অধিকার ও সত্যের পক্ষে

দুর্নীতিমুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষা চাই

 নিজস্ব প্রতিবেদক ||

টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের ঊষালগ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ লক্ষ্যে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা জরুরি। তিনি সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষক জাতি গড়ার কারিগর। প্রাথমিক শিক্ষা সব শিক্ষার ভিত্তি।

শিক্ষার ভিত মজবুত করার লক্ষ্যে সর্বাগ্রে প্রাথমিক শিক্ষার সব ধরনের দুর্নীতি দূর করা প্রয়োজন। আগামী প্রজন্ম সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক এ চাওয়া সবার। শিক্ষায় অবহেলা জাতির মারাত্মক ক্ষতি করে। এ ক্ষতি জাতিকে বিকলাঙ্গ করে তোলে। অর্থের দুর্নীতি কিছু সময় পর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কিন্তু শিক্ষায় দুর্নীতি আগামী প্রজন্মকে দুর্বল করে ফেলে। এ দুর্বলতা জাতিকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়।

জাতিকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দুর্নীতিমুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি দেশ ও জাতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতি না থাকলে শিক্ষার ক্ষতি থেকে জাতি রেহাই পাবে না। অভিভাবক তার সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। তাদের লেখাপড়ার বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে হবে। শিক্ষককে সময়মতো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার প্রতি যত্ন নিতে হবে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে এসব বিষয়ে তদারক করে ব্যবস্থা নিতে হবে বা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে সমস্যা তথা সার্বিক ঘাটতির বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন এবং সমস্যা সমাধানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাবেন। এভাবে বড় ধরনের সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

বিদ্যালয়ে সবার উপস্থিতি একরকম নয়। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত বলতে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। শিক্ষার্থীর সমস্যা দূরীকরণে অভিভাবক, শিক্ষক, কর্মকর্তা, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীসহ সবাইকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাহলে শিক্ষায় অবহেলা নামক ঘাটতি থাকবে না।

শিক্ষা সমস্যার সমাধানে সময়ক্ষেপণ ও অবহেলা করাও দুর্নীতির শামিল। শিক্ষার্থীদের প্রতি অবহেলার দায়ে শাস্তির বিধান থাকা প্রয়োজন। অল্পকিছু শিক্ষক তাদের কাজে ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীর তথা আগামী প্রজন্মের ক্ষতি ডেকে আনে। কিছু শিক্ষক নেতা বছরের পর বছর শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত করে শিক্ষক সমাজকে কলঙ্কিত করে আসছেন।

এই শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তির পরিবর্তে পৃষ্ঠপোষকতা দেখে তৃণমূলের নেতাসহ শিক্ষকদের মাঝে ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপজেলা, জেলা, শিক্ষক কর্মকর্তার পৃষ্ঠপোষকতাও বিদ্যমান। শিক্ষকদের স্কুলফাঁকি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে।

ফাঁকিবাজ শিক্ষক, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যেখানে দুর্নীতির উৎস নেই, সেখানে বদলি করা প্রয়োজন অথবা বাধ্যতামূলক অবসরসহ বিধি মোতাবেক শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি দুর্নীতির উৎস বন্ধ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষাকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে সময়ক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের তথা শিক্ষার সমস্যা নিরসন করতে হবে। অহেতুক শিক্ষক সমাজের ওপর সব দায়ভার না চাপিয়ে সংশ্লিষ্টদের দায় নিয়েও ভাবতে হবে।

২৯ জানুয়ারির প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে সুশৃঙ্খল ও সময়নিষ্ঠ হওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। এ আন্তরিকতা যেন হারিয়ে না যায়। সবসময় বহাল থাকে। দুর্নীতিমুক্ত মানসম্মত শিক্ষা হোক সবার অঙ্গীকার।

মো. সিদ্দিকুর রহমান : আহ্বায়ক, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষক ও গবেষণা পরিষদ এবং প্রাথমিক শিক্ষক অধিকার ও সুরক্ষা ফোরাম

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.