website page counter তানোরের কৃষ্ণপুর মহিলা কলেজ নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে - শিক্ষাবার্তা ডট কম

রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ৬ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

তানোরের কৃষ্ণপুর মহিলা কলেজ নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে

সোহানুল হক পারভেজ,তানোর(রাজশাহী)।।
রাজশাহীর তানোরের কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির মেয়েদের শিক্ষাদানে ব্যাপক অবদান রেখে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে। যে কারণে এলাকার শিক্ষানুরাগী সচেতন মহল কলেজটিকে সরকারি করণের জোর দাবি করেছেন। জাতীয়করণ বা সরকারিকরণর্ ৃপক্ষ আর্থিক সহায়তা করে আসছে। এছাড়াও কলেজ হোষ্টেলে অবস্থানরত শিক্ষ চ শিক্ষা গ্রহণের পথ সুগম হয়েছে।

সুত্রে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা ও অভাবের কারণে যেসব মেয়েদের মেধা থাকা স্বত্বেও কলেজ চৌহদ্দিতে পা রাখা সম্ভব হয় না, তাদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজ। এখানে শিক্ষা ার্থীদের কাছ থেকে থাকা খাওয়ার জন্য কোনো প্রকার অর্থ গ্রহণ করা হয় না সম্পূর্ণ বিনা খরচে শিক্ষার্থীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে বিনা খরচে ছাত্রীদের থাকা-খাওয়া ও লেখা পড়ার করার সুযোগ করে দেওয়ায় প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অভাবী মেয়েদের দেয়া হয় বিনা বেতনে ও আবাশিক ছাত্রীদের থাকা-খাওয়া ফ্রি করা হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আতাউর রহমানের উদোগে শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন-ভাতার প্রাপ্য টাকা থেকে এসব খরচ চালানো হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স পাশ করা আতাউর রহমান কৃষি ও ব্যবসার সম্পৃক্ত থাকলেও শিক্ষার প্রতি আর্কষণ ছিলো করা হলে কলেজটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে আরো ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে। জানা গেছে, তানোরের কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের বড় সুবিধা হলো কলেজে অধ্যায়নরত দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের ফরম পূরুণ ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে কলেজ কতসহজাত। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির অভাবী ও হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েদের উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঘটনা তাকে কষ্ট দিতো ব্যথিত করতো। আর তখন থেকেই প্রত্যন্ত গ্রাম কৃষ্ণপুরে একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার চিন্তা তার মাথায় ভর করে।

আগ পিছ না ভেবেই আতাউর রহমান তানোর-মুন্ডুমালা রাস্তার ধারে নিজের তিন একর জমি ছেড়ে দিলেন একটা মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। শিক্ষানুরাগী আতাউর রহমান তার উপার্জিত সমুদয় অর্থ দিয়ে প্রায় ১২৫০ ফুট একটা হয়, নইতো বাবার সংসারেই বোঝা হয়ে থাকতে হয়। তিনি মনে করেন, সত্যিকারের নারী শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হলে এই পশ্চাৎপদ মেয়েদেরও উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিতে হবে। তাদের টিনশেড ঘর তৈরী করেন এবং ওই বছরই প্রতিষ্ঠা করেন কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা কলেজ ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিলেন নিজেই।

এর পর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। অধ্যক্ষ আতাউর রহমানের একক প্রচেষ্টা ও মেধাবী চিন্তা-চেতনার গুণে কলেজটি বরেন্দ্র অঞ্চলের মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের মডেল হিসেবে উন্নীত হয়েছে। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আতাউর রহমান জানান, প্রত্যন্ত গ্রমাঞ্চলের অধিকাংশ অভাবী ও হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েদের মেধা থাকা সত্তে¡ও কেবল অভাবের কারনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় না। হয় তাদের অকালে বিয়ের পিড়িতে বসতে চাই এমন একটি ব্যতিক্রমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে তারা বিনা পয়শায় থাকা খাওয়া ও লেখাপড়া করার সুযোগ পাবে।

এই চিন্তার ফসল এই কলেজ। তিনি আশা করেন কলেজটি সরকারি করা হলে মেয়েদের জন্য আরো সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে নারী শিক্ষায় তার কলেজ আরো অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবেন। তিনি বলেন, কলেজ পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি মাননীয় এমপি মহোদয় আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরীর কাছে থেকে তিনি অনেক সহযোগীতা পেয়ে আসছেন বলে তিনি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। #

এই বিভাগের আরও খবরঃ