website page counter খানসামায় সেকায়েপ শিক্ষকের বিদায়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কান্নার ঢল - শিক্ষাবার্তা ডট কম

বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

খানসামায় সেকায়েপ শিক্ষকের বিদায়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কান্নার ঢল

মোঃ নুরনবী ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার হাসিমপুর আওকরা মসজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রদীপ রায় নামে এক সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ) এর ইংরেজি শিক্ষকের বিদায়ে ঐ স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আর্তনাদ ও কান্নার ঢল পড়েছে।

বিদায়ী শিক্ষক প্রদীপ রায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কান্না ও আর্তনাদের কয়েকটি ছবি ও ভিডিও তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন। যা বিভিন্ন গ্রুপে ও পেজে ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি তার পোস্টে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কাটানো বিশেষ বিশেষ মুহুর্ত গুলো তুলে ধরে বিদায়ের দিনের কথাগুলো তুলে ধরেন।

স্কুল স‚ত্রে জানা যায়, সেকায়েপ শিক্ষক প্রদীপ রায় ২০১৭ সালের ১ মার্চ হাসিমপুর আওকরা মসজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করে। কিন্তু ঐ বছররই ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে সেকায়েপ কর্তৃপক্ষের চাকুরী স্থায়ীকরণের কথা এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে পড়ে বিনা বেতনে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্লাশ চালিয়ে যান। কিন্তু শেষে ঐ শিক্ষকের চাকুরী স্থায়ীকরণ না হওয়ায় এবং তার ভবিষ্যৎ এর কথা বিবেচনা করে তাকে বিদায় জানাতে হয়েছে।

ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিকা, শাপলা, শাহিনা, তাইয্যেব, মুবীন, লাবীব, মুশফিকা সহ অনেকে জানান, প্রদীপ স্যার আমাদের এমন ভাবে ক্লাস নিতেন যা বাইরে আর প্রাইভেট পড়তে হত না। এমনকি পড়া দিতে না পারলে উনি টিফিনের সময় আমাদের ঐ পড়াটা বুঝিয়ে দিতেন। উনি সত্যিই আমাদের শিক্ষক নয় বন্ধুর মত ছিলেন।

সহকারী শিক্ষক আব্দুল মান্নান জানান, যেখানে আমরা এত দিন ধরে চাকুরী করেও সব শিক্ষার্থীর নাম, বাড়ি ও অভিভাবককে জানি না সেখানে প্রদীপ স্যার মাত্র এক বছরেই প্রতিষ্ঠানের ৩/৪ শত শিক্ষার্থীর নাম, বাড়ি ও অভিভাবকের সাথে পরিচয় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনি বন্ধুর মত মিশে মনযোগ সহকারে ক্লাশ নিয়ে থাকে। এরপর বিরতি সময় গুলোকে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করে থাকে। কোন ছাত্র-ছাত্রী যদি স্কুলে না আসে তাহলে তিনি নিজেই অভিভাবকদের ফোন দিয়ে থাকেন।

বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুবর্নার বাবা ওবাইদুল সহ কয়েকজন অভিভাবক জানান, স্যারকে হারানোর ব্যথায় তারা (শিক্ষার্থীরা) এতটা ব্যথিত- বাবা মা হয়ে আমরাও সে ব্যথায় শামিল হয়েছি। তিনি সর্বদাই আমাদের ছেলে-মেয়েদের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেছেন ও পরামর্শ প্রদান করে অল্পদিনেই নজির তৈরি করেছেন।

প্রধান শিক্ষক আনিছুল হক চৌধুরী জানান, উনি (প্রদীপ স্যার) ইংরেজিতে খুবই ভাল মানের একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি অল্প দিনেই আমাদের মন জয় করে নিয়েছেন। তাইতো তাঁর বিদায়ের দিনে শিক্ষকরা সহ ছাত্র-ছাত্রীরা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে নি। সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন। আমরা তাঁর সফলতা কামনা করি এবং আর আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি যতদ্রুত সম্ভব সেকায়েপ বর্তমান পরিস্থিতি সমাধান করে স্যারকে (প্রদীপ স্যার) যেন আমাদের মাঝে ফিরে দেয়।

এই বিভাগের আরও খবরঃ