অধিকার ও সত্যের পক্ষে

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের বিসিএস হয়েছে গেজেট হয়নি, ভেঙেছে বিয়ে!

 আরাফাত আবদুল্লাহ ॥

যে বাসায় পড়াই সেই আন্টি তার ছেলের গল্পটা বলছেন এভাবে … ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ থেকে পড়াশোনা করেছে তার ছেলে। ৩০তম বিসিএসে টিকেছে। এখন শুধু বাকি ভ্যারিফিকেশন। অর্থাৎ গেজেটে নাম উঠাটাই বাকি। মিনিমাম ৬/৭ মাসের ব্যাপার।

তো এই ক্যাডার ছেলের বিয়ের জন্য মোটামুটি একটা সম্বন্ধ তৈরি। কোন এক কারণে গেজেটে সেই ছেলের নাম আসেনি। এরপরের ঘটনা নাটকের মতো। পাত্রী পক্ষ একরকম অভদ্রতা করেই বিয়েটা ভেঙে দিয়ে চলে গেল।

এই যে এতোদিন সুন্দর সুন্দর করে কথা বলতো, তিন বেলা ফোন দিয়ে খবর নিতো , জাস্ট একটা গেজেটে নাম না আসার কারণে পুরো বিষয়টা দিন রাতের মতো বদলে গেল।

আন্টি এখনো আফসোস করে বলেন, ছেলে আমার বেসরকানি ব্যাংকে চাকরি করে। কিন্তু ছেলের সেই কষ্টটা সেদিন দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছিলাম। কারো সাথে কথা বলতো না। পরের বিসিএসেও আর ট্রাই করেনি। সারাক্ষণ মন মরা হয়ে থাকতো। এখন তার ছেলে বিয়ে করেছে। ভালো বেতন পায়। কিন্তু আগের সেই উচ্ছলতা আর নেই। একটা সামান্য ঘটনা জীবনকে শেষ করে দিয়ে চলে গেল।

আপনার আশেপাশে যতোগুলো হাসিমুখ আছে সবগুলো একটা একটা করে হারিয়ে যাবে যদি তারা বুঝতে পারে আপনি কোন কাজের না। আপনি তাদেরকে কিছু দিতে পারবেন না।

মানুষের সাথে একটা কথা বলার জন্য আজকাল ভালো মানের সিভি লাগে। নতুবা সে আপনাকে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখবে। ছুঁয়ে দেখা তো দূরের কথা। ফিরেও দেখবে না। বিপর্যয় একদিনে আসে না। কিন্তু যখন আসে তখন সব কিছু শেষ করে দিতেই আসে। জীবনে কারো কাছে নত হন নাই? ঠিক আছে আপনার এই ইগো মাটির সাথে মিশে যেতে এক সেকেন্ড লাগবে।

আপনার যে বন্ধু সেকেন্ড ক্লাস পেয়েছে তার নিজের বিজনেস আছে। আপনি সিভি নিয়ে তার পেছনে দৌড়াবেন। একমাত্র কারণ আপনি ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে কিছুই ছিড়তে পারেননি। তখন দেখবেন কিভাবে নত হতে হয়।

অপমান করলে গায়ে লাগে ব্রো? পাবলিক ভার্সিটি বলে অনেক ভাব আপনার? কিন্তু ন্যাশনালে পাশ করা ছেলেটাতো ওই থানার টিএনও। এখন কী করবেন? চুলের কাট নিয়ে বাহাদুরি করছেন ব্রো? মাথায় একটা চুলও নাই এই টাইপের একটা টাকলা ছেলে আপনার গফকে বিয়ে করে নিয়ে গেছে। আপনার গফ এতোদিন আপনার স্টাইলের প্রশংসা করতো। আর এখন প্রশংসা করে সেই টাকলা জামাইয়ের।

জীবনে তাই কারো কাছে নত হওয়ার আগেই ঠিক হয়ে যান। কম সিজিপিএ থাকলে সেটা বাড়িয়ে নেন। সিভি লিখতে না জানলে সেটা শিখে নেন। চাকরির জন্য বন্ধুর দ্বারস্থ হওয়ার আগেই একটা ভালো চাকরি বাগিয়ে নেন।

নিজেকে অন্যের জীবনে জাজমেন্টের আইটেম বানাবেন না। আপনাকে জাজ করার অধিকার কারো নেই, যদি না আপনি নিজে থেকে সেই দুর্বলতা কাউকে দেখান। কারো সাথে প্রোফাইল মেলানোর চেষ্টা করবেন না। সবাই যেন আপনার সাথে প্রোফাইল মেলানোর চেষ্টা করে। আপনাকে জাজ করার আগেই সবাই যেন আপনার মতো হতে চেষ্টা করে।

আল্লাহ আপনাকে বেস্ট হিসেবে বানাননি। আপনাকে বানিয়েছেন বেটার হিসেবে যেন আপনি বেস্ট হতে পারেন।

লেখক :
আরাফাত আবদুল্লাহ (মধ্যরাতের অশ্বারোহী)
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষা বার্তা-আ.আ.হ/মৃধা

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.