়োগের ক্ষমতা কমিটির হাতে রেখে অসততা ও দূর্ণীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো কারন আছে বলে মনে করিনা। বদলী পদ্ধতি না থাকায় এবং স্থানীয়ভাবে নিয়োগ পাওয়ায় বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক অনেক ক্ষমতার অধিকারী। স্কুলের আশেপাশের লোকজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলে কমিটির সহায়তায় অন্য শিক্ষকদের প্রতি অন্যায় আচরণ করেন অনেক জায়গায়। কমিটির সদস্যদের এতো বেশি ক্ষমতা যে,পান থেকে চুন খসলেই খবর আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো পরিচালনা পদ্ধতি ও শিক্ষা অফিসার বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা তার মনোনিত প্রতিনিধি কমিটির সদস্য হলে নিয়োগ সহ সবক্ষেত্রে স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতা আসবে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিস নিয়মিত তদারকি করলে শিক্ষকগন আরো আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করবে। কমিটির অর্ধশিক্ষিত বা অশিক্ষিত সদস্য কমপক্ষে স্নাতকপাস একজন শিক্ষকের কি তদারকি করবেন? মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম,ডিজিটাল কন্টেন্ট,সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি এসবের তদারকির জন্য কমিটির সদস্যদের কমপক্ষে ডিগ্রি পাস হওয়া প্রয়োজন। বাস্তবে শতকরা ১% শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা ডিগ্রি পাস আছে কিনা সন্দেহ আছে। সভাপতি হিসেবে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ডিগ্রিপাস লোক হলে বিএড পাস শিক্ষক দ্বারা স্যার সম্ভোধন মানা যায়। সরকারি কর্মকর্তাগন সাধারনতঃ এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্কুল পরিচালনায় কমিটির সদস্য হিসেবে তারা আসলে শিক্ষার মান অবশ্যই বাড়বে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কমিটিতে শিক্ষাঅনুরাগী হিসেবে পার্শ্ববর্তী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সদস্য হিসেবে মনোনিত করা হয়। আর মাধ্যমিক পর্যায়ে এমন লোকজন সদস্য হিসেবে কমিটিতে আসেন যারা নির্বাচনী পরীক্ষায় অল-সাবজেক্টে ফেল করা পরীক্ষার্থির পক্ষে সাফাই গেয়ে মিটিংয়ে গালি দেন অলসাবজেক্ট পড়ায় কোন হালায়? এই যদি হয় কমিটি বা জিবির সদস্যদের আচরন তাহলে শিক্ষকগনতো সেখানে অসহায়। আর কমিটির সদস্যদের দ্বারা শিক্ষকগন কি শিখবেন? অশিক্ষিত সদস্যরা প্রতিষ্ঠানের জন্য আশির্বাদ না অভিশাপ?

এই বিভাগের আরও খবরঃ