অধিকার ও সত্যের পক্ষে

নারী নির্যাতনের শেষ কোথায়?

 রুমান হাফিজ ||

নারী নির্যাতন আজ আমাদের সমাজের নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র। ঘরে কিংবা বাইরে সব জায়গাতেই প্রতিনিয়ত বখাটেদের বেপরোয়া উত্পাতের শিকার হতে হচ্ছে নারীকে। ইদানীং এর মাত্রাটা আরো বহুগুণ বেড়েছে। তুচ্ছ কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করেই গুম, খুন, নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ করতেও পিছপা হচ্ছে না সমাজের মানুষ নামধারী কিছু নরপশু।

অপরাধ প্রবণতা যেখানে মাত্রাহীন বেড়ে যায় সেখানে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন কতটুকুইবা সম্ভব! তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে দিনদিন। এতে করে সমাজের সচেতন নাগরিকেরা শুধু উদ্বিগ্নই নন, রীতিমতো শঙ্কিত।

আমাদের দেশে নারীরা আজ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। লজ্জায় এসব ঘটনা কেউ লুকিয়ে রাখছে, আবার কেউ মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে করছে আত্মহত্যা। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে হচ্ছে ধর্ষণের শিকার।

কেউবা তাদের পৈশাচিক হামলায় হারাচ্ছে প্রাণ। বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রেও ঘটছে নানা নির্যাতন। স্বামীর নির্যাতনে নিরুপায় হয়ে করতে হচ্ছে সম্পর্কচ্ছেদ। তবুও রেহাই নেই, প্রতিশোধ নিতেই ফের আক্রমণ। সামান্য কতগুলো টাকার লোভে প্রিয়তমা স্ত্রীকে হত্যা পর্যন্ত করতেও দ্বিধাবোধ করছে না আমাদের দেশের কিছু হিংস্র মানবেরা।

যৌতুকের ভয়াবহ রূপ আমাদের সমাজকে প্রবলভাবে গ্রাস করছে। যৌতুক সামাজিক ব্যাধি। আর এ ব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত সমাজের যে কত নারী নির্যাতনের জঘন্যতম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটাচ্ছে, তার হিসাব নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজন্মকে বিচারহীনতার এ সংস্কৃতি থেকে বের করে না আনলে এ ধরনের পৈশাচিক ঘটনাগুলো বারবার ঘটতেই থাকবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে নির্যাতিত নারী ও কন্যাশিশুর সংখ্যা এর আগের বছরের তুলনায় কমলেও এর হার উদ্বেগজনক।

গত বছর ৩ হাজার ৯১৮ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতিত হয়েছে যেখানে ৯৪২টিই ধর্ষণ। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার ১৮২ জন আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে। তথ্যমতে, বিদায়ী বছরে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ১৪৫টি। পাচার করা হয়েছে ৪১ নারী ও শিশুকে যাদের মধ্যে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে ১৫ জনকে।

২০১৭ সালে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ১৪৩টি। নারী ও শিশু পাচার হয়েছে ৯৫ জন। এর মধ্যে ৬০ জনকে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে।

এসব নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার প্রক্রিয়া বিলম্ব হওয়াতে মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন শুধু বেড়েই চলছে। যার শিকার হচ্ছে তনু, মিতু, আফসানা, খাদিজা, পারুলীসহ তাদের মতো নাম না জানা আরো কত নারী! সামাজিক এসব অবক্ষয়ের অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার অভাব।

যার ফলে লোপ পাচ্ছে মানবিক মূল্যবোধ। এ ক্ষেত্রে পরিবার তথা অভিভাবকদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। নারী নির্যাতনের ভয়াবহ এ ব্যাধি থেকে সমাজ তথা দেশকে বাঁচাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।

এসব বখাটেকে প্রতিরোধ করতে আইনের কঠোর ও দ্রুত প্রয়োগের মাধ্যমে বিপজ্জনক ও সমাজবিনাশী ওই পরিস্থিতি থেকে নারীরা যেমন মুক্তি পাবে, তেমনি রক্ষা পাবে সমাজ ও রাষ্ট্র।

লেখক:শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.