অধিকার ও সত্যের পক্ষে

দুই পাশে স্কুলের ক্লাসরুম, মাঝখানে মহাসড়ক

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রংপুর মিঠাপুকুরে জায়গীর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হয়ে ক্লাসে যেতে হয়। বিদ্যালয়টির এক পাশে অফিস, মাল্টিমিডিয়া কক্ষ ও দশম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষ, অন্য পাশের বিদ্যালয় ভবনে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির কক্ষ এবং মাঝখান দিয়ে চলে গেছে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক। এভাবেই চলছে বিদ্যালয়টির নিত্যদিনের কার্যক্রম। উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে জায়গীর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে বিদ্যালয়টির অবস্থান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পশ্চিম পাশে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের কার্যালয়। পাশে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণি এবং দশম শ্রেণি কক্ষ। অন্য ৭/৮টি কক্ষে শিশু নিকেতনের ক্লাস চলছে। মহাসড়কের পূর্ব পাশে ইটের গাঁথুনী দিয়ে তৈরী দেয়ালের ওপর টিনসেডের বিশাল একটি ভবন। সেখানে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পাঠদান চলছে। অন্য একটি পৃথক কক্ষে সাধারণ শিক্ষকেরা বসেন। মনোরম পরিবেশে পাঠদান ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু ব্যত্যয় ঘটল দুপুরের দিকে। মহাসড়কের পূর্ব অংশের ভবনের কিছু শিক্ষার্থী রাস্তা পার হয়ে পশ্চিম দিকের ভবনে যাওয়ার জন্য মহাসড়কের ধারে অপেক্ষা করছিল। কারণ, পশ্চিম অংশের শ্রেণিকক্ষে তাদের ক্লাস আছে।

ব্যস্ততম মহাসড়ক দিয়ে অনবরত দ্রুতগামী যান চলাচলের কারণে রাস্তা পার হতে পারছিল না শিক্ষার্থীরা। ৮/১০ মিনিট পর রাস্তা ফাঁকা হলো এবং এ সুযোগে তারা মহাসড়ক পার হয়ে শ্রেণিকক্ষে চলে গেল। রাস্তা পারের জন্য অপেক্ষা করা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাওয়ছার, রিয়া, রিফাত, মোজাহিদ ও দীপা জানায়, ‘এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন রাস্তা পার হয়ে ক্লাসে যেতে হয়। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মহাসড়কের এই স্থানটিতে কোন গতিরোধক নেই।’ ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের ওপর ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জায়গীর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষকসহ প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪ জন শিক্ষক/কর্মচারী রয়েছেন। শুরুতে অস্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হলেও ২০০০ সালে নবম ও দশম শ্রেণি খোলা হয়। প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উপজেলায় শীর্ষ পাঁচে অবস্থান করে বিদ্যালয়টি। বর্তমানে ৬শ ৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছে। এসময় শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একমত পোষণ করেন প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন।

বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও লতিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী মন্ডল বলেন, প্রতিবছর এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় খুব ভাল ফলাফল হয়। কিন্তু অবকাঠামোগত নানা সমস্যা রয়েছে। ফুট ওভারব্রীজ নির্মাণের বিষয়টি এমপি মহোদয়কে জানানো হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহা. মামুন অর-রশীদ বলেন, আদর্শ বিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষা বার্তা-আ.আ.হ/মৃধা

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.