website page counter মোরেলগঞ্জে নিয়ম বর্হিভূতভাবে শিক্ষক বদলীর অভিযোগ,বিদ্যালয়ে পাঠ কার্যক্রম ব্যাহত - শিক্ষাবার্তা ডট কম

শনিবার, ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৯ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মোরেলগঞ্জে নিয়ম বর্হিভূতভাবে শিক্ষক বদলীর অভিযোগ,বিদ্যালয়ে পাঠ কার্যক্রম ব্যাহত

মেহেদী হাসান লিপন, মোরেলগঞ্জ(বাগেরহাট)ঃ
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ম বর্হিভূত শিক্ষক বদলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এভাবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শিক্ষক বদলি করায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে পাঠ কার্যক্রম দারুনভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলী নির্দেশিকা Ñ২০১৯ অনুযায়ী যে সকল বিদ্যালয়ে ৪ জন বা তার কম সংখ্যক শিক্ষক আছেন সেসব বিদ্যালয় থেকে প্রতিস্থাপন না করে সাধারণভাবে শিক্ষক বদলী করা যাবে না। তা সত্তে¡ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশীষ কুমার নন্দী ১৩৩ নং ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষক থেকে সহকারী শিক্ষিকা মাহাফুজা আক্তারকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলী করেন। ২১৫ নং সন্ন্যাসী বরিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪জন শিক্ষক থেকে চম্পা রানী হালদারকে অন্যত্র বদলী করেন। এভাবে উপজেলার ১০টির অধিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিনি এভাবেই বদলী করেছেন বলে জানা গেছে। পাঠ কর্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের একাধিক প্রধান শিক্ষক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর শিক্ষকদের বদলী না করার আবেদনও করেছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বদলীকৃত শিক্ষকদের পুনরায় স্ব-কর্মস্থানে ফিরিয়ে আনতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো.কবির উদ্দিন আদেশ দিলেও গত দু’মাসে তা বাস্তবায়ন করেননি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার নন্দী।

২১৫ নং সন্ন্যাসী বরিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তফা বলেন, আমার বিদ্যালয়ে মাত্র ৪ জন শিক্ষক ছিল। সেখান থেকে একজন শিক্ষককে তার পছন্দের জায়গায় বদলী করা হয়েছে। নিয়ম বহির্ভূত বদলীর বিষয়টি আমি জেলা শিক্ষকা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানালেও কোন ফল পাইনি। ১৩৩ নং ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ এনামুল হক বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমার বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষককে বদলী করেছেন। বদলী করার সময়ে আমাকে বলেছেন আমার বিদ্যালয়ে আরেকজন শিক্ষককে দিবেন কিন্তু তিনি দেননি। ১৭১ নং পূর্ব আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার বলেন, আমার বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষক ছিল। সেখান থেকে মিতা হালদার নামে একজন সহকারী শিক্ষককে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। বর্তমানে মাত্র দুই জন শিক্ষকে বিদ্যালয় চালাতে খুব সমস্যা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার নন্দি বলেন, শিক্ষকদের নিয়মের মধ্যেই বদলী করা হয়েছে। তারপরও জেলা কর্মকর্তা মহোদয়ের নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কবির উদ্দিন বলেন, বদলীর বিষয়ে কোন কোন প্রকার অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। মোরেলগঞ্জে সহকারী শিক্ষকদের বদলীর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যার প্রেক্ষিতে ওইসব শিক্ষকদের পূর্বের বিদ্যালয়ের বদলী আদেশ বাতিল করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জাননো হয়েছে।#

এই বিভাগের আরও খবরঃ