অধিকার ও সত্যের পক্ষে

পাবলিক পরীক্ষা এবং বয়সের ভুল ভাবনা

 শিক্ষাবার্তা ডেস্ক ||

আজ শনিবার হইতে সারাদেশে শুরু হইতেছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এইবার পরীক্ষায় যাহাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়, সেই ব্যাপারে বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইয়াছে। পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা-কক্ষে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করিবার নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। ইহার পর পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএস-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের নিকট প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানাইয়া দেওয়া হইবে। আশা করি, এবারের এসএসসি পরীক্ষা সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত হইবে। এই ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কাম্য। বিশেষ করিয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব সম্পর্কে সকলকেই সজাগ ও সতর্ক থাকিতে হইবে। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমাদের এই ধরনের ভয়াবহ দুর্নাম হইতে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে মুক্ত রাখিতে হইবে। এইবার এই স্তরে পরীক্ষা দিতেছেন ১৭ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৩৭ জন শিক্ষার্থী। আমরা তাহাদের সাফল্য কামনা করি।

সংক্ষিপ্ত শব্দ এসএসসি-এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হইল সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট। একসময় ইহাকে বলা হইত ম্যাট্রিক পরীক্ষা। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে এই স্তরের পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা এই পাবলিক পরীক্ষা তাহার স্বীকৃত শিক্ষা জীবনের ভিত্তিমূল। যদিও সামপ্রতিককালে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) নামে দুইটি পরীক্ষার প্রচলন করা হইয়াছে, তবু এসএসসি পরীক্ষার তাত্পর্য কমে নাই মোটেও। তবে আজ একটি বিষয়ের প্রতি আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করি, তাহা হইল, এসএসসি পরীক্ষায় বসিবার সময় প্রায় সকল শিক্ষার্থীর বয়স ১৬ হইতে হইবে কেন? একসময় ম্যাট্রিক বা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ন্যূনতম বয়স ছিল ১৪ বত্সর। কিন্তু এইভাবে বয়স নির্ধারণ কি জরুরি? বিদেশে কি ইহার চাইতেও কম বয়সে এই স্তরের পরীক্ষা পাসের নজির নাই? এমনকি কম বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রি গ্রহণেরও বহু দৃষ্টান্ত আছে। বিষয়টি আসলে মেধার ওপর নির্ভরশীল, বয়সের ওপর নহে।

যেহেতু এসএসসি পরীক্ষা বত্সরের শুরুতে তথা জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়, তাই দেখা যায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্মসনদে জন্মমাস এই তিন মাসের যে কোনো একটি হইয়া থাকে। আমাদের কিছু ভুল ভাবনার কারণে একজন শিশু শিক্ষার্থীর জীবন শুরু হইতেছে মিথ্যার ওপর ভর করিয়া, যাহা কিছুতেই কাম্য নহে। একই কারণে অভিভাবকগণ তাহাদের শিশুদের একাধিকবার জন্মসনদ গ্রহণ করিতেছেন। এমনকি এইজন্য তাহারা শহরে থাকিলেও গ্রামে গিয়া মিথ্যা জন্মসনদ গ্রহণ করিতেছেন। এইরূপ জটিলতা এড়াইতে শিক্ষার্থীদের যেমন নির্ভুল জন্মসনদকে (বিশেষত মেডিক্যালের সার্টিফিকেটকে) গুরুত্ব দিতে হইবে, তেমনি শিক্ষা বাণিজ্যের অংশ হিসাবে গৃহীত মাত্রাতিরিক্ত বইয়ের বোঝা কমাইতে হইবে। কেননা অভিভাবকগণ মনে করেন যে, তাহাদের ছেলে-মেয়েদের বড় করিয়া স্কুলে ভর্তি না করিলে তাহারা স্কুলের পড়াশুনার চাপ সহ্য করিতে পারিবে না। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভাবিয়া দেখিতে পারে

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.